জিল্লুর রহমান

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ আয়োজনে বাধা দিতেন সাবেক দুই মন্ত্রী

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ০১:০৩ এএম

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেছেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও শাহরিয়ার আলম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ আয়োজনে নানাভাবে বাধা দিতেন। অতিথিদের এই আয়োজনে আসতে নিরুৎসাহিত করা হত।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সিজিএস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৪’ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শনিবার তৃতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন।  এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘একটি ভঙ্গুর বিশ্ব’। এবার আয়োজন উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।  

জিল্লুর রহমান বলেন, সাবেক সরকারের আমলে তাদের স্থানীয় স্পন্সর ও ব্যবসায়ীদের গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফোন করে এমন আচরণ করেছেন যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাদের সঙ্গে জিল্লুর রহমানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তারা কথা বলতে চাইতেন না, দেখাও করতে চাইতেন না।

পরে দ্বিতীয়বারের আয়োজনে কোনো অংশীদার পাননি তিনি। দুই মন্ত্রীর বাধার কারণে অনেকে চেকে টাকা দিতে চাননি। ভয়ভীতির কারণে রাস্তায় থাকা অবস্থায় নগদ টাকা দিয়েছেন।

২০২২ সালে প্রথমবার বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন আয়োজন প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমকে আয়োজনের খবর প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। দেশের ৫-৭টি পত্রিকা ছাড়া কেউ কোনো খবর ছাপেনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশীয় অতিথিদের ফোন করে নিষেধ করতো। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ অনুষ্ঠানস্থলের পাশে দলবল নিয়ে এসে বসে থাকতেন। ২০২২ সালের আয়োজনের জন্য ছয় মাস আগে একটি হোটেলে বুকিং দেয়া হয়। কিন্তু সরকার চায় না বলে তারা আয়োজনের ১৫ দিন আগে বাতিল করে দেয়। সে বছর সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক আধা ঘণ্টা বসে থেকে বক্তব্য না দিয়ে চলে যান। কারণ হাছান মাহমুদ তাকে ফোন করে চলে যেতে বলেন। আরেকজন সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম গেট থেকেই ফিরে যান। দ্বিতীয়বারের আয়োজনে শুধু সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান অংশ নেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, এ ধরনের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই সরকারের সমর্থন থাকে। তারা সরকারের কাছ থেকে অন্য কোনো সহায়তা চান না। সরকার যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হয়।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো বাধা পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, এবার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের সঙ্গে কাজ করার এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা সুখকর না। তাই সরকারের বাইরে থেকেই সিজিএস কাজ করতে চায়।

আগামীকাল থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী এই সংলাপে বিশ্বের ৮০টি দেশের লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, আমলা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ভূরাজনীতি, অপতথ্য, মানবাধিকারসহ পাঁচটি বিষয়ে সংলাপ হবে। এতে বিভিন্ন দেশের ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং ৮০০ জন জন অতিথি থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৭৭টি সেশন চলবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিজিএসের চেয়ারম্যান মুনিরা খান, চিফ অব স্টাফ দিপাঞ্জলি রায় এবং প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সুবীর দাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত