এক বছরের বেশি সময় প্রতিযোগিতামূলক খেলায় নেই মালদ্বীপ। প্রতিপক্ষের এই দুর্বলতা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ আক্রমণের পসরা সাজিয়েছিল। তবে লাভ হয়নি। গোল করা যাদের কাজ, সেই ফরোয়ার্ডরা হয়েছেন চরম ব্যর্থ। গোলমুখে তালগোল পাকিয়ে আফসোস শুধু বাড়িয়েছেন। উল্টো কৌশলী ফুটবলে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মালদ্বীপ। মেয়েরা টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হলেও ছেলেদের ফুটবল রইল সেই অন্ধরকারেই!
আজ বুধবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় কয়েক হাজার সমর্থক সারাক্ষণ চেঁচিয়েও তপুদের ভাগ্য ফেরাতে পারেননি। মালদ্বীপ দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেসে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। তাই তারা ঘর সামলে প্রতি আক্রমণ নির্ভর কৌশলে খেলেছে। বলের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ ছিল বাংলাদেশের। তবে যখনই বল পেয়েছে দ্রুত আক্রমণে উঠে তারা চেয়েছে বাংলাদেশের ডিফেন্সকে বিপদে ফেলতে। ১৯ মিনিটে পেরেছেও। ডিফেন্স ও মিতুল মারমার অসতর্কতায় অভিজ্ঞ আলী ফাসির করেন জয়সূচক গোল।
মালদ্বীপ ঘর সামলানোয় মনযোগী ছিল বলেই মাঝমাঠ ছিল বাংলাদেশের দখলে। ফলে বাংলাদেশের আক্রমণগুলো দানা বেঁধেছে সহজেই। রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের সঙ্গে আক্রমণে সঙ্গী হয়েছিলেন প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া কানাডা প্রবাসী সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি। চারজন মিলে বারবার আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছেন। তবে প্রতিপক্ষের বক্সে গিয়েই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তারা। ফলে পুরোটা ম্যাচেই ‘উফ’! ‘ইশ’! করতে হয়েছে সমর্থকদের। অন্যদিকে মালদ্বীপ নিজেদের কৌশলে মনযোগী হয়ে বাংলাদেশকে চেয়েছে বিপদে ফেলতে।
১৫ মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে ফাহিমের ক্রসে ভালো জায়গায় বল পেলেও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি রাকিব। দুই মিনিট পরই স্রোতের বিপরীতে গোল হজম করে স্বাগতিকরা। বক্সের ঠিক উপর থেকে হামজা মোহাম্মদ ফ্রি কিক নিয়েছিলেন। ডিফেন্ডারদের চোখ এড়িয়ে যান আলী ফাসির। আনমার্কড ছিলেন বলেই হামজার ফ্রি-কিক বিনা বাঁধায় হেড নিতে পারেন। এক্ষেত্রে মিতুল নিতে পারেননি সঠিক সিদ্ধান্ত। এগিয়ে এসে তিনিও পারতেন বল পাঞ্চ করে ক্লিয়ার করতে। সেটা না করে দর্শক বনে গিয়ে দেখেন দলের বল জালে জড়িয়ে যাওয়া। এর আগে পরেও নড়বড়ে ছিলেন মিতুল। তারপরও পুরো ম্যাচে তাকেই খেলিয়েছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। অথচ বেঞ্চে ছিলেন আনিসুর রহমান জিকো, মেহেদী হাসান শ্রাবণের মতো বিকল্প।
গোল হজমের দুই মিনিট পর সমতার দারুণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। ফাহিমের আড়াআড়ি ক্রস রাকিবের কাছে পৌঁছানোর আগেই ব্লকড করেন মালদ্বীপ কিপার হুসেইন শরীফ। পরে দ্রুত ক্লিয়ার করেন অধিনায়ক সামোহ আলি। ৩০ মিনিটে ইসা ফয়সালের ক্রসে ফাহিমের সাইড ভলি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। চার মিনিট পর রাকিবের একটা চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন মালদ্বীপের ডিফেন্ডার সিফাউ ইউসুফ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি সাইড পোস্ট। মোরসালিনের কর্নারে মোহাম্মদ হৃদয় ব্যাক হেড করলে বল যায় সোহেল রানার পায়ে। বক্সের বাইরে থেকে এই মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ে বুলেট গতির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ নষ্ট হয় মালদ্বীপের। ৫০ মিনিটে আক্রমণে ওঠা আহমেদ আইহামের শট মিতুল মারমাকে পরাস্ত করলেও সাইড পোস্টে প্রতিহত হয়। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে বল দেয়া নেওয়া করে বক্সের বাইরে থেকে জেড়ালো শট নিয়েছিলেন বদলি মজিবর রহমান জনি। তবে মালদ্বীপ কিপার ছিলেন প্রস্তুত, সেই শট রুখে দিয়ে দলের লিড অক্ষুন্ন রাখেন। ৮৬ মিনিটে রাকিব ডানদিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে অসাধারণ সেট-আপ দিয়েছিলেন শেখ মোরসালিনকে। তবে মোরসালিনের প্রচেষ্টা ডান দিকে ঝাপিয়ে রুখে দেন হুসেইন শরীফ। ৯০ মিনিটে রাকিবকে ফের হতাশ করেন হুসেইন শরীফ। প্রতি আক্রমণ থেকে জনির পাস ধরে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন রাকিব। বিপদ বুঝে এগিয়ে এসে তার ব্লক করেন। যোগ করা সময়ে মোরসালিনের কর্নারে রাকিবের ব্যাক হিল দূরের পোস্টে বাতাস লাগিয়ে বাইরে গেলে আক্ষেপ হার সঙ্গী হয় বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দলের খেলা দেখতে পুরোটা সময় স্টেডিয়ামে ছিলেন তাবিথ আউয়াল। নয়া সভাপতির শুরুটা জয়ে রাঙাতে পারলেন না কাবরেরার শিষ্যরা।
ব্রাজিলের কথা বললেও আর্জেন্টিনার নামই নিলেন না সাম্পাওলি
এনসিএলে খেলতে চান তামিম; দিতে হবে ফিটনেস পরীক্ষা
সৌদি আরবের প্রেমে পড়েছেন নেইমার