‘ভুয়া ভুয়া’ বলায় মার্কেটিং-আইন বিভাগের ছাত্রদের সংঘর্ষ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আইন বিভাগের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ী হয় মার্কেটিং বিভাগ। খেলার একপর্যায়ে উভয়পক্ষ একে-অপরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেওয়ার জেরে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আহত হন ৩৪ জন। 

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেষ হলে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রাত ৯টার দিকে জরুরি সভা ডেকে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার দুই বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। 

আহতের সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক মাফরুহা সিদ্দিকী লিপি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।’ এ ছাড়া এ ঘটনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন শিক্ষকসহ অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস। 

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের রাউন্ড-১৬ এ মার্কেটিং বিভাগ মুখোমুখি হয় আইন বিভাগের। খেলায় ১-০ গোলে জয়ী হয় মার্কেটিং বিভাগ। খেলা চলাকালে উভয়পক্ষের দর্শকরা স্টেডিয়ামে অবস্থান করছিলেন। গোল হওয়ার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে-অপরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। 

খেলা শেষে স্টেডিয়াম গেটে আইন ও মার্কেটিং বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরাই একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। শিক্ষার্থীদের ইটের আঘাতে আহত হন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। পরে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিছু হটলে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক আবু সালেহকে মারধর করে ফোনের ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করেন তারা। 

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নুরুজ্জামানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

 
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘খেলাকে কেন্দ্র করে এ ধরণের ঘটনা দুঃখজনক। উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত