এবারও দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা, প্রথম পর্ব শুরু ৩১ জানুয়ারি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০৫ এএম

৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারও দুই পর্বে হবে ইজতেমা। আগামী বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তাবলিগ জামাতের আয়োজনে বিশ্ব ইজতেমা হবে। ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি। এই পর্ব শেষ হবে ২ ফেব্রুয়ারি। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে ৯ ফেব্রুয়ারি গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ধর্ম, তথ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, বিদেশিদের ভিসা প্রদানসহ ইজতেমার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

জানা গেছে, ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বিশ্ব ইজতেমা। দেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেন। তাছাড়া সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিতে আসেন। তাবলিগ জামাতের বিরোধের কারণে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। অন্যটির নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের অনুসারী গ্রুপ। এবার দুই পর্বে না করে একত্রে ইজতেমা করতে চেয়েছিল সরকার। এজন্য তাবলিগ জামাতের দুপক্ষকে নিয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডাকা ওই বৈঠকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অংশ নিলেও মাওলানা জুবায়েরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হননি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিশ্ব ইজতেমার তারিখ জানিয়ে বলেন, ইজতেমার প্রথম পর্ব ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কে, কোন তারিখ পাচ্ছেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ হস্তান্তর ও প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, বিদেশি অতিথিদের ভিসা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ, জরুরি দুর্যোগে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ব্যবস্থা, আখেরি মোনাজাতের দিন যানজট নিরসনসহ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তাবলিগ জামাতের সাদপন্থি কর্মী মুয়াজ বিন নূর সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুবায়ের সাহেবের কর্মীরা আসেননি। তারা সরকারকে গুরুত্ব দেয়নি। তারা এখানে না এসে মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। তারা রাজপথ থেকে সিদ্ধান্ত চান। প্রতি বছর বলা হয় পরের বার একবারে ইজতেমা হবে, কিন্তু হয়নি। এবারও তাই হচ্ছে। গত কয়েক বছর সাদ সাহেবকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এবারও যদি তাকে ভিসা না দেওয়া হয়, তবে আদায় করতে যা করতে হয়, তা-ই করা হবে। এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা কোনো বৈষম্য চাই না।’ সাদপন্থিরা প্রথম দফায় ইজতেমা করতে চায় দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাদ সাহেবকে অতিথি হিসেবে আনা হবেই।’

বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনিদের পাশে আছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনগণের পাশে আছে। তাদের ন্যায্য দাবিকে বাংলাদেশ সবসময় সমর্থন করে আসছে। আমরা ফিলিস্তিনির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে। গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনি ছাত্রছাত্রীদের ভিসা ইস্যুকরণের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ, ভিসা সহজীকরণ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থনসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য আসা-যাওয়া করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১২টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৭ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করছে। আমরা চাই বাংলাদেশে আরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করুক। কিন্তু তা যেন হয় দূতাবাসের মাধ্যমে, যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ সরকারসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত