আর মাত্র কিছু সময় বাকি। এরপরই নির্ধারিত হবে কমালা হ্যারিস, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প- কে হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? সেটি নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা, মেলানো হচ্ছে নানান সমীকরণ।
বেশিরভাগ মানুষের কাছে ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিত হলেও এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের পাশাপাশি আইনসভার সদস্যদেরকেও বেছে নিবেন মার্কিন নাগরিকরা। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন নাগরিকদের বাইরেও সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নজর রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নির্বাচনের দিকে।
কখন শুরু হবে ভোটগ্রহণ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে এবারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচই নভেম্বর।
সেদিন ভোটারদের রায়ে যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, তিনিই ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে পরবর্তী চার বছরের জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় (বাংলাদেশের সময় সন্ধ্যায়) ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে। তবে ভোটগ্রহণ শুরুর সময়কাল প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই ভিন্ন ভিন্ন। ভোট গ্রহণ চলবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় ধরে।
৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাচনের দিন সশরীরে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
নির্বাচনে কারা ভোট দিতে পারেন?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শুধু দেশটির নাগরিকরা ভোট দিতে পারেন। তাদের বয়স নির্বাচনের দিন বা তার আগেই ১৮ হতে হবে। পাশাপাশি, আবাসন সংক্রান্ত কিছু শর্ত মানতে হবে, যা একেক অঙ্গরাজ্যে একেক রকম।
নিবন্ধন করেছেন কতজন ভোটার?
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১৮ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকান ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ, ভোট দেওয়ার বয়স হয়েছে এমন প্রতি ১০ আমেরিকানের মধ্যে ৮ জনই নিবন্ধন করেছেন।
২০টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভোটের দিনও নিবন্ধন করা যায়।
পাশাপাশি, বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগেও ভোটের ব্যবস্থা থাকে। ভোটাররা চিঠির মাধ্যমে পূরণকৃত ব্যালট পেপার পাঠাতে পারেন অথবা কোনো সুনির্দিষ্ট ড্রপ-অফ স্থানে তা জমা দিয়ে যেতে পারেন।
বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটেরও ব্যবস্থা থাকে। আগাম ভোটদানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বা ডাকযোগে এরই মধ্যে ৮ কোটির বেশি আমেরিকান ভোট দিয়েছেন।
কখন জানা যাবে ফলাফল
৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সশরীরে ভোট দেওয়ার পালা শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
কারণ অঙ্গরাজ্যগুলোর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। কিন্তু যখন কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ভোটগণনা শুরু হয়, তখন আলাস্কা বা হাওয়াইয়ের মতো কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা চলতে থাকে।
কোন কোন নির্বাচনে দ্রুত ফলাফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, আবার কখনো কখনো সময় লাগে।
প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার নিজ নিজ আইন অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সময়সীমা ঘোষণা করা আছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যালট গণনা ও কখন চিঠির মাধ্যমে আসা ভোট গ্রহণ করা যাবে, সে সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আইন রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের চূড়ান্ত ফলাফল নির্বাচনের পরের দিন বা তারও পরে জানা যাবে।
২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে বেশ কয়েক দিন লেগে গিয়েছিল। এবারও এমন হতে পারে যে নতুন প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ীদের নাম জানতে ৫ নভেম্বরের বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন দেখা দেবে।
তবে পরদিন নাগাদ বিজয়ী প্রার্থীর সম্পর্কে একটি ধারণা পরিষ্কার হতে শুরু করে।
সূত্র: বিবিসি ও ডয়চে ভেলে
ভোট যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা দুনিয়ার
কার দখলে যাবে হোয়াইট হাউজ?
তামিলনাড়ুতে কমলার জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন