ঢাবির সূর্যসেন হলে ‘জুলাই বিপ্লব চত্বর’ নির্মাণ  

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে নির্মাণ করা হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব চত্বর’। হলটির লেকপাড়ের পাশে ছায়া সুনিবিড় স্থানে সদ্যনির্মিত বসার জায়গাটিকেই ‘জুলাই বিপ্লব চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার এই চত্বরের নামফলক বসানো হয়। এটি নির্মাণে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানান হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন ভূইয়া। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে জুলাই অভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটির নামও নির্ধারণ করেছেন ছাত্ররা।

চত্বরটি নির্মাণের প্রেক্ষাপট জানতে চাইলে হলের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোখলেছুর রহমান জাবির বলেন, এখানে বসার জায়গা করার কথা ছিল আগে থেকেই। ৫ আগস্টের পর ছাত্র-শিক্ষক মতবিনিময়সভায় বসে এই দাবিটা তোলা হয়। স্যারেরা এই বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখেন। মনিটরিং টিমও এটা দ্রুত করার জন্য স্যারদের জোর দেয়। পরবর্তীতে স্যাররাও গুরুত্ব দিয়ে কাজটা শুরু করে দেন।

কিভাবে এই নামকরণ করা হলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কাজটা যখন শেষের দিকে তখন এর নাম কী হবে সেই বিষয়ে আলোচনা উঠল। তখন আমাদের হলের ফেসবুক গ্রুপে পোল করা হয়- এটার নাম কী দিতে পারি এই বিষয়ে। সর্বাধিক ভোট ‘জুলাই বিপ্লব চত্বর' নামটাতেই পড়ে। পরবর্তীতে এটাই নামকরণ করা হয়।

হলের আরেকজন শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোটা আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রলীগের নেতারা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিত। চিহ্নিত করে রাখত কে কে আন্দোলনে যায়। আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রলীগের নেতারা অনেকটা উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি কোটা আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রলীগ আমাদের হলের গেটে তালা মেরে দিয়েছিল। কোনও শিক্ষার্থীকেই তারা হল থেকে বের হতে দিচ্ছিল না। পরবর্তীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এসে আমাদের হল থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই ছাত্রলীগকে হল থেকে বের করে দিয়েছিল। আমরাই সর্বপ্রথম ‘তুমি কে আমি কে- রাজাকার রাজাকার' স্লোগান দিয়েছি। এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। অতএব এই বিপ্লবকে স্মরণ রাখার জন্য এই ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে এই ধরনের স্থাপনা যেন আরো নির্মাণ করা হয় সেটাও আমরা প্রত্যাশা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত