বাফুফের ‘কমিশন বাণিজ্য’ নিয়ে যা বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

সাফল্য নেই বলেই নেই পৃষ্ঠপোষকদের আগ্রহ। তারপরও বেসরকারী পর্যায় থেকে ফুটবলে পৃষ্ঠপোষকতা একেবারে নেই, তা বলা যাবে না। বসুন্ধরা গ্রুপ, ঢাকা ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ ও নারী ফুটবলে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। তবে বাফুফের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ফিফা ও এশিয়ান সংস্থা এএফসি’র বার্ষিক ও প্রকল্পভিত্তিক অনুদান। তবে যেখান থেকেই আসুক, এসব অর্থ ব্যবহারে বাফুফের অসচ্ছ্বতা নিয়ে সমালোচনা হয় নিয়মিত। ফিফাও কয়েক ধাপে অনিয়ম, জালিয়াতি, দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকজনকে শাস্তির আওতায় এনেছে। তাছাড়া বাফুফেতে চলে বড় রকমের কমিশন বানিজ্য। যা অজানা নয় অন্তবর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার। সোমবার বাফুফে ভবনে পরিদর্শনে এসে এসব অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলেছেন ক্রীড়াঙ্গনের নয়া অভিভাবক।

ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পর্যায় থেকে কাজ করার কথা বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘সরকারের তরফ থেকে স্পোর্টসে ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানোর জন্য আমি সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলব। বর্তমানে স্পোর্টসে যে বিনিয়োগ, সেটা খুব কম। এর পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ আনার ব্যাপারে আমাদের কাজ শুরু করতে হবে। তবে বিনিয়োগের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশটাও জরুরি। যে বিনিয়োগ করে, সেটা তো আসলে তাঁর কষ্টের টাকা। সে এমন জায়গায় বিনিয়োগ করবে, যেটা আসলে পে-অফ করবে। সবাই ক্রিকেটে ইনভেস্ট করতে চায়, ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। কিন্তু অন্য খেলায় যেতে চায় না।‘ 

বাফুফেতে কেন বিনিয়োগ আসে নার একটা ব্যাখ্যাও করেছেন আসিফ, ‘বাফুফে নিয়ে তো এমন কথাও ছিল, যে এখানে স্পনসরের ৩০ শতাংশ অর্থ কাউকে দিয়ে ৭০ শতাংশের ব্যবহার হতো। এরকম হলে তো কেউ আসবে না। বাংলাদেশের ফুটবলে যে ক্রেজ আছে, ফুটবলের পিআর ক্রিকেটের চেয়েও বেশি হওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। ফুটবলের যে ক্রেজটা প্রান্তিক পর্যায়ে আছে, সেটাকে যদি মেইনস্ট্রিম করা যায়, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, যেমন আপনি জাতীয় টুর্নামেন্টের কথা বললেন, এমন কিছুর মাধ্যমে কিন্তু এটাকে মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসা যায়। আমরা যদি লাইনআপটা ঠিক করতে পারি, আমাদের ফুটবল তো বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো করে, কিন্তু সিনিয়র পর্যায়ে গিয়ে আর পারে না।এসব ঠিক করলে আমি তো মনে করি ফুটবলেও ভবিষ্যতে ভালো কিছু সম্ভব হবে।’

বাফুফে ভবন পরিদর্শনে এসে একটা সুখবরও দিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামেক এককভাবে ফুটবলকে ব্যবহারের নীতিগত একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে আসা আসিফ বলেন, ‘মাঠের ব্যাপারে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যেটা দেখলাম, আমাদের আসলে মাঠ যথেষ্ট পরিমাণই আছে। কিন্তু মাঠের ব্যাপারে প্রপার ম্যানেজমেন্ট না থাকার কারণে বা এগুলোর যত্ন না হওয়ার কারণে, এগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। আমি দুই দিন আগেও চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে গিয়েছিলাম। কিছু সংস্কার করলেই আমি মনে করি, এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে সুন্দর ফুটবল স্টেডিয়ামে রুপ দেওয়া যায়। যেহেতু চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম আছে, আমরা ভাবছি এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে ডেডিকেটেডলি ফুটবলের জন্য বরাদ্দ দিয়ে দেব। পাশাপাশি যে মাঠগুলো আছে, সেগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রপার ম্যানেজমেন্টেরম মাধ্যমে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এখানে মাঠই যে একমাত্র প্রতিবন্ধকতা, সেটা বলা যাবে না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দিক দিয়ে ফুটবলের মাঠের ব্যাপারে যেমন অবদান ছিল, তেমনি ক্রিকেটকেও মাঠ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট নিজেরা কিছু কাজ করে সেগুলোকে খেলার উপযোগী রেখেছে।‘
 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত