বিপিএল যখন 'মাস্টার্স লিগ' হয়ে যায়

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪০ এএম

আজই বাংলাদেশের হয়ে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। দিল্লিতে আগের ম্যাচে চাপের মুখে ৩৯ বলে ৪১ রানের ‘মাস্টার ক্লাস’ ইনিংস খেলায় নিঃসন্দেহে আজ তাকে একাদশের বাইরে রাখার কোনো যুক্তিই নেই টিম ম্যানেজমেন্টের।

যদিও খেলার ফলে বিন্দুমাত্র প্রভাব না ফেলা এমন স্বার্থপর ইনিংস খেললে বিশ্বের বেশিরভাগ ক্রিকেটারেরই লজ্জা পাওয়ার কথা। বিদায় বলে ফেলা মাহমুদউল্লাহ দিন দুয়েক পরের বিপিএল প্লেয়ার ড্রাফটে আছেন ‘এ’ গ্রেডে, সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ন্যূনতম ৬০ লাখ টাকায়। 

শুধু মাহমুদউল্লাহ একা নন, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানানো তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানও আছেন এই মূল্য স্তরে। যা নিয়ে ক্ষোভ জমেছে বর্তমান ক্রিকেটারদের মনে, প্রকাশ্যে সেটা উগরে দিয়েছেন ইমরুল কায়েস।

৪২ বছর বয়সেও মাশরাফী বিপিএলের ‘বি’ গ্রেডে, যাকে পুরো মৌসুম পাওয়া নিয়েই সংশয়। অথচ ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় পেসার নাহিদ রানা কিংবা এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখা অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন সি গ্রেডে। সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জিশান আলম ডি গ্রেডে। সংস্করণটা যখন টি-টোয়েন্টি সেখানে এই সংস্করণে অবসর নেওয়া ক্রিকেটারদের কেন সর্বোচ্চ দাম ড্রাফটে?

সিলেট স্ট্রাইকার্সে দুই মৌসুম কোচের দায়িত্ব পালন করা রাজিন সালেহ মনে করেন, খেলোয়াড় সংকটই এর প্রধান কারণ, ‘তাদের মতো গ্রহণযোগ্যতা অন্য কারও তৈরি হয়নি এটা যেমন একটা কারণ, তেমনি খেলোয়াড় তৈরি না হওয়াটাও আরেকটা বড় কারণ। বিপিএলের ১০-১১টা মৌসুম হয়ে গেলেও আমরা কিন্তু মানসম্পন্ন টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় পাইনি, যেটা অন্যান্য দেশের লিগগুলোতে দেখা যায়।’ 

এর জন্য বিগত সময়ে বিপিএল যারা পরিচালনা করেছেন তাদেরই দায়ী করলেন রাজিন, ‘কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ভালো ম্যানেজমেন্ট করতে পারেনি। আগেভাগে দল গোছানো, প্রস্তুতি শুরু করা কিছুই হয়নি। সবকিছুই শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে করা হতো। ভালো কোচদের আনা হয় না।’

বিপিএলের খেলোয়াড়দের এই পারিশ্রমিকের বিন্যাসটা কে করে সেই প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে অধিনায়ক হিসেবে ৩টি শিরোপা জেতানো ইমরুল কায়েস, ‘বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটের গ্রেডিংটা আসলে কীসের ভিত্তিতে করা হয়। জাতীয় দল, সারা বছরের ঘরোয়া পারফরম্যান্স, বিপিএলের পারফরম্যান্স নাকি শুধু নাম দেখে করা হয়। বছর জুড়ে ক্রিকেটের আশপাশে না থাকা ক্রিকেটারের জায়গা হলো ‘বি’ গ্রেডে। অথচ গত বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা  ক্রিকেটাররা ‘সি’ গ্রেডে। তবে কি শুধু নাম কিংবা চেহারা দেখেই বিপিএলের ড্রাফটের গ্রেড নির্ধারণ করা হয়?’

ইমরুল কায়েসের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে স্মৃতি ফিরিয়ে নিল কয়েক দিন আগের কানপুরে। যেখানে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান রাজিব শুক্লা বলেছিলেন, চেষ্টা করা হবে আইপিএলের নিলাম যেন সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির পরে করা হয়, যাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা নিলামের আগে স্পষ্ট ধারণা পায়।’ 

ভারতে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক মিলিয়ে অনেক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশে বিপিএলের বাইরে একটিও নেই। তাই তো ৩৯ বলে ৪১ করে কেউ নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ান ‘মাস্টার ক্লাস’, তাদের অতিমূল্যায়নে বিপিএলও হয়ে যায় সাবেক খেলোয়াড়দের মাস্টার্স লিগ মানের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত