লিওনেল মেসি আবারও ইতিহাস গড়লেন। তার দশম হ্যাটট্রিকে মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে বলিভিয়াকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দেশের মাটিতে ৩৩৩ দিন পর ছয় গোলের পাঁচটিতেই অবদান রাখলেন মেসি। এর আগে মেসি হ্যাটট্রিক করেছিলেন কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২০২৩ সালের মার্চে।
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের এস্টাদিও মনুমেন্তালে স্টেডিয়ামে ৮৫ হাজার দর্শক মেসি নামে গর্জন তুলেছিলেন শুরু থেকেই। মেসি তাদের হতাশ করেননি। ১৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে মার্তিনেজের থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে কাছের পোস্ট দিয়ে গোল করেন মেসি। ৩৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বাঁকানো ফ্রি কিক নেন মেসি, দারুণ নৈপুণ্যে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন বলিভিয়া গোলকিপার। ৪৩ মিনিটে এক সতীর্থের থ্রু বল ধরে এগিয়ে যান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, তিনি নিজেই শট নিতে পারতেন কিন্তু বল দেন লাউতারো মার্তিনেজকে। বক্সে ঢুকে গোল করেন মার্তিনেজ। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মেসির উঁচু করে বাড়ানো থ্রু বল বক্সের মাথায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন আলভারেজ।
৬৫ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন আর্জেন্টিনা কোচ। তখন আলভারেজের বদলে নামেন থিয়াগো আলমাদা। মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যে নাহুয়েল মোলিনার পাস বক্সে পেয়ে স্কোর ৪-০ করেন আলমাদা।
৮৪ মিনিটে পালাসিওসের পাস পেয়ে ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। দুই মিনিট পর নিকো পাজের পাস থেকে বাঁ-পায়ে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি হ্যাটট্রিক করলেন মেসি। ২টি হ্যাটট্রিক করেছেন বলিভিয়ার বিপক্ষে, ১টি ইকুয়েডরের বিপক্ষে।
ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ৫৮টি হ্যাটট্রিক মেসির। এখনো খেলে যাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৬৬ হ্যাটট্রিক নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রোনালদো। দেশের হয়ে হ্যাটট্রিকে এদিন রোনালদোকে (১০ হ্যাটট্রিক) ছুঁয়েছেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক রোনালদো-মেসিরই। তবে হ্যাটট্রিকে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি সম্ভবত ছুঁতে পারবেন না মেসি-রোনালদোর কেউই। পেশাদার ফুটবলে ১০০ এর বেশি হ্যাটট্রিক আছে তিন ফুটবলারের। তারা হলেন, জার্মানির আরউইন হেলমশেন (১৪১+), অস্ট্রিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে খেলা জোসেফ বাইকান (১০১+) ও হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক ডিক (১০০+)।
তবে ৩৭ বছর বয়সী মেসি স্বীকার করেছেন যে, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষে দিকে চলে এসেছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেননি মেসি, ‘আমি কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করিনি। আমি কেবল উপভোগ করছি। আমি এখন আগের চেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ এবং মানুষের ভালোবাসা নিচ্ছি, কারণ আমি জানি এগুলো আমার শেষ ম্যাচগুলোর একটি হতে পারে।’
মেসি আরও বলেন, তার তরুণ সতীর্থরা তাকে ফুটবল উপভোগ করতে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে উপস্থিত থাকা এবং এই আনন্দ ভাগাভাগি করা সত্যিই আনন্দের। আমার বয়সের তুলনায় তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে থাকলে নিজেকে আবার শিশু মনে হয়। আমি অনেক সময় মজার কাজ করি, কারণ আমি এতটাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যতদিন আমি এই অনুভূতি ধরে রাখতে পারব এবং দলকে অবদান রাখতে পারব, আমি এখানে থাকতে চাই এবং উপভোগ করতে চাই।’
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আশাবাদী, মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যতদিন সম্ভব চলতে থাকবে, ‘ও সবসময় আমাদের বিস্মিত করে। আমি একসময় [সহকারী কোচ] পাবলো আইমারের সঙ্গে বসে বলি- বেঞ্চে বসে ওর খেলা দেখা কি দারুণ তাই না! দল ওর সঙ্গে আছে এবং আমি তাকে বলেছি, যতদিন সম্ভব খেলে যাও।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির মোট গোল হলো ১১২টি। ১৩৩ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন রোনালদো।
