কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ভেলাকোপার হানাগড় থেকে ক্যাতক্যাতার মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। দীর্ঘ ২০ বছরেও হয়নি সংস্কার। সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক আবেদন করলেও ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এমন অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে এলাকাবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে সেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করছে সড়কটি।
পৌর কর দিয়েও পৌর সভার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ড ভেলাকোপা মৌজার হানাগড়ের মাথা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার হয়নি ২০ বছরেও। পরে ২০১৭ সালের বন্যায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়কটি।
এর ফলে ভেলাকোপা ওয়ার্ডের চারটি গ্রাম ও দুইটি ইউনিয়নের শত শত মানুষ যাতায়াতের সময় চরম বিপাকে পড়েন। তৎকালীন পৌর মেয়র ও সাবেক মেয়রকে অভিযোগ ও অনুরোধ করলেও সড়কটির কোন ব্যবস্থা নেননি তারা, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সড়কটি দীর্ঘদিনেও যখন সংস্কার না হওয়ায় গ্রামবাসী নিজের টাকা দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। পরে সেটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দূর্ঘটনার কবলে পড়ে সড়কটিতে। এমন দূর অবস্থা দেখেও পৌর কর্তৃপক্ষ নিরব থাকায় বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছা শ্রমে সড়ক নির্মানে এগিয়ে আসেন তারা। গত এক সপ্তাহ থেকে সড়কটি মেরামতে উঠেপড়ে লেগেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ বলেন, ‘নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা হাজারো প্রতিশ্রুতি দেয়। নির্বাচিত হলে তারা জনগণের আর খোঁজ নেয় না। কুড়িগ্রাম পৌর শহরের চেয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে রাস্তাগুলো বর্তমানে অনেক ভালো। পৌর শহরে বসবাস করে সকল টোল দিলেও পৌর সভার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। আপাতত আমরা সড়কটি সংস্কার করছি, সেটি কিন্তু স্থায়ী না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ তারা যেন সড়কটির স্থায়ী ভাবে চলাচলের জন্য একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।‘
নুরনবী নামের আরও একজন বলেন, ‘এই রাস্তাটি দিয়ে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী চলাচল করে। রাস্তার এমন অবস্থা একটা অটোরিকশাও চলে না। এছাড়াও এখানকার হাজারও ছাত্র ছাত্রী শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজ অনেক কষ্ট নিয়ে যাতায়াত করে।‘
সড়কটি সংস্কারের কাজে অংশ নেয়া মনজুরুল ইসলাম বলেন,’আমরা নাম মাত্র পৌর শহরে বসবাস করছি। সকল প্রকার রাজস্ব কর দিয়ে আসলেও আমরা এক নম্বর পৌর সভার সকল সুযোগ সুবিধা থেকে থেকে বঞ্চিত। দূর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস,পুলিশ কিংবা এ্যাম্বুল্যান্সের প্রয়োজন হলে শুধু মাত্র সড়কের কারনে পাই না। জনপ্রতিনিধিরা কথা দিয়ে কেউ কথা রাখে নাই। বাধ্য হয়ে আমরা গ্রামবাসী স্বেচ্ছা শ্রমে বাঁধটি নির্মান কাজ করছি। আশা করছি আর দু একদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।‘
কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক কাউন্সিল জমসেদ আলী টুংকু মিয়া বলেন, ‘সড়কটির বিষয়ে বারবার কাগজ পত্র নিয়ে ঢাকা যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোন সমাধান না পাওয়ায় গ্রামবাসীর স্বেচ্ছা শ্রমে সড়ক সংস্কার করছে।‘
