মাস ছয়েক বিরতির পর কানপুর টেস্টে একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন খালেদ আহমেদ, রোহিত শর্মা তার প্রত্যাবর্তনের আনন্দ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিলেন পরপর দুই বলে মারা বিশাল দুই ছক্কায়। কানপুর টেস্টে ভারতের ব্যাটসম্যানরা স্টিম রোলার চালিয়েছেন বাংলাদেশের সব বোলারের ওপরই, তবে ফল ভুগছেন কেবলই খালেদ। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কানপুর থেকে মিরপুরে একটাই পরিবর্তন, যেহেতু দেশে খেলা তাই দলের আয়তন ছোট করে ১৬ সদস্যের পরিবর্তে ১৫ জনের, যেখানে ঠাঁই হয়নি ডানহাতি পেসার খালেদের।
২১ অক্টোবর মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। নির্বাচক হান্নান সরকার ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন পরিবর্তনের কারণগুলো, ‘যেহেতু আমরা ঘরের মাঠে খেলব, হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করব, তাই ১ জন পেসার কমিয়ে তিনজন পেসার নিয়ে সাজানো হয়েছে দল। দলে আট জন ব্যাটসম্যান এদের দুজন অলরাউন্ডার, সাকিব এবং মিরাজের কথা বলছি, এর পাশাপাশি দুজন জেনুইন স্পিনার ও তিনজন সিমার আছে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়েছে দলটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। কোচের হাতে বা অধিনায়কের হাতে অনেক রকম বিকল্প আছে, তারা চাইলে একাদশটা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই সাজাতে পারবে।’ খালেদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘খালেদ স্কোয়াডে নেই, সে জাতীয় লিগ খেলতে যাচ্ছে।’
পাকিস্তান সফরের পর ভারত সফর, টানা চার টেস্টে প্রায় একই রকম ছিল দল। শুধু একাদশে খানিকটা রদবদল। তবে ফলের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। নির্বাচক হান্নানও মনে করেন, দুটোই খানিকটা অপ্রত্যাশিত, ‘পরপর দুটা সিরিজ যদি দেখি, পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা খুবই ভালো করেছিলাম কিন্তু তারপরে আবার ভারতের বিপক্ষে আমরা আশানুরূপ ফল করতে পারিনি। আমাদের এই সিরিজটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সিরিজটাকে আমরা কীভাবে দেখব। আমরা অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলে, বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করে একটা পরিকল্পনা সাজিয়েছি। আশা করছি আমাদের খেলোয়াড়রা পরিকল্পনামাফিক খেলতে পারবে।’
দলে সাকিব আল হাসানের উপস্থিতি প্রসঙ্গে হান্নান বলেছেন, ‘সাকিব আসলে তার ইচ্ছা পোষণ করেছিল মিরপুর টেস্টে খেলে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার। আমরা জানি যে এখানে সরকারের একটা ইস্যু ছিল, ক্রিকেট বোর্ডের একটা ইস্যু ছিল, সব জায়গা থেকেই ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার চেষ্টা করি। ক্রিকেট বোর্ড থেকে যখন আমরা সবুজ সংকেত পেলাম, তখন স্বাভাবিকভাবেই সাকিবকে রেখেছি। এটা আমাদের একটা আনন্দের বিষয় যে আমাদের একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার আমাদের ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারছে। এটা খেলোয়াড় হিসেবে তার যেমন বড় পাওয়া তেমনি বাংলাদেশের মানুষ হিসেবেও একটা বড় পাওয়া। আশা করছি এই ম্যাচটা ম্যাচ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাকিব ভালো পারফরম করার মাধ্যমে বাংলাদেশেরও ভালো কিছুতে অবদান রাখবে। সাকিবের জন্য শুভকামনা।’
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে উল্টো চিত্র দেখে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ২৮০ রানে হারের পর বৃষ্টিবিঘিœত দ্বিতীয় টেস্টেও ৭ উইকেটে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়। হান্নানের আশা ভারত সফরের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে গিয়ে ভালো কিছুই করবে বাংলাদেশ।
