নির্বাচনে না জিতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন যিনি

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:২৪ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বলা হয়ে থাকে। যদিও অনেকের মতে, বর্তমানে চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিং পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া কোনো সহজ কথা নয়। তবে ইতিহাসে এমনও একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট উভয় পদে কোনো নির্বাচন ছাড়াই মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি আমেরিকার ৩৮তম প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড। যিনি কোনো নির্বাচন ছাড়াই এই দুটি পদেই দায়িত্ব করেছিলেন।

১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে মিশিগানের রিপাবলিকান পার্টির নেতারা ফোর্ডকে মার্কিন সিনেটের পদ গ্রহণ করার আহ্বান করেন। যে পদকে সাধারণত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ফোর্ড তা গ্রহণ না করে, তার ইচ্ছা স্পিকার অফ হাউজ হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তার মতে, স্পিকারের পদটি ওই সময়ে তার জন্য সর্বোচ্চ অর্জন হবে। 

এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তার সর্বোত্তম প্রচেষ্টা চালানোর পরেও ফোর্ড স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হন। অবশেষে, তিনি তার স্ত্রী বেটিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, স্পিকারের পদ থেকে যদি তাকে ১৯৭৪ সালে আবারও বাদ দেয়, তবে তিনি ১৯৭৬ সালে কংগ্রেস এবং রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেবেন।

সেই অবসরের চিন্তা তো দূরে থাক, জেরাল্ড ফোর্ডই প্রথম ব্যক্তি যিনি কোনো পদে নির্বাচিত না হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট উভয় পদের দায়িত্বই পালন করেছিলেন।

১৯৭৩ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট স্পিরো অ্যাগ্নিউ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্যাক্স ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের ফেডারেল অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ২৯ হাজার ৫০০ ডলার ঘুষ গ্রহণের কারণে পদত্যাগ করেন। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে শূন্যতার বিধানে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি নিক্সন তৎকালীন হাউস মাইনরিটি নেতা জেরাল্ড ফোর্ডকে অ্যাগ্নিউয়ের স্থলে মনোনীত করেন। অবশেষে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেন।

তিনি যখন রাষ্ট্রপতি নিক্সনের মনোনয়ন গ্রহণ করতে রাজি হন, তখন স্ত্রীকে বলেছিলেন, ভাইস-প্রেসিডেন্সি তার রাজনৈতিক ক্যরিয়ারের জন্য চমৎকার বিদায় হবে। কিন্তু তারা তখনও জানতেন না, তার রাজনৈতিক ক্যরিয়ারের আরও অনেক কিছুই বাকি আছে।

ফোর্ড পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তাতে হেরে যান। আমেরিকার জনগণ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং ওয়াশিংটন ডিসি-তে নবাগত জিমি কার্টারকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।

হোয়াইট হাউজে অনেক নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করলেও জেরাল্ড ফোর্ড তার অবিচ্ছিন্ন মধ্য-পশ্চিমা মূল্যবোধের মাধ্যমে সততা, কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আমেরিকানদের সরকারের প্রতি তার বিশ্বাসকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তবে নিক্সনের বিতর্কিত ক্ষমাপ্রাপ্তি তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত না করতে দেশটির জনগণকে প্রভাবিত করেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত