নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ

আংশিক ধসে গেছে তিন সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

  • প্রতিদিন সেতুগুলো দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে
  • যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা
  • সেতুগুলো মেরামতের জন্য লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌর এলাকায় তিনটি সেতুর আংশিক ধসে গেছে। ফলে সেতুগুলো দিয়ে অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া প্রতিদিন এ সেতুগুলো দিয়ে একাধিক শিল্প কারখানার মালবোঝাই কয়েক শ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করার কারণে সেতুগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুগুলোর ধসে যাওয়া অংশে স্টিলের প্লেট ও ঢালাই দিয়ে মেরামতের কাজ সারলেও যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

সোনারগাঁয়ের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পাশের সেতুটির দক্ষিণ দিকের একাংশ বিগত এক সপ্তাহ আগে দেবে গেছে। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সোনারগাঁয়ে অন্যতম সড়ক চৌরাস্ত টু পানাম। এ সড়কেই সেতুটির অবস্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে  গিয়ে পর্যটকদেরকে এ সেতু ব্যবহার করতে হয়। এখানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের বাস ও অন্যান্য যানবাহন এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করার কারণে পর্যটকরাও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

এছাড়া এ সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন মেঘনা গ্রুপ, আমান সিমেন্ট, বেঙ্গল সিমেন্ট, মাকর্স ফিডসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কয়েক শ ভারি যানবাহন যাতায়াত করে। অপরদিকে এ সেতু হয়ে যানবাহনগুলো উপজেলা পরিষদের পাশে অবস্থিত উদ্ভবগঞ্জ পার হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ খালের উপর অবস্থিত উদ্ধবগঞ্জ সেতুর পূর্বদিকের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই ধসে গেছে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুর ধসে যাওয়া অংশে দুটি স্টিলের প্লেট বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে সেতুটি সচল রাখার চেষ্টা করলেও গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি প্লেট দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায়। ফলে এ সেতুতে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

এ সেতু দিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা ছাড়াও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানুষ চলাচল করে থাকে। সেতুর এক পাশে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভূমি কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর ও সোনারগাঁ থানা রয়েছে। অপর পাশে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অবস্থান। এছাড়া এ সেতু হয়েই বারদী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পৈত্রিক বাড়িতে যেতে হয়। 

এ দুই সেতু ছাড়াও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ২ নম্বর গেটের সামনের সড়কে অবস্থিত গোয়ালদী কালিবাড়ী সেতুটিও বেশ কয়েক বছর ধরে বেহাল দশায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ সেতুটিকে অনেক আগেই চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করলেও সেতুটির উপর সিমেন্টের ভারি প্রলেপ দিয়ে এখনো চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে। যে কোনো মুহুর্তে এ সেতুটিও ধসে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ সেতু ব্যবহারকারীরা। 

পানাম এলাকার ব্যবসায়ী সজিব হোসেন বলেন, জাদুঘরের সামনের সেতুটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ সেতু দিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী মালবাহী যানবাহন লরি ও ট্রাক প্রতিদিন চলাচল করে। সুতরাং যেকোন সময় এ সেতু ভেঙে যেতে পারে। 

ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু তিনটির ব্যাপারে সোনারগাঁ পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এ সেতুগুলো পৌরসভার মধ্যে হলেও এগুলোর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল হক বলেন, ‘এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় রয়েছে। এ সড়কে আমাদের দপ্তরের কিছু করার নেই। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগককে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।’ 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহান ফোরদৌস বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। সেতুগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত