হতদরিদ্রের গরু বেচে জরিমানা নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১০:০৮ এএম

বাড়িতে অশালীন কার্যকলাপের অভিযোগে তুলে হতদরিদ্র এক ঝাড়ু বিক্রেতা জাহাম্মদ আলীকে সালিশের মুখোমুখি করে তার শেষ সম্বল একটি গরু বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করেছেন বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা। 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওর্য়াডের গলদাপাড়া গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। দুদিন আগে এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল শনিবার সবার নজরে আসে বিষয়টি। 

জাহাম্মদ আলী ওই গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে। তিনি ঝাড়ু বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম বাবলু সরকার। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়রে ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জাহাম্মদ আলী মুন্সি বলেন, ‘দুদিন আগে রাতে আমার বাড়িতে দুইজন নিজস্ব আত্মীয় বেড়াতে আসেন। এরপর রাত প্রায় ১১টার দিকে বিএনপি নেতা বাবলু সরকারের নেতৃত্বে বেশকিছু লোকজন আমার বাড়িতে আসেন। তারা এসে আমার বাড়িতে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ হয় বলে অভিযোগ তোলেন। পরে আমাকে জোর করে তাদের সঙ্গে নিয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘এরপর পাশের তারকাঁটা বাজারে নিয়ে আমাকে বেদম মারধর করেন। সেখানে সালিশ বসিয়ে আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিএনপি নেতা বাবলু সরকার ও সালিশে থাকা লোকজন। কিন্তু এত টাকা আমার কাছে না থাকায় বাবলুর লোকজন আমার বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে গরু নিয়ে বিক্রি করে দিয়ে টাকা ভাগ করে নেয়।’

কন্নাজড়িত কণ্ঠে জাহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘তাদের জোরের সামনে আমি অসহায় ছিলাম। তাদের যা মন চায় তারা তাই করেছে। আমার একটি মাত্র সম্বল এ গাভী গরুটি। এটাও তারা বিক্রি করে নিল।’  

জাহাম্মদ আলীর স্ত্রী জামেনা খাতুন বলেন, ‘তাদের হাত-পা জড়িয়ে ধরেই রক্ষা করতে পারিনি গাভী গরুটি। চোখের সামনে নিয়ে গেছে লালনপালন করা গরুটি। আমার মা মরা নাতিটি এখনো গরুর জন্য কান্না করে। গরু না দিলে বাড়িঘর ভেঙে ফেলবে এমন হুমকি দিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ তাই তাদের কথা মেনে নিছি।’ 

এদিকে গরু ক্রেতা যুগিরসিট গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘জাহাম্মদ আলী মুন্সি ওইদিন রাতে নিজেই গরুটি বিক্রির জন্য আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন। গরু কেনার মত আমার কাছে নগদ টাকা না থাকায় ফিরিয়ে দিতে চাইছিলাম। কিন্তু জাহাম্মদ আলী মুন্সি জীবন বাঁচানোর জন্য তার গরুটি বিক্রি করা জরুরি বলে জানান। এরপর ধারদেনা করে ৩৬ হাজার টাকায় গরুটি কিনে নিয়েছি। গরু নিয়ে অন্য কি সব ঝামেলা তা আমার জানা নাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা বাবলু সরকার বলেন, ‘ওই বাড়িতে (জাহাম্মদ আলী মুন্সির বাড়ি) অচেনা ছেলে-মেয়ে থাকতো। অসামজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়। এর বেশি আমি কিছুই জানিনা। জরিমানার কোনো ঘটনা নেই। সালিশও করা হয়নি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুমিনুল কাদির বলেন, ‘এমন খবর পেয়েছিলাম। পরে তারা আমার কাছে আসলে ছেলের বাবার উপস্থিতিতে একটি বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। তবে গরু বিক্রি করে জরিমানা পরিশোধ করা হয়েছে এমন খবর জানিনা।’  

কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমদাদ হোসেন মন্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে আমাদের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহদাদ বিস্তারিত জানিয়েছেন। সালিশ শেষে গরু বিক্রির বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে। আমরা তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাইকমান্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারাও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা শুনেছি। তবে কেউ এখনো আমাদের অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত