স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠনের দাবিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা রাজধানীর সায়েন্সল্যাবের সড়ক অবরোধ করে রাখেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কর্মসূচি বুধবার (আজ) ‘ব্লকেড’ ডাক দিয়ে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সায়েন্সল্যাব মোড় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই যানজটের প্রভাব রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পড়ে।
সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের অন্যতম ছাত্র প্রতিনিধি ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বারী সাগর বলেন, ‘সাত কলেজকে ঢাবির অধিভুক্তি থেকে মুক্তি দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছি আমরা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু সরকার তার কর্ণপাত করেনি। যেখানে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করছেন, সেখানে সরকার সাত কলেজের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এটা শিক্ষার্থীর দাবির সঙ্গে উপহাস। এমন উপহাসমূলক কমিটি শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে আবার কমিশন গঠন করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন।’
ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা বেগম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটা যৌক্তিক দাবিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না; যা খুবই দুঃখজনক। আমি একটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিগত সরকার যেমন কোটা সংস্কারের মতো একটা যৌক্তিক দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে কূপে পড়েছে, এ সরকার যেন শিক্ষার্থীদের সে রকম যৌক্তিক দাবির সঙ্গে তামাশা না করে।’
এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে ব্লকেড কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফল হয়েছে। আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে একই সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত আমলাতান্ত্রিক কমিটির সভাও হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সারা দিন আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চললেও এ সভা থেকে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। আমাদের দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও আমরা অবগত নই।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধির সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠন করার দাবিতে বুধবার বেলা ১১টায় আবারও সায়েন্সল্যাব মোড়ে শান্তিপূর্ণ ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হবে। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের মতো ব্লকেড কর্মসূচি এখানে সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আন্দোলনরত সরকারি সাত কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
দুর্বৃত্তের হামলায় নিখোঁজ, পদ্মায় মিলল আরেক এএসআই এর লাশ
টাকা পেলে মাদক কারবারিদের সহায়তা, না দিলে ক্রসফায়ার