ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে সংস্কার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গঠন করেছেন সার্চ কমিটি। যার নেতৃত্বে আছেন সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা জোবায়েদুর রহমান রানা। সার্চ কমিটির নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দ’র কাছে বলেছেন অনেক কথা
ব্যাডমিন্টনের রানাকে এখন সমগ্র ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। এত বড় কাজ কতটা উপভোগ করছেন?
জোবায়েদুর রহমান রানা: ভীষণ উপভোগ করছি। প্রতিদিনই কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জ আসছে। আমরা ফুল টিম বেশ উপভোগ করছি। এটা গবেষণা করার মতো একটা ব্যাপার।
সার্চ কমিটি বেশ কিছুদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারে রূপরেখা তৈরীতে কাজ করছে। কমিটির প্রধান হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাটাই জানতে চাই।
রানা: এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। আগে তো অল্প কিছু ফেডারেশন সম্পর্কে ধারণ ছিল। এখন সব কিছু নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। আসলে এটা অনেক বড় একটা জায়গা। এখানে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ আছে, একেবারেই ভিন্ন একটা জায়গা। অনেক নতুন কিছু জানছি, শিখছি। এখানে অনেক সমস্যা আছে। এই সমস্যাগুলো নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা ভালো জায়গায় আনাই আমাদের দায়িত্ব।
অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করার সুবাদে সেই অভিজ্ঞতা তো এখানে কাজ করছে?
রানা: অবশ্যই, সেই অভিজ্ঞতাগুলো এখানে কাজ করছে। আমি তো প্রায় ৪০ বছর ধরেই স্পোর্টসে আছি। অনেকের সঙ্গেই চেনা-জানা, মেলামেশা আছে। কমবেশি সবার কাজের ধরণ সম্পর্কে ধারণা আছে। এসবে নির্ভর করেই কাজ করছি। অলিম্পিক এবং বিভিন্ন ফেডারেশনে কাজ করার সুবাদে দেশের খেলাধুলার ধরণটা সম্পর্কে একটা ধারণা আমার আছে।
কাজ করার ক্ষেত্রে নিশ্চয় অনেক রকম বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে? কিভাবে এগুলো মোকাবেলা করছেন?
রানা: খুব যে বাধা আসছে তা নয়। তবে কিছুটা তো মতভেদ থাকবেই। আমরা হয়তো ভাবছি এটা সঠিক। আবার কিছু মানুষ হয়তো মনে করবে এটা সঠিক নয়। কাজ করার ক্ষেত্রে তাই সমালোচনা থাকবেই। আমি মনে করি সমালোচনা থাকতেই হবে। একেকজনের কাজের একটা ধরণ থাকে। আমরা হয়তো একটা কৌশলে কাজ করছি। আবার আপনি হয়তো সেটা সঠিক মনে নাও করতে পারেন। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে এই দুই ভাবনার মাঝামাঝি থেকে মঙ্গলজনক দিকটাই বের করে আনা। আমরা সবার কথা শুনতে চেষ্টা করছি। আমি একেবারেই বলতে রাজী না যে আমরা যেটা বলছি সেটাই সঠিক। সবার সঙ্গে কথা বলার, মতবিনিময় করার চেষ্টা করছি। বোঝার চেষ্টা করছি সবার মনোভাব কী, কোনটা করলে ভালো হবে। প্রতিদিন আমাদের পাঁচ থেকে সাত ঘন্টা বিরামহীনভাবে কাজ করত হচ্ছে। আমরা তাদের কাজের ধরণটা বোঝার চেষ্টা করছি। কোথায় সমস্যা আছে, কোন জায়গায়টা তারা সুস্থির নয়, সেগুলোই জেনে একটা সুস্থির জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।
আপনাদের কাজের সুবিধার্থেই কী সরকারের পক্ষ থেকে ফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ আপনারা যাতে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারেন, সেই চিন্তা থেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত? নাকী এর সঙ্গে সার্চ কমিটির কোন সংযুক্তি নেই?
রানা: আসলে সংযুক্তি নেই এটা বলবো না। বেশিরভাগ ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন সরকার মনোনীত এবং তাদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল। ফলে অনেক প্রভাবও ছিল। পটপরিবর্তনের পর তো অনেক ফেডারেশনের সভাপতি পদত্যাগ করেছেন, অনেকে অনুপস্থিত। এর মধ্যে অনেক সাধারণ সম্পাদকও আছেন। তাই আমরা ওই কাজটা তখন করেছি যাতে সেখান থেকে কোনপ্রকার প্রভাব বিস্তার না করা হয়। আমরা যে এখন ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে বসছি, আমরা চাচ্ছি, পুরানো যারা ছিলেন, তারাও যাতে থাকেন। যাতে আমরা সামনের দিকে গঠণতন্ত্রটা সঠিকভাবে করে নির্বাচনরা করা যায়। যাতে যোগ্য লোকরা ফেডারেশনগুলোতে আসতে পারে।
ক্রীড়াঙ্গনে কী যোগ্য লোকের সঙ্কট অনুভব করছেন?
রানা: ক্রীড়াঙ্গনে যোগ্য লোকের যথেষ্ট সঙ্কট আছে।
বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক হারে রাজনীতিকরণ হতে দেখেছি ক্রীড়াঙ্গনে। অযোগ্য অনেক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাবে শীর্ষ পদ দখল করে রাখতে দেখেছি। ফলে খেলাধুলায় একটা স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। আপনারা সেই অযোগ্য লোকদের খুঁজে বের করে সরিয়ে যোগ্যদের দায়িত্ব দিতে চাইভেন। কিন্তু সেই যোগ্য লোকদের খোঁজ আপনারা পাচ্ছেন কী?
রানা: যোগ্য লোক পাচ্ছি না, তা না। পাওয়া যাবেও। তবে হয়েছে কী আমাদের কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। একজন তরুণ যা ভাবছে, এই আমি ৬০ বছরের মানুষটার ভাবনা এক হবে না। আমাদের হয়তো কিছু সিদ্ধান্ত একটু সেকেলেই থেকে যাচ্ছে। তাই ভাবনার পরিবর্তনটা প্রয়োজন। এখন আমি যদি একই চিন্তাধারা আকড়ে ধরে ১০-১৫ বছর পড়ে থাকি। তবে নতুনদের ভাবনাটা বাধাগ্রস্থ হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সবার চিন্তা করা উচিত, যে আমার কি হবে, সেটা না। চিন্তা করা উচিত আমাদের কী হবে? ব্যক্তি চিন্তার বাইরে গিয়ে সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। তবেই গুরুত্বের শীর্ষে চলে আসবে খেলাধুলা।
এতদিন আওয়ামী লীগের লোকজনকে ক্রীড়াঙ্গন দখলে রাখতে দেখেছি। এখন একটি অরাজনৈতিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। তবে আরেকটি রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মানুষদের দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ফেডারেশনে ঢোকার পাঁয়তারা করছে। তার মানে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। এটা কতটা চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে আপনাদের কাজকে?
রানা: এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। এই ধারা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমরা একজন তরুণ উপদেষ্টা পেয়েছি। তবে তরুণ হলেও তাঁর অনেক গভীর চিন্তাভাবনা আছে। ওনার কথা একটাই রাজনীতিকে ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে রাখতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি চান যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে আসুক ক্রীড়াঙ্গন। সংস্কারের ফাঁকে কোন যোগ্য ব্যক্তি যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাদ না পড়ে যায়। তবে আমরা চাই ক্রীড়াঙ্গনে যাতে কেউ রাজনীতিকে টেনে আনতে না পারেন। আমরা চাইছি খেলার অঙ্গনে খেলার লোকরাই থাকতে পারেন। আমরা চাই না খেলার সঙ্গে যোগাযোগ নেই, অন্য কোন পরিচয়ে যাতে তারা ক্রীড়াঙ্গনে না আসেন।
ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের আলোচনা শুরুর পর ফেডারেশনগুলো স্থবির হয়ে গেছে। ফেডারেশন কর্তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন, ভাবছেন শুধুই তাদের ভবিষ্যত নিয়ে। তাদের খেলাটা সক্রিয় করার ভাবনাই নেই। প্রায় তিন মাস হতে চললো খেলাধুলা বলতে গেলে বন্ধ…
রানা: আমাদের মূল স্টেক হোল্ডার হলো খেলা ও খেলোয়াড়রা। সেদিকেই মনযোগী হতে হবে। ফেডারেশনে যারা বসবে, তাদের মূল কাজ খেলা ও খেলোয়াড়দের দেখভাল করা। কিভাবে খেলাটা এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটা ভাবতে হবে। অথচ বেশ কিছু জায়গায় দেখছি অনেকে নিজেরটা নিয়েই চিন্তা করছে। নিজের পদটা কী করে ধরে রাখা যায় সেটা ভাবনাতেই তারা ব্যস্ত।
এখানেই আমাদের ভাবনায় বড় একটা ঘাটতি আছে। এখানেই আমাদের বোঝা, জানা এবং ইচ্ছের ঘাটতি আছে। প্রথমেই জানা উচিৎ গঠণতন্ত্রে কী আছে। বেশিরভাগ ফেডারেশনের লোকেরা এটা নিয়ে একেবারেই সতর্ক নয়। ফেডারেশন না থাকলে গঠণতন্ত্র অনুযায়ী সহ-সভাপতি-১ দায়িত্বে আসবেন। সাধারণ সম্পাদক না থাকলে এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক দায়িত্ব নিবে। এখন দেখা যাচ্ছে গঠণতন্ত্র পাশ কাটিয়ে তারা খেলাধুলা বন্ধ করে বসে আছেন। অথচ সরকার তো বলে দেয়নি খেলাধুলা বন্ধ রাখতে। সরকার বলেছে, খেলাধুলাও চলবে, পাশাপাশি সংস্কার কাজটাও চলবে।
তার মানে দাঁড়াচ্ছে ক্ষমতা হারানোর ভয়। ভয় থেকে হতাশা। আর হতাশা থেকেই নিস্ক্রিয়তা?
রানা: এটাই হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় আমরা যারা ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ, তাদের এতটা ভয়ের কিছু নেই। যারা সক্রীয়ভাবে কাজ করবে, তাদের বাসা থেকে ডেকে এনে দায়িত্বে বসাবে। কারণ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে কাজের লোকের বড় ঘাটতি রয়েছে।
ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনগুলোর পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থারগুলোর সংস্কার নিয়েও কাজ করবে কী সার্চ কমিটি?
রানা: আমাদের কমিটির মূল কাজ গঠণতন্ত্র সংস্কার করে নির্বাচনের একটা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী করা। এখন যে আমরা ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে কথা বলছি, এটা হচ্ছে গঠণতন্ত্র পুনর্গঠনের কাজের একটা অংশ। বাস্তবিক অর্থে কী কী সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাদের। কি কি অপূর্ণতা আছে- এগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এগুলো যদি আমরা কিছু সংশোধন করে দিতে পারি…। এই যে দেখেন যোগ্য লোকটা জেলা-বিভাগ থেকে ফেডারেশনে কাউন্সিলর হিসেবে আসতে পারে না। তাদের জায়গায় চলে আসে অযোগ্য লোক। তাই জেলা ও বিভাগগুলোতেও একটা নীতিমালা তৈরী করে দিতে হবে। যারা খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না, যাদের কোন অভিজ্ঞতা বা যোগাযোগ নেই- তারা যাতে আসতে না পারে। আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলাগুলোর সঙ্গে বসার। এখন আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেডারেশনগুলোকে সক্রিয় করতে চাইছি।
বাফুফের নির্বাচন আসন্ন। সার্চ কমিটি কীরকম একটা কমিটির প্রত্যাশা। যেহেতু ফুটবল এ দেশে ভীষণ জনপ্রিয়। আবার ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা সরকারের কোন হস্তক্ষেপ মেনে নেয় না।
রানা: বাফুফের নির্বাচন ফিফার গাইডলাইন অনুযায়ীই হবে। তবে মনে রাখতে হবে এটা কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বাংলাদেশ আছে বলেই, এটা আমাদের সবার। আমরা সবাই চাচ্ছি এখানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক এবং যোগ্যরাই দায়িত্বে আসুক। এটাই সবার কাম্য।
সেই সত্যিকারের যোগ্য মানুষদের কী দেখতে পাচ্ছেন নির্বাচনমূখী হতে? বাফুফে নির্বাচনেও তো দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক মেরুকরণ?
রানা: এরকম মানুষ যাতে না আসে, সেটাই সবার কাম্য। আবার ক্রীড়াঙ্গনের লোকও তো ছিল, তারপরও কী আমরা খুব একটা এগুতে পেরেছি? ফুটবল আসলে এমন একটা জায়গায় আছে, যা থেকে বের হয়ে আসতে সময় লাগবে। যোগ্য লোকদের সম্পৃক্ততা এখানে বাড়াতে হবে।
বিভিন্ন ফেডারেশনে চল্লিশ বছর, ত্রিশ বছর, বিশ বছর ধরে ক্ষমতা আকড়ে বসে আছেন। সরছেনও না, খেলাটারও উন্নতি করছেন না। তাদের জন্য কী কোন স্পষ্ট বার্তা থাকছে কীনা আপনাদের পক্ষ থেকে?
রানা: ওনাদের জন্য একটাই বার্তা। নিজেরাই যেন সরে গিয়ে তরুণদের কাজ করার সুযোগ করে দেন। ওনাদের মানতে হবে, এটা পরিবর্তনের যুগ, তরুণদের যুগ। এতদিন যে সনাতনী চিন্তাধারা নিয়ে পড়েছিলাম, এখন সময় ধন্যবাদ বলে বিদায় নেয়া। আমরা চাইবো, একই সঙ্গে তরুণ, পরিশ্রমী এবং অভিজ্ঞদের হাতে নের্তৃত্ব তুলে দিতে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে যদি কঠোর হতে হয়, সেটা হতেও রাজী। ব্যক্তি চিন্তা গুরুত্ব পাবে না, সামগ্রিক ভালো যেটা হবে, সেক্ষেত্রে পরিবারের কাউকেও যদি সরিয়ে দিতে হয়, সেটা আমরা করবো।
সার্চ কমিটি নিয়েও কিছু সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে। একজন সদস্যকে সরকার বিব্রত হয়েই অব্যাহতি দিয়েছে। আবার একজন সদস্যর অপসারণের দাবী উঠেছে হকি অঙ্গন থেকে। কমিটির প্রধান হিসেবে এই বিতর্কগুলো নিশ্চয় আপনাকেও বিব্রত করে?
রানা: এটা আসলে বিব্রতকর ব্যাপার। আমাদের কাজ নিয়ে সবারই হয়তো সমালোচনা থাকবে। আগেই বলেছি সমালোচনা হোক, তবে বিতর্কিত হওয়াটা কাম্য নয়। এটা দুঃখজনক যে আমরা দারুণ একটা দল হয়ে কাজ করছিলাম, এর মধ্যে এরকম একটা ব্যাপার ঘটলো। যা আবারও বলছি ভীষণ দুঃখজনক।
ঢাকা ক্যাপিটালসে হেলস, তানজিদ তামিম
মোস্তাফিজকে নিলামে পাঠাচ্ছে চেন্নাই!
পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতে ‘আম্পায়ার’ আলিম দার
ভারত সিরিজে হারের যে কারণ বললেন পোথাস
স্কালোনির সব অভিযোগ মাঠ নিয়ে
মাসে বেতন ২৭ লাখ, ৫০ দিন ছুটিসহ যেসব সুবিধা রোনালদোর হোটেল কর্মীদের
ব্রাজিলে এবার ব্যক্তিগত দ্বীপ কিনতে যাচ্ছেন নেইমার