শান্তিতে নোবেলজয়ীদের মত

পরমাণু হামলা থেকে বাঁচতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত 

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১২ পিএম

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন পরমাণু বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়াদের সংগঠন নিহন হিদানকিও। জাপানি এ সংস্থাটি পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সক্রিয়তার জন্য চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।

বেঁচে যাওয়ারা যারা হিবাকুশা নামে পরিচিত, তারা এই পুরস্কারকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বিশ্বের সব মানুষই ভবিষ্যতের হিবাকুশা। সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলে মনে করেন নাগাসাকিতে বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং নিহোন হিদাংকিও সংগঠনের সহ-প্রধান তেরুমি তানাকা।

শনিবার (১২ অক্টোবর) টোকিওতে বেঁচে যাওয়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তানাকা। এসময় নিহন হিদানকিওর সাতজন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

১৩ বছর বয়সে নাগাসাকিতে বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ৯২ বছর বয়সী তানাকা বলেন, তিনি আশা করেন এই পুরস্কার পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব অর্জনে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা এমন সংকটের মুখোমুখি হয়েছি যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র প্রকৃতপক্ষে নির্মূল হচ্ছে না।’

পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে জাপান সরকারের অংশগ্রহণ না থাকার কথা উল্লেখ করে তানাকা বলেন, কিছু অর্জন সত্ত্বেও আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তবে তিনি বলেন, শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি বিশ্বজুড়ে আন্দোলনে ব্যাপক গতি সঞ্চার করবে।

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা শুক্রবার টোকিওতে দলীয় নেতাদের বিতর্কে বলেছেন, জাপানের পারমাণবিক অস্ত্রের ট্র্যাজেডি বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া অব্যাহত রাখা দরকার। বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ এবং পারমাণবিক মুক্ত বিশ্ব অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হিরোশিমায় বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া হিদানকিয়োর আরেক নির্বাহী জিরো হামাসুমি বলেন, হিবাকুশার সদস্যপদ কমে যাওয়ায় তারা তরুণ সমর্থক এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের হিবাকুশাকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য জড়িত করার চেষ্টা করছে।

তবে আশার আলো দেখা যাচ্ছে এবং তরুণদের আন্দোলন শুরু হচ্ছে বলে মনে করছে নোবেল কমিটি।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আণবিক বোমা হামলায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক হামলায় আরও ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এর ১১ বছর পর ১৯৫৬ সালে হিদানকিও গঠিত হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত