অধস্তন আদালত

ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলায় ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪৮ পিএম

অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতার প্রশ্ন তুলে রুল দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ অনুচ্ছেদ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্ট ২০১৭ সালে প্রণীত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (ডিসিপ্লিনারি) রুলস কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন। এ ছাড়া বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে সুপ্রিম কোর্টের ২০১২ সালের আদেশ প্রতিপালনে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত চেয়ে গত ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীর পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং ২০১৭ সালে প্রণীত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (ডিসিপ্লিনারি) রুলসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আবেদনের যুক্তিতে তখন বলেছিলেন, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে। একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। ১১৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এ মৌলিক কাঠামো বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির বাস্তবায়ন কার্যত আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

রিট আবেদনটির ওপর রবিবার শুনানি হয়। শুনানিকারী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘অতীতে বিচার বিভাগের পরাধীনতার কথা আমরা শুনেছি। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার দেখেছি। রাতে আদালত বসিয়ে সাজা দিতে দেখেছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় কাকে জামিন দেওয়া হবে কাকে জামিন দেওয়া হবে না, এই সবকিছু আমরা আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি। এখন এই বিভাগকে সরকার কিংবা আইন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক করাই এর একমাত্র সমাধান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের মূল বিষয়বস্তু এটাই (বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে) ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চতুর্থ, পঞ্চম এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। আদালতে আমরা বলেছি, এই ক্ষমতা কেবল সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত