গত বছরেই সংগীত পরিচালক ও ব্যবসায়ী হাসিন হাসনাত হৃদয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন গায়িকা মৌমিতা তাশরিন। এখন পুরোদস্তুর সংসার করছেন। রান্নাবান্না পারেন না, সংসারের অনেক কাজই হয়তো এখনো আত্মস্থ করতে পারেননি তবে সংসার জীবন যে সুখের যাচ্ছে সে কথা নিজ মুখেই বললেন। নদী বলছেন, ‘আমি তেমন রান্নাবান্না পারি না। শেখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এটা আমার সংসারের সুখে কোনো প্রভাব ফেলেনি, আমরা বেশ আলহামদুলিল্লাহ ভালো সময় পার করছি।’
মৌমিতা একক গান, চলচ্চিত্রের গান ছাড়াও বেশ ব্যস্ত সময় পার করেন স্টেজ শোতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই স্টেজ শো কমে যাওয়ায় একটু বিষণœ। নদী বললেন, ‘আমরা অবশ্যই পেশাদার। আমাদের ব্যবসায়ীর সঙ্গেও তুলনা করা যায়। একজন শিল্পীর মূল বাণিজ্যিক জায়গা স্টেজ শো। কিন্তু দেশে এই পরিস্থিতিতে স্টেজ শো কমে গেছে। ফলে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। আমাদের সাধারণ শিল্পীর পাশাপাশি যারা যন্ত্রশিল্পী তাদেরও সমস্যা হচ্ছে। আমি মনে করি দ্রুত দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া উচিত।’
দেশের এই পরিস্থিতিই নয়, বেশ কিছু বছর ধরেই চলচ্চিত্রে একটা ভাটা এসেছে। ফলে শিল্পীদের প্লেব্যাকের জায়গাটা অনেকাংশে কমে এসেছে। নদী প্লেব্যাক করে জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। কিন্তু চলচ্চিত্রের গানের সংকোচন হয়ে আসার বিষয়টিও স্বীকার করলেন। একইসঙ্গে বাড়ছে নাটকের গান। তবে সবকিছু মিলিয়ে গানের বাজার ঠিক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, আর একজন সংগীতশিল্পীর আসলে করণীয় কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে নদী বলেন, নাটকের গান আসলে করা যায়। এটা একটা ভালো বিষয়। এখন নাটকে অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। চলচ্চিত্রের বাজার কমে আসছে সত্য, তবে ভালো কিছু চলচ্চিত্রও হচ্ছে। শিল্পীদের কী করতে হবে সেটা তো আমি বলতে পারি না, কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কী হচ্ছে, সেটা যদি দেখি একজন শিল্পী তার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের ওপর জোর দেন। ফেসবুক, টুইটার, স্পটিফাই, টিকটক প্রতিটিতে প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকেন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই তার উপার্জন আসবে। আর উপার্জন এলেই একজন শিল্পী ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারবেন। এবং আপনি দেখুন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিল্পীরা তাই করছেন। আমাদেরও সে পথেই হাঁটতে হবে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে অনুসারী বাড়াতে হবে এবং এই মাধ্যমেই গান মুক্তি দিতে হবে, আয় করতে হবে।’
২০১০ সালে মৌমিতা তাশরিন নদী চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন ও দ্বিতীয় রানার আপ হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য রাজশাহী থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হন। সংগীতে নিমগ্ন নদী এরই মধ্যে নানা মাধ্যমে গান করে আলোচিত হয়েছেন। পোড়ামন-টু চলচ্চিত্রে তার গান সুতো কাটা ঘুড়ি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। সামনের সময়কে ধরতে নদী এখন সময়ের সঙ্গে হাঁটছেন। বাণিজ্যিক কাজের পাশাপাশি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গান করছেন, মুক্তি দিচ্ছেন। নদী এ প্রসঙ্গে বলছেন, হয়তো এখনই সফল পুরোপুরি হতে পারব কি না জানি না। হয়তো এখন খুব ভালোভাবে সম্ভবও না, তবে হবে।’
বেশ কয়েকটি গানের কাজ করছেন নদী। জানালেন, এরমধ্যে চলচ্চিত্রের গানও রয়েছে। তবে এখনই এ বিষয়ে বলতে চান না, অপেক্ষা করতে হবে।
