মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট গুণের নাম ধৈর্য। ধৈর্য সফলতার চাবিকাঠি। ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। যদিও ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন কাজ তবুও মানুষের কল্যাণের জন্য তা করা অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।’ (সুরা জুমার ১০) ধৈর্যের বিপরীত হলো অধৈর্য। অধৈর্য মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে জীবনে চলার পথে মানুষকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে।
মানুষের জীবনে বিভিন্ন সময়ে সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদ, সফলতা-ব্যর্থতা ও জয়-পরাজয় আসে। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণের প্রয়োজন হয়। পবিত্র কোরআনে ধৈর্যশীল মানুষকে বড় ভাগ্যবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা মানব চরিত্রে ধৈর্য এমন একটি উপাদান যার দ্বারা সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই সফলতা অর্জন করতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি শুধু দুনিয়াকে জয় করার লালসায় ধৈর্যশীলতা অর্জন করে, সে সফল ও সমৃদ্ধিশালী হবেই। মুসলমানরা মৃত্যু পরবর্তী জীবনে জান্নাত পাওয়ার আশায় নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, লোভ-লালসা, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে। হালাল-হারাম বাছাই করে জীবন চালাতে গিয়ে অনেক কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে। এভাবে ধৈর্যের মাধ্যমে নিজের চিত্তকে কষ্ট দিয়ে জীবন পার করে দেয়। এর বিনিময় হলো জান্নাত।
জীবনে যারা বড় হয়েছেন তারা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল। বিখ্যাত নবী ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক। জালেম শাসক নমরুদের বিরোধিতা করায় তিনি অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে সাহায্য চাননি। এমনিভাবে আইয়ুব (আ.)-ও দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার দেহে পচন ধরেছিল, শরীর থেকে গোশত খসে পড়েছিল। আত্মীয়স্বজন তাকে ত্যাগ করেছিল। তার সন্তানাদি মারা গিয়েছিল। তার ঘর-বাড়ি সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এমন কঠিন মুহূর্তেও তিনি ধৈর্যহারা হননি। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও ধৈর্যের চরম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তার ধৈর্য ছিল অতুলনীয়। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তবুও তিনি ধৈর্যহারা হননি। সব বিপদেই তিনি ছিলেন অটল ও অবিচল। ধৈর্য ছাড়া কোনো সফলতা নেই। মানব জীবনে কোনো কল্যাণ নেই। তাই আমরা সব বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করব।
