বড় পর্দার সিনেমা ছাড়া কোনো কনটেন্টের আগে সেন্সরে যেতে দেখা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে যেন এই ধারা শুরু হলো। মাস কয়েক আগে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি একটি ওয়েব ফিল্মের ঘোষণা দেয়, যেটির নাম ‘৩৬-২৪-৩৬’। সে সময় এই ফিল্মের প্রচারণা স্বরূপ অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির হাতে বিয়ের কার্ড দেখে রীতিমতো তোলপাড় হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। গুঞ্জন ছড়ায়, বিয়ে করছেন দীঘি! পরে জানা যায়, আদতে সেই বিয়ের কার্ডটি ছিল এটির প্রচারণা। গত জুলাইয়ে মুক্তির কথা থাকলেও পড়ে সেটি পিছিয়ে যায়।
তবে এবার জানা গেল, রেজাউর রহমান পরিচালিত সেই ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে প্রেক্ষাগৃহে। বড় পর্দায় মুক্তির লক্ষ্যে ওটিটি থেকে ওয়েব ফিল্মটি এখন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে। গত ১৫ অক্টোবর এটি সেন্সরে জমা পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ।
সম্পর্ক এবং অনুভূতির নানা দিক উঠে আসবে রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের এ সিনেমায়। নির্মাতা রেজাউর রহমান বলেন, ‘সিনেমাটি খুবই কালারফুল ও বড় আয়োজনে নির্মাণ করতে চেয়েছি। সংলাপ ও ঘটনায় মজা রাখার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে থেকে দর্শকরা কিছু বার্তাও পাবেন বলে আশা করি। এর আগে ‘ইন্টার্নশিপ’ দেখে দর্শকরা যেমন মজা পেয়েছেন, আমার বিশ্বাস ‘৩৬-২৪-৩৬’ সিনেমাটি দেখেও তেমন মজা পাবেন, তবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।’
দীঘির ভাষ্যে, ‘সিনেমার নামটা শুনে অনেকে হয়তো ‘বডি শেমিংয়ের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। আসলে সেটা নয়, দেখলেই বুঝতে পারবেন, মজার একটা গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এটি। প্রচারণার কৌশল হিসেবে বিয়ের কার্ড নিয়ে আমার সঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান একটি কনসেপ্ট শেয়ার করেছিল। তখন আমি তাতে রাজি হই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি পোস্ট করি। এরপর অনেকেই ভুল বুঝেছে, আমার বন্ধুরা পর্যন্ত ভুল বুঝেছে, মনে করেছে সত্যিই আমি বিয়ে করছি। বিষয়টি নিয়ে অনেক মজাও হয়েছে। তবে এখন তো সব পরিষ্কার।’
সিনেমাটির প্রযোজক রেদওয়ান রনি জানান, সিনেমাটি সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা হয়েছে। গ্রেড সার্টিফিকেট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা হবে মুক্তির তারিখ।
সেই সঙ্গে বললেন, ‘রাজনৈতিক পালা বদলের পর যখন কনটেন্ট মুক্তির কথা কেউ ভাবছিলেন না তখন আমরা ওয়েব ফিল্ম মুক্তির সাহস দেখাই। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জুলাইয়ে মুক্তির কথা থাকলেও তখন কনটেন্টটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রেক্ষাগৃহ স্থবির হয়ে আছে। নতুন সিনেমা থাকলেও তা মুক্তি দিতে অনেকেই নানান হিসাব-নিকাশ করছেন। আমাদেরও অনেক কিছু ভাবতে হয়। কিন্তু সেগুলো এবার এত না ভেবে আমরা চেয়েছি এগিয়ে যেতে। সে কারণেই মূলত এখন এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে যাচ্ছি। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে যে নির্মাণশৈলী, আয়োজন ও গল্প বলার ঢংয়ের প্রয়োজন হয়, তার কোনো কমতি নেই এতে। সেটি দর্শকরা দেখলেই বুঝতে পারবেন। আমাদের বিশ্বাস, এ পদক্ষেপ অনেক প্রযোজককে সিনেমা মুক্তি দিতে উৎসাহী করবে এবং দর্শকরাও প্রেক্ষাগৃহে ফিরবে।’
‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের পঞ্চম সিনেমা ‘৩৬-২৪-৩৬’-এ প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সৈয়দ জামান শাওন ও প্রার্থনা ফারদীন দীঘি। এখানে শাওন অভিনীত চরিত্রের নাম তাহসির আর প্রিয়ন্তী চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীঘি। অন্যদিকে ওয়েডিং প্ল্যানার সায়রা চরিত্রে রয়েছেন কারিনা। এই তিনজনের মধ্যকার ঘটনা নিয়েই গড়ে উঠেছে সিনেমার কাহিনি।
সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন গোলাম কিবরিয়া তানভীর, মিলি বাশার, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, শহীদুল আলম সাচ্চু, রোজী সিদ্দিকী, শামীমা নাজনীন, আবু হুরায়রা তানভীরসহ অনেকে।
