শান্তর দায়িত্বে মিরাজ নাকি তিন অধিনায়ক?

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:২১ পিএম

নানামুখী চাপে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে চান নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে তার সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য এক পরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছে বিসিবি। তিনি সফল হলে তাকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাতে চায় ক্রিকেট বোর্ড। নয়তো ভিন্নভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। যদিও চুক্তি অনুযায়ী ডিসেম্বর পর্যন্ত শান্ত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত তিনি ছেড়ে দিলে কে হবেন নতুন অধিনায়ক? মেহেদি হাসান মিরাজ কী আছেন ভাবনায়? নাকি আবার তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক নীতিতে হাটবে বাংলাদেশ!

নেতৃত্বের চাপ থেকে মুক্তি নিয়ে নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে চান শান্ত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নানা মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই ভাবছেন, শান্ত নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে দায়িত্ব আসবে কি না। পাশাপাশি বিসিবি কি তিন ফরম্যাটে আলাদা অধিনায়কের নীতি গ্রহণ করবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে মিরাজ

মিরাজ বাংলাদেশ ক্রিকেটে একজন নির্ভরযোগ্য পারফর্মার। দক্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত বলে অনেকে তাকে সাকিব আল হাসানের বিকল্প ভাবেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে দলে অপরিহার্য সদস্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বয়সভিত্তিক দল থেকেই তাকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হচ্ছে। শান্তর পরবর্তী নেতৃত্বের জন্য অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন এখন তিনি।

মিরাজের কৌশলগত মানসিকতা, ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্থাশীল অবস্থান তাকে অধিনায়ক হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। টেস্ট ও ওয়ানডেতে তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স তাকে পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক নীতির সম্ভাবনা

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিভিন্ন দেশ আলাদা ফরম্যাটের জন্য আলাদা অধিনায়ক নির্বাচন করছে, যেমন ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এই নীতি গ্রহণ করলে প্রতিটি ফরম্যাটে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন অধিনায়ক বেছে নেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও এ ধরনের ব্যবস্থা ভাবতে পারে, কারণ টেস্ট, ওয়ানডে, ও টি-টোয়েন্টিতে তিনটি আলাদা মনোভাবের প্রয়োজন।

যদি তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক করা হয়, তাহলে টেস্টের জন্য একজন স্থির ও কৌশলী অধিনায়ক এবং টি-টোয়েন্টির জন্য আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতার অধিনায়ক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আর এই দুই মানসিকতার সমন্বয় আছে যার মধ্যে তাকে দেওয়া যেতে পারে ওয়ানডের নেতৃত্ব। এতে দলের সাফল্যের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে মনে করেন কেউ কেউ।

বিকল্প সম্ভাবনা

টি-টোয়েন্টিতে মিরাজ এখনও নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। ওয়ানডে ও টেস্টে নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই সীমিত সংস্করণে তাকে নেতৃত্ব দেওয়া হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়। এই ক্ষেত্রে তার কাঁধে শুধু ওয়ানডের নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে ইতোমধ্যে সহ-অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ। শান্ত পরবর্তী যুগে তাকে করা হতে এই সংস্করণের অধিনায়ক। বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকাকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে যার।

বাকি থেকে যায় টেস্ট। এই সংস্করণে হয়তোবা মুমিনুল হককে ফের অধিনায়ক করা হতে পারে। এই সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদের একজন তিনি। ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত নেতৃত্বও দিয়েছেন। তার অধীনে বাংলাদেশ জিতেছে ঐতিহাসিক মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট। তার নেতৃত্বের আমলেই বাংলাদেশের সাদা পোশাকের স্কোয়াডে পেসারদের আধিপত্য বেড়েছে। তার নেতৃত্বের যে মানসিকতা সেটার কারণেই তাকে ফের অধিনায়ক করা হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত