সম্প্রতি জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ করা হয়েছে বহুল আলোচিত মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। এর আগেও ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে ফিল্ডিং কোচ ও সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডও তাকে সহকারী কোচ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে শোনা যায়। তিনি তখন গণমাধ্যমে বলেছিলেন- ‘সহকারী কোচ হওয়ার বয়স নেই’। কিন্তু এখন সেই ‘বয়স’ কীভাবে ফিরে পেলেন এই কোচ?
বাংলাদেশের ক্রিকেটে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ভীষণ জনপ্রিয়। ক্রিকেটারদের মাঝেও তার জনপ্রিয়তা আছে। বিপিএলের সফল কোচ তিনি। জাতীয় দলের নতুন দায়িত্বে ৫১ বছর বয়সী কোচের প্রথম সিরিজ এই মাসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। কিন্তু কীভাবে তিনি ভাবনার বদল ঘটিয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচ না হয়ে সহকারীর ভূমিকায় যেতে রাজী হলেন- সেই গল্পই এবার শোনালেন সালাউদ্দিন।
শুক্রবার বিসিবির এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমার এই নতুন করে আসার পেছনে একটা কারণ হচ্ছে… যেহেতু অনেক দিন ধরেই শুনছি দেশি কোচদের একটি প্ল্যাটফর্ম বিসিবি করে দেবে, সেই পথ যদি আমি করে দিতে পারি, সেটা যতদিনের জন্যই হোক… (ভেবেছি) দেশি কোচরাও হয়তো ভালো করবে। কাজেই পরের (দেশি) কোচ যারা আসবে, তাদের প্রতি বোর্ডের বিশ্বাস বাড়বে, মানুষের বিশ্বাস বাড়বে, জনগনের বিশ্বাস বাড়বে এবং সেই সাথে কোচদেরও নিজেরও বিশ্বাস বাড়তে যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা ভালো করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বাসটা কারও না কারও নেওয়ার উচিত ছিল। আমি যদি কাজটা ঠিকভাবে করতে পারি, পরের কোচদের জন্য বড় একটা পথ খেলা হয়ে যাবে। আমার যে সমাজ, যে কোচ, সেই কোচদের পথ দেখানোর বড় একটা দায়িত্ব কিন্তু আমার পড়ে গেছে এবং সেটাকেই আমি একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমি যদি ভালো করতে পারি, পরের কোচদের অনেক জায়গাতেই পথ খুলে যাবে। যেটা হয়তো পরবর্তী জীবনে আমাকে আমাকে অনেক তৃপ্তি দেবে।’
দুই যুগে বেশি সময় ধরে কোচিং করানো এই কোচ বললেন, তার ফিরে আসার পেছনে বোর্ড প্রধানের বড় ভূমিকা ছিল, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই আসলে কথা হচ্ছিল। আমার এই কাজটা করার পেছনে ফারুক ভাইয়ের অবদান অনেক বেশি। তিনি আমাকে অনেকবার ডেকেছেন, কথা বলেছেন, বুঝিয়েছেন যেন, কেন আমাদের স্থানীয় কোচদের দরকার বাংলাদেশ দলে। আমারও যে ইচ্ছে ছিল না, তা নয়। তবে অনেক কারণেই আসতে পারছিলাম না। আমার মনে হয়েছে, এখনই হয়তো সেরা সময়, যেটা দিয়ে বাংলাদেশকে আবারও হয়তো সার্ভিস দিতে পারব। দেশের যদি কিছুটা উপকারও হয়, কোচিং ক্যারিয়ারের শেষে দিকে আমার নিজেরও হয়তো তা ভালো লাগবে।’
ছেলেরা বড্ড দুর্ভাগা; নেই সাফল্য, জোটে না প্রতিশ্রুতির টাকাও
১৪ কোটির ঋণ রেখে কেটে পড়েছেন সালাউদ্দিন