পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের উত্থানটা বিস্ময়কর। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনেকে ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছেন, নিক্ষিপ্ত হয়েছেন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। আবার সেই ভাগ্যের অসাধারণ ম্যাজিকে অনেকে অর্জন করেছেন অসামান্য খ্যাতি। সময়কে পরাজিত করে হয়ে উঠেছেন সর্বকালের সেরা কিংবা আলোচিত একজন। আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। জনপ্রিয়তার জোরে দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তিনিই ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রথম প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন ইতিহাস তো বটেই সমগ্র বিশ্বেই সর্বকালের সেরা শাসক কিংবা রাজনীতিবিদের তালিকায় রয়েছে তার নাম। আব্রাহাম লিংকনের ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দারুণ শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয় তাকে। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম মহান নেতা আব্রাহাম লিংকন শুধুমাত্র তার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের জন্যই নন, বরং তার অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনের গল্পের জন্যও বিখ্যাত। একেবারে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে লিংকন পৌঁছেছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে।
লিংকনের শৈশব ছিল নিদারুণ কষ্টে ভরপুর। দরিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত ছিল তার পরিবার। বাবা মুচি ছিলেন। জুতা সেলাইয়ের কাজ করেও সংসার ঠিকমতো চালাতে পারতেন না তিনি। মাঝে মাঝে লিংকন নিজেও বাবার কাজে সহযোগিতা করতেন। এই পরিবেশেই আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠেন আব্রাহাম লিংকন। তখনো কেউ ভাবতে পারেনি, এই ছেলে একদিন ইতিহাস হবে। ইতিহাস লিখবে।
আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের একটি ছোট্ট গ্রামে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি লিংকন জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মুচি হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই লিংকনকে সবাই মুচির ছেলে বলে খ্যাপাত। সবাই তাকে নিচু দৃষ্টিতে দেখত। বন্ধুদের মধ্যে কেউই লিংকনের সঙ্গে খুব একটা মিশতে চাইত না। তবে লিংকন ছিলেন অদম্য। ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড মানসিক দৃঢ়তা ছিল তার। কোনোমতেই দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না তিনি। নিজের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে জীবনে এগিয়ে চলেন।
লিংকনের তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। স্কুলে যাওয়াটাও নিয়মিত হয়নি। কিন্তু সশিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন তিনি। বাইবেল বা শেক্সপিয়র থেকে অবলীলায় দরকারি উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে পারতেন। ইংরেজি ভাষায় যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন।
গুদামের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে পরিচয় ঘটে লিংকনের। তখন তিনি রাজনীতিবিদ হিসেবে মাত্র পরিচিতি লাভ করছিলেন। একবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বক্তৃতা দিতে শুরু করলে এক ধনী ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দেন। লোকটি তাকে বলেন, ‘লিংকন আপনি মনে হয় ভুলে যাচ্ছেন আপনি একজন মুচির ছেলে। আপনার বাবা লোকের জুতা সেলাই করে। এমনকি তিনি আমাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করে দেন।’
এ নিয়ে তখন হাস্যরসের সূচনা হয়। কিন্তু লিংকন লজ্জা পেলেন না। বরং দৃঢ়ভাবে এর জবাব দেন। তিনি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, আমার বাবা জুতা তৈরি করেন। তিনি খুবই দক্ষ একজন মুচি। কেউ কখনো আমার বাবার তৈরি জুতা নিয়ে অভিযোগ করেননি। আপনিও মনে হয় আমার বাবার তৈরি জুতা নিয়ে কোনো অভিযোগ রাখছেন না। যদি তার জুতা নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকে তাহলে মানতেই হবে তিনি সেরা। আমি আমার বাবাকে নিয়ে গর্ববোধ করি এবং আমি নিজেও জুতা সেলাই করি।’ লিংকনের এই উত্তরে সবার হাস্যরস বন্ধ হয়ে যায়। উল্টো সবাই মুগ্ধ হয়।
একটি প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় তিনি নির্বাচন কেন্দ্রে কাজকর্ম দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর নিজের অজান্তেই রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। মধুর ব্যক্তিত্ব, সহযোগিতামূলক আচরণ, স্পষ্টবাদিতার কারণে অল্প দিনেই তিনি নিউ সালেমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি পরিচিত হলেন স্থানীয় একটি সরাইখানার মালিক জেমস রুটলেজর সঙ্গে। তিনি লিংকনকে স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেন। এর মধ্যেই ইলিনয় রাজ্যের প্রাদেশিক নির্বাচন শুরু হয়। কয়েকজনের উৎসাহে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন লিংকন। কিন্তু রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার কারণে তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন। বেকার হয়ে পড়েন। এরপর বাধ্য হয়ে নিউ সালেমে পিয়নের চাকরি নেন। ১৮৩৪ সালে আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এবার তিনি জয়লাভ করলেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাকে যেতে হয় ইলিনয়ে।
পরিষদের কাজকর্মের অবসরে তিনি আইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজের অনুমতি পান। অল্প দিনেই লিংকন আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। একটি বড় কারণ ছিল তার সততা, নির্লোভ মন। তিনি কখনো কোনো অন্যায়কে মেনে নিতেন না। মিথ্যা মোকদ্দমায় তাকে নিযুক্ত করতে চাইলে তিনি সেটা ফিরিয়ে দিতেন। এরপরও আইনজীবী হওয়ার চেয়ে রাজনীতির প্রতিই লিংকন ক্রমে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।
রাজনৈতিক অভিপ্রায় জেগে ওঠার পর লিংকন দেখেন, তিনি তার কথার শক্তি দিয়ে তার প্রতিপক্ষদের কাবু করে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। অল্প দিনের মধ্যেই ইলিনয়ের রাজনৈতিক জগতে নিজেকে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন। অবশেষে ১৮৪৭ সালে ওয়াশিংটন পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্রত্যক্ষ করলেন ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ হোয়াইট হাউসের অদূরেই গড়ে উঠেছে নিগ্রো দাসদের খোঁয়াড়।
বিভিন্ন জায়গা এবং দেশ থেকে নিগ্রো দাসদের এখানে নিয়ে আসা হতো তারপর দক্ষিণের বাজারে চালান করে দেওয়া হতো। দীর্ঘদিন ধরে লিংকন ছিলেন এই দাস প্রথার বিরোধী। লিংকন পার্লামেন্টের সভায় কলম্বিয়া রাজ্যে দাস ব্যবসা বন্ধ করার জন্য একটি বিল উত্থাপন করেন। সম্মিলিত বিরোধিতায় সেই বিল অগ্রাহ্য হয়। ব্যর্থ হয়ে লিংকন ফিরে যান স্প্রিং ফিল্ডে। আবার আইন ব্যবসা শুরু করেন। রাজনীতিতে আর ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। কিন্তু দাস প্রথার বিরুদ্ধে তিনি সরব হয়ে উঠেন ঠিকই।
১৮৫৪ সালে নতুন রিপাবলিকান পার্টি গঠিত হয়। এই দলের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। তিনি এই দলের রাজনৈতিক আদর্শের কথা এত সুস্পষ্ট ও যুক্তিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেন, সব দেশ তার বাগ্মিতায় মুগ্ধ হয়। এর অল্প দিনের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন লিংকন।
দক্ষিণের রাজ্যগুলো দাসপ্রথার সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি তুলতে আরম্ভ করে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য ডগলাস প্রবলভাবে এই দাস প্রথা সমর্থন করতে আরম্ভ করেন। দক্ষিণের রাজ্যগুলো যখন বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য জোরালো দাবি পেশ করে লিংকন বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেন, একটি রাষ্ট্র কখনো দ্বিধাবিভক্ত হতে পারে না। আমেরিকা অবশ্যই এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এই সময় রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য লিংকনের নাম ঘোষণা করা হয়।
রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন লিংকন আর তার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক দলের হয়ে প্রার্থী হন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডগলাস। ডগলাসকে হারিয়ে লিংকন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৮৬১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিংকন স্প্রিংফিল্ড ছেড়ে ওয়াশিংটনের দিকে রওনা হন। সঙ্গে স্ত্রী মেরি। তার এত দিনের স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এই জয় আমৃত্যু লিংকনের সব মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়।
১৮৬৩ সালের জুলাই মাসের যুদ্ধের প্রায় চার মাস পর ১৯ নভেম্বর পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে এক স্মরণসভায় সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন লিংকন। বক্তৃতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফটোসাংবাদিক এবং ফটোগ্রাফাররা ঠিকমতো ক্যামেরা সেট করার আগেই মাত্র তিন মিনিটে ২৭২ শব্দের বক্তৃতা শেষ করেন লিংকন।
তিনি তার ভাষণে বলেন, Government of the People , by the People, for the People. অর্থাৎ, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য’। যা গণতন্ত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা হিসেবে আজও বিবেচিত। এই বক্তৃতার পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত জনতা। এমনকি হাততালি দিতেও ভুলে যান তারা। অনেকের ক্যামেরা সচল করার আগেই শেষ হয়ে যায় তিন মিনিটের বক্তৃতা। প্রচলিত নিয়মে অনুষ্ঠানের মূলবক্তা ছিলেন পেশাদার এবং বাকপটু অ্যাডওয়ার্ড এভার্ট, যিনি প্রায় দুই ঘণ্টা বক্তৃতা করেন। অ্যাডওয়ার্ড এভার্ট দুঃখ করে বলেন, ‘আমি যদি আমার দুই ঘণ্টার বক্তৃতায় লিংকনের তিন মিনিটের বক্তৃতার মূল কথার কাছাকাছি কিছু বলতে পারতাম, তাহলে আমার জীবন ধন্য হতো।’
১৮৬৩ সালের ১ থেকে ৩ জুলাই গেটিসবার্গে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হলে এক ধর্মযাজক কথা প্রসঙ্গে লিংকনকে বলেছিলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আসুন, আমরা বিশ্বাস রাখি এবং প্রার্থনা করি যে, এই দুঃসময়ে ঈশ্বর আমাদের পক্ষে থাকবেন।’ উত্তরে লিংকন বলেন, ‘ঈশ্বর নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। কারণ আমি জানি যে, ঈশ্বর সব সময় ন্যায় ও সত্যের পক্ষেই থাকেন। এর চেয়ে বরং আসুন, আমরা প্রার্থনা করি, এই জাতি যেন সব সময় ঈশ্বরের পক্ষে থাকতে পারে।’
দাস প্রথা সমর্থনের ব্যাপারে ইতিপূর্বে উত্তর ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মতবিরোধ ছিল। দক্ষিণের রাজ্যগুলো স্থির করে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সাউথ ক্যারোলিনার নেতৃত্বে আলাবামা, ফ্লোরিডা, মিসিসিপি, লুজিয়ানা, টেক্সাস ও জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ঘোষণা করে এক পৃথক যুক্তরাষ্ট্র স্থাপন করে। এই নব ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেফারসন ডেভিসের নাম ঘোষণা করা হয়।
লিংকন চেয়েছিলেন দাসপ্রথা নির্মূল হোক, কিন্তু দেশ বিভক্ত হলে কখনই তার সেই ইচ্ছা পূর্ণ হবে না। তাই নিজের সীমিত শক্তিকে সম্বল করেই দক্ষিণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। শুরু হলো আমেরিকার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি লিংকন চূড়ান্তভাবে ক্রীতদাসদের মুক্তি ঘোষণায় স্বাক্ষর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনত ক্রীতদাস প্রথার অবসান ঘটে।
এই ঘোষণায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আব্রাহাম লিংকন আদেশ দিচ্ছি এবং ঘোষণা করছি যে, উল্লিখিত রাষ্ট্রগুলোতে ক্রীতদাসরূপে যারা বন্দি রয়েছেন তারা এখন থেকে স্বাধীন মুক্ত।’ যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণের সেনাপতি লির অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য উত্তরাঞ্চলের সেনাবাহিনী যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে পরাজিত হতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর যুদ্ধ শেষ হয়। লি আত্মসমর্পণ করেন। জিতে যান লিংকন। ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন তিনি। শত শত মানুষের অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যান তিনি।
দাস প্রথা বিলুপ্ত। যুদ্ধজয়ী লিংকন সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। ওয়াশিংটনে তখন জনগণের ভিড় কমতেই একে একে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা এলেন। এদিকে রাতের বেলায় থিয়েটারে যাওয়ার কথা। অনেকটা মেরির অনুরোধেই রাজি হন লিংকন। থিয়েটার হলে পৌঁছাতেই সব দর্শক তাকে অভিনন্দন জানাল। নিজের আসনে গিয়ে বসলেন লিংকন আর মেরি। দুই ঘণ্টা কেটে গেছে, বক্সের দরজার সামনে যে প্রহরী ছিল তার কাছে একজন লোক এসে বলল প্রেসিডেন্টকে একটা সংবাদ দিতে হবে।
রক্ষী ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিতেই আততায়ী ভেতরে ঢুকেই লিংকনের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। চেয়ারের ওপর লুটিয়ে পড়েন লিংকন। লিংকনকে ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়া হয় থিয়েটার হলের সামনের একটা বাড়িতে। পরদিন ১৮৬৫ সালের ১৬ এপ্রিল সকাল ৭টায় অজ্ঞান অবস্থায় লিংকন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় লিংকনের বয়স হয়েছিল ছাপ্পান্ন বছর। প্রেসিডেন্ট লিংকন খুন হন আততায়ী উইলকিস বুথের গুলিতে।
আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন মহান নেতা, একজন দার্শনিক এবং একজন মানবাধিকারকর্মী। তার জীবন কেবলই ইতিহাসের পাতায় আবদ্ধ নয়, বরং তার জীবন আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।
মুসলিমদের ভোট পেতে ট্রাম্পের নতুন চমক
ছাত্রলীগ নেত্রী প্রিয়াকে পিটিয়ে পুলিশে দিল ছাত্রীরা
‘সাহস থাকলে জ্বালিয়ে দেখা’ বলায় পেট্রোল পাম্পে আগুন দিলেন যুবক
ভারতীয় অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র