লেজের আঘাতেই কুপোকাত

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:০২ এএম

বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে অলআউট করে দেওয়ার পরও মিরপুরের উইকেটে স্বস্তিতে ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ১০৮ রান তুলতেই প্রোটিয়াদের ৬ উইকেট নেই। মনে হচ্ছিল লিডটা বড় হবে না। বাদ সাধলেন কাইল ভেরাইনা আর উইয়ান মোল্ডার। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের ১১৯ রানের জুটি ক্রমশ বড় রানের বোঝা চাপিয়ে দিল বাংলাদেশের ওপর। হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতে জুটি ভাঙলেও এরপর আবার ডেন পিটের সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি ভেরেইনার। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ৩০৮ রানে, সেখানে ৭ম আর ৯ম উইকেট জুটি থেকে আসা রানের যোগফলই ১৮৫! এভাবে লেজের আঘাতেই বারবার কুপোকাত হয়েছে বাংলাদেশ, ক্রমশ ছিটকে গেছে ম্যাচ থেকে। ভালো শুরুর পর বোলাররা লেজটা কেন ছেঁটে ফেলতে পারেন না, সেই ব্যাখ্যা নেই হাসান মাহমুদের কাছে।

মাত্র এক মাস আগে, চেন্নাইতে ভারতের বিপক্ষে টেস্টেও টস জিতে বোলিং নিয়ে প্রথম দুটো সেশনে ভারতের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপের মুখে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ১৪৪ রানে ভারতের ৬ উইকেট নেই, বড় বড় নামরা সবাই ফিরেছেন সাজঘরে। উইকেটে আছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজা। তাদের ব্যাটিংয়ের হাতও ভালো, তবে নিশ্চয়ই রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের পর্যায়ে নন! কিন্তু এই দুজনেই চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন, সপ্তম উইকেটে হলো ১৯৯ রানের জুটি। তাতে বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচের লাগাম ক্রমশ ফসকে গেল, পিঠে চাপল ৩৭৬ রানের বোঝা। চিদাম্বরম থেকে শেরে বাংলা, ছবিটা বদলায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে গেলেও উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনা, পেসার উইয়ান মোল্ডার আর স্পিনার ডেন পিট; এই তিনজনের সম্মিলিত অবদানেই প্রোটিয়ারা পৌঁছে যায় ৩০৮ রানে। নেয় ২০২ রানের লিড, যার ১৮৫ রানই এসেছে ৭ম এবং ৯ম উইকেটের জুটি থেকে।

লেজ ছেঁটে ফেলতে বরাবরই অপটু বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট ম্যাচ খেলতে থাকা হাসান মাহমুদের কাছে এই অভ্যাসের কোনো ব্যাখ্যা নেই, ‘আসলে বলতে গেলে টেস্ট ক্রিকেটে এ রকম পরিস্থিতি আসে যে একটা জুটি হয়ে যায় যেকোনো সময়, এটা অহরহ হতে থাকে আমরা দেখি। এটা একটা আমাদের বিরক্তিকর...চলে আসে। ঐ মুহূর্তে আমরা চেষ্টা করি কতটুকু রান না দিয়ে বা ইকোনমিকাল বোলিং করা যায়, বাট বেসিকটা তো ধরে রাখতে হবে। চেষ্টা থাকবে উইকেট টেকিং ডেলিভারি করার, ব্যাটসম্যানকে প্রেসারে রাখার, দুপাশ থেকে পার্টনারশিপ বোলিং করার, এটাই হাতে আছে। এটাই আর কি।’ শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের উইকেট নেওয়ার জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা থাকে কি না এমন প্রশ্নে হাসানের উত্তর, ‘অবশ্যই টেলএন্ডারদের রানগুলোও তো ইমপরট্যান্ট থাকে ম্যাচের জন্য। ওদের উইকেটটাও ইম্পরট্যান্ট। চেষ্টা থাকে যে ওদের ব্যাটসম্যানদের যে বেসিকে বল করা হয় যে প্যাডে বল করা, ওদেরও (টেলএন্ডারদের) প্যাডে বল করা। তবে হয়ে যায় একটা সময়, আমরা চেষ্টা করছি, বাট হচ্ছে না। তাই বলে চেষ্টা তো ছাড়া যাবে না।’

অল্পদিনের টেস্ট ক্যারিয়ারে একাধিকবার লেজের আঘাতে দলকে কুপোকাত হয়ে যেতে দেখেছেন হাসান। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য টেলএন্ডারদের রান বিলানোর অভ্যাসটা পুরনোই। একদম প্রথম টেস্টেই, ভারতের শচিন, সৌরভ, দ্রাবিড়দের ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল আট নম্বরে নামা সুনিল যোশির। ভারতের হয়ে ১১ নম্বরে নামা জহির খানও ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ৭৫ রান। এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছেন, তবে পুরনো সেই রীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার অনভিজ্ঞ, উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে প্রথম খেলা ক্রিকেটাররাও তাই লেজের ঝাপটায় কুপোকাত করে দেন, সেটাও আবার মিরপুরে বাংলাদেশের বোলারদের চেনা কন্ডিশনেও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত