কুমিল্লা

আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে একটি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত ২টার দিকে উপজেলার ঢালুয়া ইউপির মন্নারা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার হাজী বাড়ির আগুনে পুড়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩-১৫ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে তাদের দাবি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পার্শ্ববর্তী বটতলী ইউপির জিনিয়ার গ্রামের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন তাদের বসত ঘরে আগুন দিয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মন্নারা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার হাজী বাড়ির মৃত. তাজুল ইসলামের ছেলে মিলন মিয়ার বাড়ির বসত ঘরে আগুন লাগে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে। আশেপাশের লোকজন আসার আগেই মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ঘরে থাকা দলিল, নগদ টাকা, স্বর্ণ ও আসবাবপত্র সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ১৩-১৫ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতির হয়। বর্তমানে তাদের কোনো ঘর না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হবে তাদের।

ভুক্তভোগী মিলন মিয়া বলেন, চাকরির সুবাদে তিনি ঢাকায় রয়েছেন। রাতে ফোন আসে তার বসত ঘর আগুন লেছে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় ঘরে কোনো মানুষ ছিল না। পার্শ্ববর্তী বটতলী ইউপির জিনিয়ারা গ্রামের জাকির হোসেনের সঙ্গে তার ভায়রা ভাই সেলিম মিয়ার মারামারি হয়। তিনি ঘটনাটি মীমাংসা করতে সেলিম মিয়াকে আইনি সহযোগিতা করেন। এ শত্রুতার জের ধরে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন তার ঘরে আগুন দিয়েছেন। তার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হবে তাকে।

মিলনের স্ত্রী মুন্নী বেগম বলেন, তার স্বামী মিলন চাকরির সুবাদে ঢাকায় রয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ঘরের তালা বন্ধ করে তিনিও বাপের বাড়ি চলে যান। রাত ২টার দিকে খবর আসে তাদের ঘরে আগুনে লাগছে। দ্রুত এসে দেখেন মুহূর্তের পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিছুই বাহির করতে পারিনি। তার ঘরে থাকা ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা সহ দলিলপত্র, ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট বোন মুক্তা বেগমের স্বামী সেলিম মিয়া সাথে একটা ব্যানার লাগানো নিয়ে ২৯ অক্টোবর জিনিয়ার গ্রামের ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের সঙ্গে মারামারি হয়। এ নিয়ে তার স্বামী মিলন মিয়া সেনা সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। তার জের ধরে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন আমাদের ঘরে আগুন দেয়। এ ঘটনার সুস্থ বিচারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ। মিলন মিয়াকে তিনি চিনেন না। তার বাড়ি কোথায় এটিও জানেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে মান্নারা গ্রামে আগুন লাগার বিষয়টি শুনেছেন। আর এটি তাদের ইউপির ঘটনাও না। আর এমনই একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে হবে না কি?

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, এ ঘটনায় কেউই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত