কর্মসূচি ডাক দিয়েও মাঠে নামতে পারেনি আওয়ামী লীগ

  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ মাঠে ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দখলে ছিল জিরো পয়েন্ট এলাকা
  • আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন তৎপরতা, মারধর, পুলিশে হস্তান্তর ও আটক অর্ধশতাধিক
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৮ এএম

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার তিন মাস পর প্রথমবারের মতো কোনো কর্মসূচির ডাক দিয়েও মাঠে নামতে পারেনি আওয়ামী লীগ। শহীদ নূর হোসেন দিবসে দলটির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে গতকাল রবিবার দিনভর ছিল টান টান উত্তেজনা। ‘অগণতান্ত্রিক শক্তির অপসারণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ দাবিতে এদিন দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে জিরো পয়েন্টে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে দলটির নেতাকর্মীদের তেমন কোনো সমাগম ছিল না। এ ছাড়া সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এদিন মাঠে থাকবেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিলেও, তাদেরও কাউকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

উল্টো গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধের দাবিতে জিরো পয়েন্ট ঘিরে মাঠে সরব ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি ও এর বিভিন্ন সহযোগী-অঙ্গসংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সেখানে এলেও তাদের মারধরের শিকার হতে হয়। মারধরের শিকার এমন কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। পরে বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশ থেকে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক একটি মিছিল বের করলে সেটিও বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিকে নূর হোসেন দিবসে গতকাল গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট চত্বরে ফুল দিতে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গত শনিবার আওয়ামী লীগ নূর হোসেন দিবসে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণার পর ওইদিন রাতেই তা প্রতিহত করতে জিরো পয়েন্ট এলাকায় গণজমায়েতের ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে জিরো পয়েন্টে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। দলটির এ কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ মঞ্চের’ ব্যানারে একই জায়গায় গণজমায়েতের ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার রাত থেকেই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জিরো পয়েন্টের নূর হোসেন চত্বরে অবস্থান নেন। অন্যদিকে পূর্ব ঘোষণা না দিলেও আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধে গতকাল মাঠে সরব থেকেছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ মঞ্চের ব্যানারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি-জামায়াত এবং দল দুটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারমুখী অবস্থানের কারণে হালে পানি পায়নি আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি। দলটির কর্মসূচি ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। সব মিলিয়ে দিনভর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে জিরো পয়েন্টসহ এর আশপাশ এলাকায়। এদিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নেন বিএনপি-জামায়াত ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

জিরো পয়েন্টে জমায়েত হতে না পেরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি জিরো পয়েন্টের নূর হোসেন চত্বরের দিকে যেতে শুরু করলে প্রতিরোধের ডাকে মাঠে থাকা বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা তা ছত্রভঙ্গ করে দেন। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রতিহত করতে সকাল থেকেই জিরো পয়েন্ট মোড়ে শক্ত অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিএনপি-যুবদল-মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে প্রধান সড়কের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে সমাবেশ করেন। আর ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে যান বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

বায়তুল মোকাররমের সামনের সড়কের সমাবেশে আওয়ামী লীগকে প্রতিহতের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ দুই হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করেছে। অর্ধলাখ মানুষকে আহত করেছে। হাসিনা প্রতিটি হত্যার হুকুমদাতা। যারা হাসপাতালে এখনো আহত অবস্থায় আছেন, যাদের কাছে রক্তাক্ত স্মৃতি রয়েছে, সেই ঘটনাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। রক্তাক্ত এ দাগগুলো পুরো পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নাৎসি বাহিনীর চেয়েও নৃশংস মন্তব্য করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সমাবেশে তার বক্তব্যে বলেন, ‘গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জনসমক্ষে আসার অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ ফিরবে বিচারের জন্য, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর জন্য। তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’

আওয়ামী লীগকে যারা পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তাদেরও প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন হাসনাত। এ সময় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা জুলুম করেছে, তাদের প্রতি কোনো উদারতা নয়। জালেমদের উদারতা দেখিয়ে জেনেভায় গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’

বিএনপিসহ বিভিন্ন দল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে কারও নাম উল্লেখ না করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কেবল একটা ভোটের জন্য এত শহীদ রক্ত দেননি। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার কথা কিছু রাজনৈতিক দল বলছে। আগে সংস্কার করতে হবে। নির্বাচন সংস্কারেরই একটা অংশ।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ। তারা ভেবেছিল, এই ঐক্যে ফাটল ধরেছে। কিন্তু হাসিনার রক্তখেকো আচরণ মানুষ ভুলে যায়নি। আজকের জমায়েত তারই প্রমাণ।’

