সিইউএফএলে আট মাস পর উৎপাদন শুরু

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০২ পিএম

দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদন শুরু হয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল)। রবিবার দিনগত রাত পৌণে ১টা থেকে কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন চলছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ ছিল উৎপাদন। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এ সার কারখানা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো.মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,কারখানায় এখন পুরোদমে ইউরিয়া উৎপাদন চলছে।

কারখানা সূত্র জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় রিসাইকেল সলিউশন পাম্পে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে রিসাইকেল (আরসি) পাম্প, ফিলিং টাওয়ার, স্ক্র্যাপার বেডের গ্লাস-ক্লথ পরিবর্তনসহ ২৮০টি সংস্কার কাজ কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় করা হয়। এ কাজগুলো প্রত্যক্ষভাবে তদারকি করেন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান। যার প্রেক্ষিতে গত ৩ অক্টোবর গ্যাস সরবরাহ পেয়ে কোনো জটিলতা ছাড়াই রবিবার রাতে কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

এর আগে, ২০২২ সালের নভেম্বরে গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য কারখানার উৎপাদন দীর্ঘ ১১ মাস ২০ দিন বন্ধ ছিল। পরে যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে গত বছরের ৫ নভেম্বর কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। এর কয়েক মাস পর আবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারখানাটির উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

সিইউএফএলের শ্রমিক নেতা ও বিসিআইসি শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম সবুজ জানান, গত ৮ মাস কারখানার শ্রমিকরা রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর কারখানাটি চালু হওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ চলমান থাকলে দেশের সার সংকট নিরসনে কারখানাটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

এ কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। যার মূল্য পৌনে তিন কোটি টাকা। ইউরিয়া সারের বাইরে এই কারখানায় অ্যামোনিয়া সারও উৎপাদিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত