নারায়ণগগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের অস্ত্রধারী বাহিনী মানুষের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন করেছে, অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে। নারায়ণগঞ্জবাসী প্রথম এসব গডফাদার বাহিনীর বিচার চায়। তাদের বিচার করতে হবে। তাদের বিচার করা ছাড়া আগামীতে নারায়ণগঞ্জে শান্তি ফিরে আসবে না। তারা কোটি কোটি বিদেশে পাচার করে এখন সে অর্থ দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে শহরের চাষাঢ়া জিয়া হলে জেলা জাসাস আয়োজিত বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সাত থানায় অনেক নিরর্থক মামলা হয়েছে। পুলিশ অনেক মামলা নিয়ে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। পুলিশকে বলবো আপনারা সচেতন হোন। পুলিশকে বলবো সঠিক তদন্ত করে মামলা নেওয়া উচিত। ৩ মাস হয়ে গেলেও অনেক মামলার কোনো অগ্রগতি নাই। পুলিশের মধ্যে বৈপ্লবিক চিন্তা ধারণ করতে হবে।
নগরবাসী অনেক সমস্যার সমাধান চায় উল্লেখ করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, যানজটে নারায়ণগঞ্জবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশকে আহ্বান করবো সচেষ্ট হোন। দ্রব্যমূল্যের দাম ঊর্ধ্বগতি রোধে প্রশাসনকে কাজ করতে হবে যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।
গিয়াসউদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর করতে হলে সব সংগঠনকে সুন্দর করতে হবে। প্রেসক্লাবে ভালো সাংবাদিকও আছে, খারাপ সাংবাদিকও আছে। আমি কথা বলি খারাপ ও হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। খারাপ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভালো সাংবাদিকের আন্দোলন করা উচিত। ফতুল্লাতে তেল চোর, জায়গা দখলকারী, মাস্তান, ছিনতাইকারী প্রেসক্লাবের সদস্য। আমি অবাক হয়ে যাই একটি আদর্শিক পেশায় খারাপ মানুষ কীভাবে সম্পৃক্ত হয়। তারা প্রেসক্লাবে ভর করে থানায় দালালি করে। বিভিন্ন দখলে সাংবাদিকদের ব্যবহার করে। আমি বলছি সব সময়ে খারাপ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। আমি বললে আমার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দিবেন দিতেই পারেন এটা আপনার অধিকার। কিন্তু প্রকৃত বিষয় আগে বুঝতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর বিকেলে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের তিনি ‘বাপ ডাকিয়ে দেবেন’ এবং সাংবাদিকদের ‘সোজা হয়ে যাও’ বলে হুমকি দেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত জেলার সাংবাদিকরা। ইতোমধ্যে একাধিক জরুরি সভা ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন তারা। সাংবাদিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক জোট, নাগরিক কমিটি ও বাম জোটের নেতারাও।
পরে গত ৫ নভেম্বর ফতুল্লা প্রেসক্লাবের আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের ‘বাপ ডাকিয়ে দেব’ বলে হুমকিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিকরা। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নাফিজের দেহ বহনকারী সেই রিকশাটি আনা হলো গণভবনের স্মৃতি জাদুঘরে
রাবিতে 'ছাত্রলীগ' ট্যাগে সাধারণ শিক্ষার্থীকে হয়রানি হল প্রাধ্যক্ষের