এক দিন বাদেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’। যা দিয়ে অনেক দিন পর ফিরছেন ‘দেবী’ খ্যাত নির্মাতা অনম বিশ্বাস। এর মধ্যে সিরিজ, সিনেমা নির্মাণ করলেও রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়।
ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে সিরিজটির ট্রেলার। ট্রেলার মুক্তির পর অন্তর্জালে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে এর নির্মাণশৈলী ও অভিনয়শিল্পীরা। ‘রঙিলা কিতাব’-এ জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও পরীমণি।
দেবীর পর এবার রঙিলা কিতাব, যা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। অনম বিশ্বাস কি বই থেকে গল্প নিতে পছন্দ করেন, এমন প্রশ্নে নির্মাতার উত্তর ‘বই পড়াটা আমাদের জেনারেশনকে ডিফাইন করে। আমার আশপাশের সবাই বই পড়ত। বই পড়াতাম আর কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতাম। এই হারিয়ে যাওয়াটা একটা নেশার মতো, বারবার হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। আমি লাকি যে, আমার খুব পছন্দের দুইটা বই থেকে আমি সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ বানাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবারও বানাব। বারবার বানাব।’
বই থেকে কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বাধীনতা থাকে বলে মনে করেন অনম বিশ্বাস। কারণ হিসেবে জানালেন, ভিজ্যুয়ালি তো পরিচালক নিজেই ঠিক করছেন যে ক্যারেক্টার, স্পেস এবং ঘটনাপ্রবাহ কেমন হবে।
এরপর বললেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ-এর ‘দেবী’ নিয়ে কাজ করার সময় একজন হুমায়ূন ভক্ত বললেন, মিসির আলীর দাড়ি না থাকলে দর্শকরা প্রেস ক্লাবে সমাবেশ করবে আমাদের বিরুদ্ধে। এই কথা শুনে আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম কারণ আমাদের মিসির আলী চঞ্চল ভাইয়ের দাড়ির ঘনত্ব যতখানি তাতে সেটাকে অনেকে হয়তো ‘মিসির আলীর দাড়ি’ বলে নাও মেনে নিতে পারেন। তারপর আমরা অভিনেতার যতটুকু দাড়ি আছে সেটাতেই থাকলাম, নকল দাড়ি পরানো হলো না, এমন একটা ফিলিং থেকে যে মিসির আলী মেকআপ না নিক, সে যা তাই-ই। বইতে মিসির আলী থাকেন কাঁঠালবাগান ঢালে আর আমাদের মিসিরকে সেট করা হলো বেগুনবাড়ি বস্তিতে একটা বাঁশ-কাঠের বাসার ভেতর। তো তার মানে ভিজ্যুয়ালি তো বইকে ইন্টারপ্রেট করার পুরো স্বাধীনতাই থাকে। কিন্তু ঘটনাগুলো বা নতুন ঘটনায় ডায়লগ লেখার সময় সেনসিটিভলি করা দরকার। এমন কিছু করা ঠিক না যে, যাতে মনে হয় এই বই অ্যাডাপ্ট না করে একবারে নতুন কিছু ভাবলেও তো হতো। তো ঘটনার অ্যাডাপটেশন এবং ডায়লগ রাইটিং আমি সেনসিটিভলি করার চেষ্টা করি। নিজে হুমায়ূন ভক্ত তাই তার স্টাইল কপি করে ডায়লগ লিখতে বা ঘটনা ভাবতে আমার মজা লাগে।
আর কিঙ্কর আহসানের ‘রঙিলা কিতাব’ কীভাবে ডিল করা হয়েছে, সেটা দর্শকদের মুখ থেকেই শুনতে চাই। তবে এটাও ঠিক দেবী এবং রঙিলা কিতাব দুই জায়গাতেই আমরা বই থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছি বইয়ের মূল অনুভূতিটা ঠিক রেখে।’
নূর ইমরান এবং পরীমণির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দারুণ। দুজনই খুব ট্যালেন্টেড। তাদের রসায়ন সেটেও উপভোগ করা গেছে তাই আশা করা যায় স্ক্রিনেও সেটা দেখা যাবে। তারা মানসিকভাবে তাদের ক্যারেক্টারকে যথেষ্ট সময় দিয়েছে এবং প্রিপারেশন নিয়েছে। পরীমণি তার ওজন বাড়িয়েছে, ইমরান ডায়লগগুলোর ভেতর কিছুটা লোকাল টোন এনেছে। শুটের পুরো সময়টা খুব ঝক্কির ছিল তারা এক সেকেন্ডের জন্যও ধৈর্য হারায় নাই।’
যোগ করে তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না, জীবন তার আপন গতিতে চলে। কাজটা করতে গিয়ে বলতে পারেন এই লেসনটা পেয়েছি আমি। যেমন বরিশাল শুটের সময় দেখা গেল জলোচ্ছ্বাস হবে। আমরা শুটটা পেছালাম। আর্টিস্টদের শিডিউল সব নড়ে গেল, আমাদের শুটের শিডিউল সব এদিক-ওদিক। মোটামুটি ম্যানেজ করে জলোচ্ছ্বাস শেষে আমরা শুট গেলাম। সবাই খুশি কারণ তিন-চার দিন আগেও সেখানে কোমর পানি ছিল এখন শুকনা খটখটা। শুট শুরু করতেই বৃষ্টি শুরু হলো। এলাকার লোকজন জানাল আরেক জলোচ্ছ্বাস নাকি আসতেছে। রাতেই অ্যাটাক করবে। টিমের কেউ কেউ সাজেশন দিল চলে যাওয়ার জন্য। না হলে আগামী সাত দিনের শুট ছেড়াবেড়া লেগে যাবে। আমি ভাবলাম এইটাই যদি ওপরওয়ালা আমার জন্য লিখে দিয়ে রাখে তাইলে তাই হোক। আমি শুট করেই যাব। স্বরূপকাঠির এই সৌন্দর্য না হলে মিস হয়ে যাবে। পরদিন থেকে আর বৃষ্টি হয় নাই। প্রথম দিনের বৃষ্টির শট আমাদের প্রথম পর্বে আছে।
বলে রাখা ভালো, এই বৃষ্টির ঘটনাটা এই শুটার সময় ঘটা এমন আরও অনেক ঘটনার ভেতর একটা।
নির্মাতার ইচ্ছা ছিল আরও দুদিন স্বরূপকাঠি এলাকায় শুটিং করার, সেখানকার সৌন্দর্যগুলো ধরার। কিন্তু পারেননি তাই খানিক আক্ষেপও রয়েছে তার। বললেন, আমরা প্রচ- স্পিডে শুট করি। না হলে কাজটা হয় না। সেদিক থেকে কিছুটা ডিস স্যাটিসফ্যাকশন রয়েই যায়। স্বরূপকাঠির মতো এত সুন্দর একটা জায়গাতে আরও দুটি দিন শুট করতে পারলে সৌন্দর্যটা আরেকটু ধরা যেত।
নতুন বছরে ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমা নিয়ে বড় পর্দায় ফিরবেন বলে জানালেন অনম বিশ্বাস। এতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এখন সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। অন্যদিকে তিনি এখন ব্যস্ত রয়েছেন চরকির মিনিস্ট্রি অব লাভের শোল্ডারম্যান নিয়ে।
