বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য প্রদর্শনী মেলা, যা খাদ্যশিল্পের বিভিন্ন উদ্ভাবন এবং প্রবণতা প্রদর্শন করে। এই মেলার আয়োজক হলো কমেক্সপোজিয়াম একটি ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইভেন্ট এবং ট্রেড শো আয়োজক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ খাদ্যপণ্য মেলা ২০২৪ আসর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য সিয়াল (SIAL) ফেয়ার সফলভাবে শেষ করল ফ্রান্স। এবারের মেলায় বিশ্বের ১৬৩ দেশ থেকে সাত হাজার এর বেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে বাংলাদেশের ওয়াক ফুড, সিটি গ্রুপ, প্রাণ, বসুন্ধরা, কাজী ফার্মস, এসিআই, আকিজ ফুড–সহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে মেলায়।
আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশি স্টল বৃদ্ধি না হলে বিশ্ব মার্কেটে বাংলাদেশি প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিংয়ে বাধার সম্মুখীন হবে।’ ইপিবিসহ ব্যক্তি উদ্যোগে কোম্পানিগুলোকে বিশ্ব মেলায় অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করে স্থানীয় বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা। মেলায় সম্ভাব্য তিন লক্ষাধিক দর্শনার্থী বিভিন্ন স্টল ভিজিট করে ।
মেলায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বেশ কিছু শিল্প গ্রুপ অংশ নিয়েছে। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা ও সুচারু মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করা ও বেকারি পণ্যের জনপ্রিয়তা অর্জন করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান অংশ নেওয়া বিভিন্ন কোম্পানির দায়িত্বশীলরা।
বাংলাদেশ মিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, এবারের খাদ্য পণ্য মেলা নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ সরকার ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে মেলায় একশত স্কয়ার মিটার বুক করা হয়েছিলো যেখানে বারোটা কোম্পানির স্টল হতো বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও ব্যবসায়িক অস্থিরতার কারণে অনেকগুলো কোম্পানি মেলায় অংশ নেয়নি। বাংলাদেশের পণ্য ফ্রান্সের এক্সপোর্ট হয় বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের পাশের দেশগুলো সমপরিমাণ এক্সপোর্ট না করেও ইন্ডিয়ার ১০০ টি পাকিস্তানের ৪৫, শ্রীলংকার ২০ টি স্টল ছিলো বিশ্ব খাদ্যপণ্য মেলায় সিয়ালে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মেলায় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্প্রীতি ইউরোপের বাজারে ভারতীয় ৫২০ টি পণ্য অবৈধ ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা অথরিটি। খাদ্যপণ্যে রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি মিলায় ইউরোপের বাজারে ভারতীয় ৫২০ টি পণ্যের বাজারজাত করণ নিষিদ্ধ করল ফুড অথরিটি।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের খাদ্য পণ্য এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে আরো বেশি সর্তকতা ও সচেতন হতে হবে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল। সিয়াল প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ওয়াক গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ওয়াক গ্রুপ ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ইউরোপিয়ানদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সদুর প্রসারী পরিকল্পনা অনুসারে কাজ শুরু করছে স্থানীয় বাংলাদেশি উদোক্তারা।’ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যদেশ গুলোতে বাংলাদেশি পণ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের আন্তরিকতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।
