বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন উত্তরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় উত্তরার সকল ট্রাফিক পুলিশ বক্স। ভাঙচুর করা হয় সরকারি সকল দপ্তর। এছাড়া ৫ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানা আগুন দিয়ে পুরো ভবন জ্বালিয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা।
ওই সময় ছাত্র-জনতা ওপর ডিসির নির্দেশে ব্যাপক নির্যাতন চালায় পুলিশ। ছাত্র-জনতা আহত ও নিহত হওয়ায় আত্মগোপনে চলে যায় উত্তরা উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আশরাফুল আজিম, উত্তরা পশ্চিম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান আলীসহ কয়েকটি থানায় ওসি। এতে এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে উত্তরা বিভাগের পুলিশের কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়।
৫ আগস্ট পর উত্তরায় পুলিশিং কার্যক্রম ফেরাতে উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয় রওনক জাহানকে। ডিএমপির ক্রাইম ডিভিশন এই প্রথম বারের মতো কোনো নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়ন দিয়েছে প্রশাসন। রওনক জাহান ২৭ বিসিএসের একজন মেধাবী কর্মকর্তা। উত্তরা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওই সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় এখন সফলতার মুখ দেখেছে থানা পুলিশ।
উপ-পুলিশ কমিশনার রওনক জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর থানা কার্যক্রম চলমান রাখতে প্রতিদিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেছি। থানাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না। প্রতিটা পুলিশ সদস্যের মনোবল চাঙ্গা করতেই অনেকটা সময় চলে যায়। গত মাসের তুলনায় আমাদের থানাগুলো বর্তমানে কার্যক্রম খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার অফিসারদের একটাই কথা বলি। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে। আমরা পুলিশ আমাদের কোনো দল নেই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া তিনি বলেন, এখনো থানা গুলোর লোকবল সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ লোকবল পেলে আমাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে পারবো।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথমে আর্মিদের সাথে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করলেও বর্তমানে পুলিশ নিজস্বভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর প্রথমবারের মতো ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া প্রতারকদের ধরতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া উত্তরা থেকে চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অপহরণকারীসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে থানা পুলিশ।
অন্যদিকে ট্রাফিক সদস্যরাও ফিরেছেন তাদের নিজস্ব গতিতে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ফেরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের সদস্যরা। পুড়িয়ে দেওয়া ট্রাফিক বক্স গুলো এখনো বসার উপযোগী করে তুলতে না পারায় পুলিশ বক্স এ বসতে পারছেন না ট্রাফিক সদস্যরা। যদিও তৎকালীন সময় অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, বক্স গুলোর ক্ষতিপূরণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ মো. ফজলুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান সময় সড়কে যানবাহনের চেয়ে অবৈধ অটো রিকশা অনেক বেশি। প্রতিটা মোড়ে মোড়ে মহাসড়কে অটো রিকশা বেশি হওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য প্রয়োজন গণ সচেতনতা এবং সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির ভেতরে অক্টোবর মাসে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সাড়ে আট হাজারের বেশি। এ যাবত কালের এক মাসের সর্বোচ্চ মামলা। ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের প্রত্যেকটা সদস্য আন্তরিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। আপনারা জানেন যে গত ২১ অক্টোবর থেকে আমাদের ট্রাফিক পক্ষ ২০২৪ শুরু হয়েছে যা আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এছাড়া আমাদের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ট্রাফিক সচেতনমূলক প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সাথেও চলছে মতবিনিময়।
জাতীয় পার্টির অফিসে আগুন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টিকে 'নিশ্চিহ্ন' করতে বিজয়নগর যাচ্ছে সারজিস-হাসনাতরা
মোস্তাফিজকে ছাড়ল চেন্নাই, তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাখল না অধিনায়ককে