গণমাধ্যম এখন থেকে কারো কাছে মাথানত করবে না, আশা মান্নার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২৭ পিএম

গণমাধ্যমের সংস্কার চেয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আমরা আশা করবো গণমাধ্যম কারো কাছে মাথা নত না করে মাথা উঁচু করে স্বাধীন সাংবাদিকতা করবে। জনগনের টাকায় চলা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার জনগণের কথা বলবে।’

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে দি ভয়েস অব টাইমস এর উদ্যোগে ‘বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও গণ আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘৬ আগস্টের পত্রিকার পাতাগুলো দেখে মনে হয়নি গত ১৬ বছর তারা কোথায় ছিল? কি ধরনের সংবাদ পরিবেশন করেছিল, সব যেন মুহুর্তেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা শুনেছি, সাংবাদিকতা পেশাও সংস্কার করা হবে। আমরা আশা করবো ভবিষ্যতে কোন মাফিয়া গোষ্ঠী কোন স্যাটেলাইট বা কোন পত্রিকার অনুমোদন যেন না পায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এখন যে সমস্ত কালো তালিকাভুক্ত সংবাদ পত্র রয়েছে তারা যদি শুদ্ধ না হয়, তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনগণের টাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার তারা যেন জনগণের কথা বলে সেই প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে ছাত্র—জনতার যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে ৪ তারিখেও আমরা তা কেউ বুঝতে পারিনি। সেদিনও অনেকেই আমাকে ফোন করেছিল। আমি বক্তৃতার ছলে জবাব দিয়েছিলাম। ৪ তারিখ বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ৬ তারিখের কর্মসূচি এগিয়ে ৫ তারিখে ঢাকামুখী হওয়ার ঘোষণা দিলো। বিশ্বাস করুন ৫ তারিখ সকালে সারাদেশ থেকে যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ছাত্রদের ডাকে ছুটে এসেছে সেটা চিন্তাশক্তির বাইরে ছিল।’

মান্না বলেন, ‘সেদিন গণমাধ্যমের কি ভূমিকা ছিল তা বড় কথা নয়, কিন্তু সোস্যাল মিডিয়া একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। যা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল দেশের বাইরে থেকে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও বিভিন্ন দেশে ছাত্র সমাজ জেগে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ জাগিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু আমরা কি পেলাম আর কি পেলাম না তার থেকে বড় কথা ১৬ বছরের স্বৈরাচার, দাম্ভিক যে নিজেকে লৌহমানবী ভাবতো সে পালিয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণকে মুক্তি দিয়েছে। আর এই মুক্তির মশাল জালিয়েছে ছাত্র—জনতার গণঅভ্যুত্থান।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৃক গ্যালারীর কো ফাউন্ডার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠক শহীদুল আলম, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী সেক্রেটারী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ড. মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত