দাবি আদায়ে কুমিল্লা সিটির প্রধান নির্বাহীকে অবরুদ্ধ, কার্যালয়ে তালা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগ, বেতন বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ীকরণ, উৎসব ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কোনো কর্মী মারা গেলে নূন্যতম পাঁচ লাখ টাকা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) মাস্টার রোল (এমআর) কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন।

বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুর থেকে আন্দোলনরত কর্মীরা একজোট হয়ে এই বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাইফ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন না। তবে দাবি আদায়ের জন্য প্রধান র্নিবাহী (যুগ্ম সচিব) মো. ছামছুল আলমকে অবরুদ্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় কর্মীদের। একপর্যায়ে তারা প্রধান নির্বাহীর কক্ষসহ নগর ভবনের প্রবেশ ও বাইরের পথে তালা ঝুলিয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন।

এদিন সিটি কর্পোরেশনের অফিস সহকারী মাহাবুবুর রহমানকে লাঞ্চিত করেন আন্দোলনকারীরা। মাহাবুবুর প্রধান নির্বাহীর কক্ষে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনকারীরা কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি বাধা দিয়েছিলেন। এতে উত্তেজিত কর্মীরা তাকে লাঞ্চিত করেন।

আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, দৈনিক ৩৫০ টাকা হাজিরা ভিত্তিতে তারা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই টাকা দিয়ে কিছুই করতে হয় না তাদের। তাছাড়া মাসের ৩০ দিন তাদের কাজ থাকে না, সেক্ষেত্রে মাসিক বেতন আরও কম হয়। অনেকে ছয় হাজার টাকা বেতন পান। এ টাকায় তাদের সংসার চলে না।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মান্নান মিয়া জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর চার নম্বর ওয়ার্ড কাপ্তান বাজার এলাকায় কাজ করেন। সকাল ছয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করেন। পুরো মাস কাজ করে তিনি ৬ হাজার ৩০০ টাকা বেতন পান।

ময়লার গাড়িচালক মো. হানিফ মিয়া বলেন, কোন বোনাস নাই, দৈনিক ৩৫০ টাকা মজুরিতে ১০ হাজার ৫০০ টাকা হারে বেতন পাই। আবার যেদিন কাজ নাই, সেদিনের বেতন নাই। কোন ছুটি নাই, ভাতা নাই। দীর্ঘদিন কাজ করছি, চাকরি স্থায়ীকরণ নাই।

ঝাড়ুদার ফাতেমা বেগম জানান, তিনিও সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতন পান, এ টাকায় তার সংসার চলে না।

জানা গেছে, তিন বছর আগে এমআর কর্মচারীদের বেতন দৈনিক ৩০০ টাকা হাজিরাভিত্তিক ছিল। সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু শেষ কর্মদিবসে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩৫০ করে যান। এরপর থেকে তারা বেতন বাড়ানোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন।

বর্তমান প্রধান নির্বাহী যোগদান করার পর তারা বিভিন্ন সময়ে অসংখ্যবার দাবি আদায়ের জন্য আবেদন করেছেন। প্রধান নির্বাহী তাদের আশ্বাস দিলেও কোনো দাবি পূরণ করতে পারেননি। তারা বলছেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাদের, সেজন্য আন্দোলন শুরু করেছেন। দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি চলবে। আন্দোলন আরো কঠোর হবে, পুরো সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় অচল করে দেয়া হবে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

পরে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী (যুগ্ম-সচিব) মো. ছামছুল আলম বলেন, তাদের দাবি অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। বেতন বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসকের সাথে আলোচনাও হয়েছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাইফউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত