প্রচন্ড তীব্রতা সম্পন্ন সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস হিসেবে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ হচ্ছে উপকূলের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও চলছে সেই ‘৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত’। কারণ টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি, বলের রঙ এবং জার্সির রঙ নির্বিশেষে বাংলাদেশ দল সব সংস্করণের র্যাংকিংয়েই অবস্থান করছে ৯ নম্বরে।
একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করা যাক। পরীক্ষায় অত্যন্ত খারাপ করায় এক শিক্ষার্থীকে স্কুল কর্তৃপক্ষ এক ক্লাস নিচে নামিয়ে দিতে চাইল। রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর তার অভিভাবক জানতে চাইলেন, ‘পাস না ফেল’? উত্তর এলো, ‘ফেলই হয় না আবার পাস।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবস্থা অনেকটা এ রকমই। ক্লাসে ছাত্র সংখ্যা কম বলে রোল ১০-এর ভেতরে থাকছে, ছাত্র বেশি হলে ১০-এর বাইরেই চলে যেতে হতো! যেমন ধরা যাক টেস্ট র্যাংকিংয়ের ব্যাপারটা। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হওয়ার পর ৯টা দলই ঘুরেফিরে নিজেদের ভেতর টেস্ট খেলে।
টেস্ট মর্যাদা যদিও পেয়েছে ১২টি দল, নবীনতম দুই সদস্য আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড টেস্ট খেলে কালেভদ্রে আর জিম্বাবুয়েও টেস্ট খেলছে খুব কম। এই ৩ দলই আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে। যে সময়সীমার ভেতর হয়ে যাওয়া ম্যাচগুলোকে ধরে আইসিসির সর্বশেষ র্যাংকিং, এতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড, ৪২টি, এরপর ভারত ৩৩টি এরপর নিউজিল্যান্ড ২৯টি। বাংলাদেশ খেলেছে ২৬টি টেস্ট, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তান খেলেছে বাংলাদেশের চেয়েও কম ম্যাচ। তারপরও বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, এরপর যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। বাংলাদেশ ২০০০ সালে যখন প্রথম টেস্ট খেলেছিল, তখন ছিল ১০ নম্বরে। সেখান থেকে ২৪ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ ১ ধাপ এগিয়েছে, সেটা নিজস্ব কৃতিত্বে না জিম্বাবুয়ের অবনমনে সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে অভিষেক টেস্ট খেলার দুই যুগ পূর্তির মুহূর্তেও বাংলাদেশ টেস্ট র্যাংকিংয়ের নবম অবস্থানে থাকবে, এমনটা নিশ্চয়ই কেউ আশা করেননি।
টেস্ট ক্রিকেটকে বুধবারই বিদায় জানালেন ইমরুল কায়েস। ৩৯টা টেস্ট খেলা এই বামহাতি ব্যাটসম্যানের অভিষেক ২০০৮ সালে, শেষ খেলেছেন ২০১৯ সালে। দেশ রূপান্তরকে জানালেন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে তার হতাশার কথা, ‘আমরা যখন টেস্ট খেলা শুরু করি, তখন একটা স্ট্রাগলিং দল ছিলাম, সেখান থেকে কিন্তু আমরা ভালো করছিলাম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটা লড়াকু ড্র আছে আমাদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে আমার আর তামিমের একটা বড় পার্টনারশিপ আছে, লর্ডসে দলীয় ৪০০ রানও আছে (৩৮২), কিন্তু এখন বুঝি না এরা ১০০-১৫০ রান করতেই অলআউট হয়ে যাচ্ছে। আসলে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট মানহীন হয়ে পড়েছে, যার প্রভাবটা পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।’ এর জন্য পূর্ববর্তী দেড় দশকের অনিয়মই প্রধান কারণ মনে করেন ইমরুল, ‘ক্রিকেট মাঠে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানে পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি এসব দূর করতে হবে। যেদিন খেলা শুরু করি সেদিন আমি অবশ্যই চাইনি যে ছাড়ার দিন দেখব বাংলাদেশ টেস্ট র্যাংকিং-এর ৯ নম্বরে থাকবে। বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনাময় একটা দল, এই দলের অবস্থানটা আরও ভালো হতে পারত।
বাংলাদেশের ওয়ানডের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি মনে করেন, এই পতন সাময়িক, ‘আমাদের ওয়ানডে দলটার যে মূল ক্রিকেটাররা, যারা এতদিন ধরে আমাদের জন্য ভালো করে আসছিল, সেই তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান মুশফিকুর রহিমরা কিন্তু এই সিরিজে খেলেনি। তারা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। তাদের বিকল্প হিসেবে আমরা যাদের পেয়েছি তারাও অনেক প্রতিভাবান তবে তাদের আরও সময় দিতে হবে পরিণত হওয়ার জন্য।’
টি-টোয়েন্টি সংস্করণ যখন শুরু হয় তখন বলা হচ্ছিল যে দুই দলের পার্থক্য ঘুচিয়ে আনবে ছোট সংস্করণ, যেখানে বাংলাদেশের মতো দলের ভালো করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে দিনের পর দিন অপ্রস্তুত উইকেটে দলীয় ১৪০ রানের ইনিংসকেই যথেষ্ট মনে করা টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশ এই সংস্করণে এরই মধ্যে প্রথম দল হিসেবে ১০০ ম্যাচ হেরেছে। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরিচয় দিয়েছে চরম কাপুরুষতার। এই সংস্করণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা আফগানদের পেছনে ফেলে বাংলাদেশ কীভাবে নবম সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে! বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে আফগান ক্রিকেটারদের চাহিদা আর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে অনাগ্রহই প্রমাণ করে, এই র্যাংকিং আসলে শুভংকরের ফাঁকি। আদতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বেজে গেছে।
র্যাঙ্কিংয়ের ৪৪তম দলকেও সমীহ করছেন ব্রাজিল কোচ
প্যারাগুয়েতে আর্জেন্টিনার জার্সি নিষিদ্ধ; মেসির শক্তি দেখতে চান স্কালোনি
জিয়ার ছেলের হাতে ৫ লাখ টাকা তুলে দিলেন তামিম
দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ মানেই মাঠে সাপ, পোকা, শুকর!