রহমানউল্লাহ গুরবাজের সেঞ্চুরি (১০১) ও আজমত উল্লাহ ওমরজাইয়ের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে (৭০*, ৪/৩৭) বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে আফগানিস্তান। ওমরজাই হয়েছেন ম্যাচসেরা আর সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ নবি।
চোটের কারণে তৃতীয় ওয়ানডেতে নেই নাজমুল হোসেন শান্ত, দলনেতা তাই মেহেদী হাসান মিরাজ। একাদশে এসেছেন জাকির হাসান ও নাহিদ রানা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিলেন মিরাজ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটি পঞ্চাশ ছাড়াল, সব মিলিয়ে শুরুটা স্বস্তির। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। ১৯ রানের ভেতর ৪ উইকেট হারিয়ে আরেকটা ব্যাটিং ধসের শঙ্কায় বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে ৫৩ থেকে ৪ উইকেটে ৭২, ৮.৩ ওভার থেকে ১৪.৪ ওভার, এই ৩৫ বলের ভেতর উধাও শুরুর স্বস্তি। ফের যখন ধসের আশঙ্কা তখন মাহমুদউল্লাহ এলেন। প্রথম দিকে রান করতে খুব সংগ্রাম করেছেন, রান করতেই পারছিলেন না। মাঝে প্রায় তিন ওভার স্ট্রাইকই পাননি, ১৭তম ওভারের প্রথম বলের পর ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে তাকে স্ট্রাইক দেন মিরাজ। সেই সময়টায় ৪ রানে আটকে ছিলেন রিয়াদ, সবশেষ চার ইনিংসে ০, ১, ২ ও ৩ রানে আউট হওয়ার পর এবার মাহমুদউল্লাহ ৪ রানে আউট হবে, এমন ঠাট্টা চলছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ৪ থেকে সুইপে বাউন্ডারি মেরে ৮ রানে পৌঁছালেন, একটা গেরো কাটল। এরপর মিরাজকে নিয়ে এক এক করে ইনিংসটা বড় করেছেন, তাদের জুটিটাও বড় হয়েছে।
মিরাজ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের ‘ক্রাইসিসম্যান’। বিপদের মুখেই যেন তার সেরাটা বের হয়ে আসে। ১০০তম ওয়ানডেতে পেয়েছেন অধিনায়কের দায়িত্ব, মাঠে নামার আগে জেনেছেন ক্যারিবীয় সফরে টেস্টেও তিনি সম্ভাব্য অধিনায়ক কারণ গ্রোয়েন ইনজুরিতে নাজমুল হোসেন শান্তর খেলা হবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও। এসবই কি অনুপ্রাণিত করল মিরাজকে? বছর দুই আগে, চট্টগ্রামে আফিফ হোসেনকে নিয়েও এরকমই পরিস্থিতিতে সপ্তম উইকেটে ১৭৪ রানের জুটি গড়ে আফগানদের বিপক্ষে দলকে জিতিয়েছিলেন। শারজায় সঙ্গী হিসেবে পেলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহকে। দুজনে মিলে পঞ্চম উইকেটে ১৪৫ রান যোগ করেছেন ১৮৮ বলে। মাহমুদউল্লাহ ব্যক্তিগত পঞ্চাশে পা রেখেছেন ৬৩ বল খেলে, চারটা বাউন্ডারি আর ম্যাচের প্রথম ছক্কায়। মিরাজ ৫০ করেছেন ১০৬ বল খেলে, আধুনিক ক্রিকেটে বেমানান হলেও শারজার উইকেটে এই ইনিংসটা পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছে। ১১৯ বলে ৬৬ রান করার পর উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন মিরাজ। এরপর অবশ্য আগের দিনের দুই কৃতী, জাকের আলি অনিক (১) ও নাসুম আহমেদ (৫) খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহকে। শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহর রান ৯৮।
তবে পরের ৫০ ওভারে শারজার উইকেটকে মনে হয়েছে ব্যাটিং স্বর্গ, অন্তত রহমানউল্লাহ গুরবাজ যতক্ষণ ব্যাট করেছেন। শিশিরের প্রভাব, বল নরম হয়ে আসা কিছুই আটকাতে পারেনি আফগানদের। গুরবাজের ১২০ বলে ১০১ রানের ইনিংসের সঙ্গে ওমরজাইর ৭৭ বলে অপরাজিত ৭০ ম্যাচটাকে রোমাঞ্চকর পরিণতির দিকে নিয়ে গেলেও আফগানদের হাতছাড়া হতে দেয়নি। চতুর্থ উইকেটে গুরবাজ ও ওমরজাই মিলে ১০০ রান যোগ করেন, এরপর গুরবাজ ও গুলবদিন নাইব দ্রুত ফিরে গেলেও নবি এসে ওমরজাইর সঙ্গে ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন। আর তাতেই ১০ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় আফগানরা, শরিফুলের বলে ওমরজাইর ছক্কা নিশ্চিত করে সিরিজ জয়ের হাসি।
