ফেসবুকের হিরো থেকে জিরো ব্যারিস্টার সুমন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:৩০ পিএম

স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে দেশে যে কয়েকজন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যারিস্টার সুমন)। ফেসবুকের কল্যাণে যিনি দেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে। নানা ইস্যুতে করা তার ফেসবুক লাইভ সাদরে গ্রহণ করতেন মানুষ। নিজের এলাকায় ‍উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করে সেগুলো নিজের পেজে শেয়ার করতেন। এভাবেই তিনি নিজ এলাকা পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা তৈরি করেন। এক পর্যায়ে এই ফেসবুকের কল্যানেই তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। প্রথমবারেই হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিতও হোন।

নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এমপি হিসেবে পাওয়া সরকারি বরাদ্দের তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। এর মধ্যেই দেশে শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। আন্দোলনের শুরুর দিকে ব্যারিস্টার সুমন নিশ্চুপ থাকলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন যেহেতু উচ্চ আদালতের মীমাংসার জন্য রয়েছে তাই আর একটা মাস অপেক্ষা করার জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ এই ইস্যুতে নিজেদের মুখোমুখি না ভেবে সংযত আচরণ করতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই আড়ালে চলে যান ব্যারিস্টার সুমন। তাকে ফেসবুকে আর দেখা যায়নি। এদিকে গত ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। গতকাল হঠাৎ তিনি ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেন। তার কিছুক্ষণ পরেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ তাকে আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ফেসবুকের কল্যাণে জনপ্রিয় সুমন হিরো থেকে এখন জিরোতে বলে অনেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য করছেন।

ব্যারিস্টার সুমনের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে তিনি ফেসবুকে ভিডিও শেয়ার করা শুরু করেন। সেই থেকে তিনি নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তবে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ‘মহাসড়কের মধ্যখানেই বিদ্যুতের খুঁটি। মরতে আর কতক্ষণ! শিরোনামে একটি লাইভ করেন। ওই লাইভ মুর্হুতেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তারপর তিনি নিজ এলাকার অনিয়মসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনিয়মের চিত্র নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ করেছেন। এমনকি অনেক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করতেও তাকে দেখা গেছে।

কোটা আন্দোলন নিয়ে যা বলেছিলেন ব্যারিস্টার সুমন:


‘কোটা সংস্কার আন্দোলন যেহেতু উচ্চ আদালতের মীমাংসার জন্য রয়েছে তাই আর একটা মাস অপেক্ষা করার জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ এই ইস্যুতে নিজেদের মুখোমুখি না ভেবে সংযত আচরণ করতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ভাবমূতি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলছে দাবি করে সুমন বলেন, আমি সাবেক একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে বলবো, ছাত্রলীগ এ আন্দোলনে আরও সহনশীল ও ধৈর্যের পরিচয় দেবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো যড়যন্ত্রে যেন পা না দেয়।

একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আর একটা মাস ধৈর্য ধারণ করার আহ্বার জানিয়ে সুমন বলেন, তোমরা আর একটা মাস অপেক্ষা কর। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। বিষয়টি এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। আর একমাসের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। এ সময়টুকু তোমরা অপেক্ষা কর। এরপর যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যায় তাহলে তোমরা আন্দোলন কর। এখন আন্দোলন করে তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করো না।

আদালতে দুঃখ প্রকাশ করে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন


যুবদল নেতা ও মিরপুরের বাঙালিয়ানা ভোজের সহকারি বাবুর্চি হৃদয় মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে আইনজীবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এ সময় প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার সুমন কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তখন সুমন বলেন, আপনার সঙ্গে আলাদা করে কিছু বলব না স্যার। আপনার মাধ্যমে সব আইনজীবীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি খুব সরি স্যার।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত