প্রতিষ্ঠার অর্ধশত বছর পর প্রথমবারের মতো সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা বসেছিল শেখ মোহাম্মদ মিয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে। গত ৫ অক্টোবর স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় মুখরিত ছিল পুরো বিদ্যালয় মাঠ। একে অপরের সঙ্গে গল্প ও কুশল বিনিময়ে সময় কাটান সাবেক শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পরে দেখা হওয়ায় সহপাঠীদের জড়িয়ে ধরে কান্নাও করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে এক আবেগাঘন আবহ তৈরি হয় প্রতিষ্ঠানটি। দিনজুড়ে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণ। হৈ-চৈ, নাচ গান ও ছাত্রদের মিলনে মুখরিত ছিল পুরোটা সময়।
আয়োজক অষ্ট্রিয়া প্রবাসী মঞ্জুর আহমেদ জানান, ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের শৈশবের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
এদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরে শিক্ষকদের হাতে সম্মানসূচক ক্রেস্ট, প্রয়াত শিক্ষকদের পরিবারের হাতে মরনোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিদায়ী গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত হাবিবুল্লাহ, শেখ মো. ফজলুল করিম, মাওলানা সেকান্দর আলী এবং আসাদ উল্লাহকে মরোনত্তর সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়াও বিদায়ী সম্মাননা দেওয়া হয় নাজিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার, মোজাম্মেল হক কমল, নজরুল ইসলাম, কৃষ্ণ পদ ম-ল এবং সুব্রত স্যারকে।
পাশাপাশি বিদ্যালয়েরর ৪র্থ শ্রেণীর স্টাফ মোকলেছুর রহমান, আব্দুল কাদির, আশিক, আলী হোসেন (নাইট গার্ড), পুজা (আয়া) এবং পুস্প আয়া’কে (অবসরপ্রাপ্ত) সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে ৬ষ্ট থেকে ১০ শ্রেণীর প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান অধিকার করা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীলিপ কুমার মজুমদার, বিজয় কৃষ্ণ পাল, মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম জুনিয়র, জহিরুল ইসলাম ও মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক শফিক সাফি বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে আহ্বান থাকবে, এখানে অধ্যয়ণরত প্রত্যক শিক্ষার্থী যেন উচ্চ পরিসরে গিয়ে এই স্কুলের সম্মান আরও বৃদ্ধি করতে পারে। সেভাবে আপনারা নজর রাখবেন। স্কুলের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ হতে প্রস্তুত আছি।
অনুষ্ঠানে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও একই স্কুলের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন সারেং, হুমায়ূন ভূইয়া, বাদশা মিয়া, জালাল খা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মধ্যে প্রবাসী খোরশেদ আলম, আব্দুর কাদের, ইঞ্জিনিয়ার আলিম বাদশা, মো. ফাহাদ, মাসুম হোসাইন, সাইফুল ইসলাম, প্রবাসী শাহ আলম, প্রবাসী ইব্রাহিম, ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামান প্রমুখ অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় করে রাখতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
