তিস্তাপাড়ের মানুষের পাশে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৫ এএম

ফেনীর ভয়াবহ বন্যার পর আকস্মিক প্লাবনে ডুবে যায় উত্তরবঙ্গের অনেক এলাকা। ফেনীতে অনেক মানুষ ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলেন। শোবিজ অনেক তারকাও ছিলেন সক্রিয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গে শোবিজ অঙ্গনের অনেক কম মানুষের তৎপরতা চোখে পড়ে। এই অঙ্গনের যে কজন মানুষ উত্তরবঙ্গে ছুটে যান তাদের মধ্যে একজন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক প্রসেঞ্জিত মহাজন।

তিস্তাপাড়ের বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেন তিনি। এর আগে ফেনীর বন্যাতেও ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। চালিয়েছিলেন ত্রাণ কার্যক্রম। এ বিষয়ে প্রসেঞ্জিত মহাজন বলেন, ‘ফেনীর ভয়াবহ বন্যায় একমাসের মতো ভাই বন্ধু সবার সহযোগিতা নিয়ে খাবার ও ত্রাণ, উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছি। চিকিৎসাসেবা দিয়েছি বন্যার্তদের। শেষবার শীতবস্ত্র নিয়ে গিয়েছি, কেননা তাদের চাহিদা ছিল শীতবস্ত্র; কারণ সামনে শীত আর বন্যায় সবকিছু হারিয়েছেন তারা। বন্যাকবলিত ওইসব এলাকায় এবার শীত হবে ভয়াবহ কারণ তাদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে, থাকার জায়গা নেই। তাই শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

উত্তরবঙ্গের বন্যায় ছুটে গিয়েছিলেন জানিয়ে বলেন, ‘এবার উত্তরবঙ্গের বন্যায় দেখলাম আমাদের ঢাকা বা এই অঞ্চল থেকে মানুষের তৎপরতা কম। আমার হাতে ফান্ডও ছিল না। সামনে পূজা, পূজার যে বাজেট ছিল সেটা নিয়ে যে কটা পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারি, সঙ্গে আরও কজন ভাই-বন্ধুর সহযোগিতা নিয়ে রওনা দিই। অন্তত পঞ্চাশ পরিবারকে সহযোগিতা করেছি। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলুসহ মোটামুটি দুই তিনদিন চলবে এমন একটা প্যাকেজ করে নিয়ে যাই। তিস্তা নদীর আশপাশের যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি।’

তিস্তাপাড়ের বন্যাকবলিত মানুষের কথা বলতে গিয়ে প্রসেঞ্জিত বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের এইসব এলাকায় গিয়ে আমার দর্শন পাল্টে গিয়েছে। এরা এত সহজ-সরল, নিজেদের ঘরে কিছুই নেই, তাও একবেলা খেতে হবে তাদের বাড়িতে। এইসব এলাকার মানুষদের এখনো অনেক সহযোগিতা প্রয়োজন। সামনে শীত, তাদের শীতবস্ত্রও দরকার।’

মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি নিজেই একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি করেছেন। এই সংগঠনের নাম ‘মানুষ’। নিজের গড়া সংগঠনের মাধ্যমে যে কোনো দুর্যোগে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলে জানালেন এই তরুণ সংগীতশিল্পী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত