কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে লিটন মিয়া নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক। ১৫/২০টি বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের ভৈরব ও কুলিয়ারচরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের স্বজনরা। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের মাঝে ৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মেদ।
বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (তদন্ত) মো. শাহিন। তবে পরবর্তী অপ্রীতিকর অবস্থা মোকাবেলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩১) অক্টোবর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার বাড়ির বর্তমান চেয়ারম্যান সরকার সাফায়েত উল্লাহ ও বিএনপি সমর্থিত কর্তা বাড়ির সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জুল হকের লোকজনের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে গ্রামের বিবদমান সরকার বাড়ি ও কর্তাবাড়ির লোকজনের মধ্য এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইকবাল হোসেন নামে সরকারবাড়ির একজন নিহত হন। আহত হন নারী-পুরুষসহ উভয়পক্ষের শতাধিক লোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুদীর্ঘ অর্ধশত বছর ধরে সরকার বাড়ি ও কর্তাবাড়ির সমর্থকদের মধ্য বিবাদ চলে আসছে। যার কারণে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে দুই বংশের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ফলে ইতোমধ্যে উভয়পক্ষের ১০/১২জন নিহতসহ আহত হয়েছেন শত শত লোকজন। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
গত জাতীয় নির্বাচনের পর দুই বংশের সংঘর্ষে কর্তা বাড়ির নাদিম কর্তা নামের এক যুবক নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকে মৌটুপী গ্রামে দুপক্ষের মধ্য প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। এতে করে সরকার বাড়ির সমর্থক তিনজন ও কর্তা বাড়ির সমর্থক দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার টেকসই হবে না: মির্জা ফখরুল
জাপা অফিসে আগুন, যা জানালেন মহাসচিব
জাতীয় পার্টির অফিসে আগুন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া