লড়াই এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বিভিন্ন স্থানে বসে আছে। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম সমাবেশে বলেন, ‘ছাত্রলীগ যদি নিষিদ্ধ হতে পারে, তাহলে তাদের মদদদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক মাহীন সরকার।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল বের করেন। বিভিন্ন গলি থেকে হঠাৎই বের হয়ে তারা মূল সড়কে উঠে ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দিতেই ধাওয়ার মুখে পড়েন। তাদের লাঠিসোঁটা নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মিছিলটি বেশিদূর এগোতে পারেনি। ছত্রভঙ্গ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এদিক-ওদিক চলে যান। এই মিছিলে ছিলেন সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোছাইন, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এসএম আব্দুর রহিম, সাবেক সহসম্পাদক এনামুল হক প্রিন্স, সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, উপ-মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক কপিল হালদার সজল, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, সাবেক সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ, যুবনেতা গোলাম সাদমানি জনি, যুবনেতা আশরাফুল ইসলাম সোহাগ এবং ছাত্রনেতা তারিকুল ইসলাম ও রাজিব বিশ্বাস। ধাওয়া খেয়ে মিছিলে থাকা আনোয়ার, আমির, প্রিন্স, বিদ্যুৎ, কপিলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হন।

এর আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকজনকে পেটাতে দেখা গেছে। পেটানোর সময় তাদের মধ্যে কয়েকজনের পোশাক খুলে ও ছিঁড়ে ফেলা হয়। বেলা ১১টার কিছু আগে থেকে এসব ঘটনা ঘটতে শুরু করে। পিটুনির সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তাদের বাধা দিতে দেখা যায়নি। পরে পুলিশভ্যানে করে মারধরের শিকারদের নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

বিভিন্ন সড়কে উৎসুক জনতার বেশে ঘোরাফেরা করেছেন আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় তারা উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বিকেলে আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে অন্তত পাঁচজন নারীকে আটক করে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। প্রথমে তাদের মারধর করা হয়, পরে তাদের কাছে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোনো উত্তর না দিলে ওই নারীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় অন্তত ৩০ জনকে আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে আটক করে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বিএনপি ও যুবদলের কর্মীরা।

গুলিস্তান এলাকায় মারধরে আহত হয়ে পাঁচজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন- রাজু আহমেদ মিরান (৫০), হৃদয় (২৫), রাসেল হায়দার (৪২), রাকিব (২৩) ও মোহাম্মদ আলী (৩৫)। গতকাল দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ বিষয়ে পল্টন থানার এসআই অমিত বিশ্বাস বলেন, ‘গুলিস্তান স্টেডিয়ামের পাশে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেওয়ায় ছাত্র-জনতা মিরান ও হৃদয় নামে দুজনকে ধোলাই দেয়। পরে পুলিশে সোপর্দ করে। তখন চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে তারা শঙ্কামুক্ত। চিকিৎসা শেষে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।’

গ্রেপ্তার অর্ধশতাধিক : গতকাল সকাল থেকেই জিরো পয়েন্ট থেকে স্টেডিয়ামমুখী একদিকের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে অন্যান্য রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউকেন্দ্রিক শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এ ছাড়া সাদা পোশাকে মাঠে ছিলেন গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা। জিরো পয়েন্টে একটি জলকামান এবং বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে একটি জলকামান ও রায়ট কার দেখা গেছে। বিজিবি সদস্যরা গাড়ি নিয়ে পুরো এলাকা টহল দেন। সচিবালয়ের দিকে ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহরিয়ার আলী বলেন, ‘নূর হোসেন দিবস কেন্দ্র করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে কয়েকটি বিশৃঙ্খলা ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির কথা বললেও তেমন কিছু না। মারধর করে যাদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে, তাদের সঠিক পরিচয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ালে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তবে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটেনি। যানবাহনও স্বাভাবিক ছিল। কয়েকটি পিটুনির ঘটনা ঘটে। তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপের নির্দেশনা বাস্তবায়নকারীসহ ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও ক্লিপে তার দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ছবি ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ব্যবহার করে অবৈধ মিছিল সমাবেশের নির্দেশ দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও প্ল্যাকার্ড ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেগুলো ভাঙচুর ও অবমাননার ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক বিনষ্টের অপচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা এ অপতৎপরতার পরিকল্পনা করেছেন। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই কুচক্রী মহলের ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।’

বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ১৯১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

নূর হোসেন চত্বরে শ্রদ্ধা জানাল যারা : গতকাল নূর হোসেন চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণতন্ত্র মঞ্চ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ছাত্র ফোরাম, বাসদ (মার্ক্সবাদী), জাতীয় গণফ্রন্ট, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ও জাতীয় গণফ্রন্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত