স্পিড বোটে সেন্ট মার্টিন, ক্রমেই বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম

 সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপর নাম ‘নারিকেল জিঞ্জিরা‘। সাগরের মাঝে হওয়ায় নাবিকরা বা সেখানকার জেলেরা পানির তৃষ্ণা দূর করতে প্রচুর নারিকেল গাছ রোপণ করেন। সম্ভবত সেখান থেকেই নারিকেল জিঞ্জিরা নামকরণ করা হয়। এই দ্বীপে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক ঘুরতে যান। দ্বীপটিতে যাওয়ার মাধ্যম ছিল ট্রলার ও জাহাজ। সাম্প্রতিক সময়ে এই রুটে জনপ্রিয় হয়েছে স্পিডবোট। স্পিডবোটে যেতে সময়ও কম লাগে। 

তবে অতি সম্প্রতি স্পিডবোট যেন এই রুটে দুঃস্বপ্নের অপর নাম হয়ে উঠেছে। স্পিড বোটে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার পরিণতি ভয়ানহ হয়ে উঠেছে।

এ মাসের ১৪ তারিখে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে যাত্রী নিয়ে ফেরার পথে স্পিড বোট উল্টে স্মৃতি নুর আলাইশা (৮) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়। সে  সেন্টমার্টিন পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।  সাগরের ঢেউয়ের কবলে পড়ে সেন্টমার্টিন থেকে আসা স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাট থেকে কোস্টগার্ডসহ একাধিক স্পীড বোট ঘটনাস্থলে গিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও স্মৃতি নুর আলাইশা নামে এক শিশুকে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের এপ্রিলের ঘটনা, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌ পথে ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি স্পিড বোট ডুবে যায়; এতে থাকা তিন শিশুসহ ১৯ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে স্পীড বোটটি রওনা দেয়। এতে চালক ও সহকারী ছাড়াও ২২ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৭ জন পর্যটক ও ৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা। গভীর সমুদ্র গোলগড়া নামক এলাকায় আসার পর ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে স্পিড বোটটির তলা ফেটে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। এ সময় কোস্টগার্ডের একটি টহলদল ও অপর একটি বোট এসে যাত্রীদের উদ্ধার করে। তবে একজন নারী যাত্রী মারা যান।

চলতি বছর জুলাইয়ে সেন্ট মার্টিন গামী একটি ট্রলার ডুবে যায়। সেটিকে উদ্ধার করতে একটি স্পিডবোট গিয়েছিল। সাগরে উদ্ধার কাজের এক পর্যায় একটি স্পিডবোট প্রচন্ড ঢেউয়ে ডুবে যায় এবং নিখোঁজ হয় উদ্ধারকারী মো ফাহাদ (২৮) ও মো. ইসমাইল (২৭)। এসময় স্পিডবোটে থাকা অপর তিনজন উদ্ধারকারী আব্দুল্লাহ, আরিফ ও উম্মত আলী বুধবার রাত ১০টার দিকে সাঁতরে শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং উপকূল দিয়ে তীরে উঠে।  দুই জনের মরদেহ পাওয়া যায়। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত