পুরনো সংকটের অভিঘাত পেরিয়ে ‘পুনর্গঠন, মেরামত আর নবায়নের’ প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর উদযাপন করেছে দেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৮ বছর পূর্তির আনন্দঘন উদযাপনে শামিল হন নানা ক্ষেত্রে বাঁক বদলের সাক্ষীরা।
তাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতি-নির্ধারকরা যেমন ছিলেন; তেমনি ছিলেন আইনজীবী, ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তা, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী-সংগঠক, ক্রীড়া তারকা এবং সরকারি কর্মকর্তারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী নানা বাধার মুখেও দমে না যাওয়ার যাত্রা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সেরাটা দেওয়ার অঙ্গীকারে আমরা আজও অবিচল। সময় এখন পুনর্গঠন, মেরামত আর নবায়নের।’
র্যাডিসনের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে। তারপর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৮ বছরের পথ চলার অম্ল মধুর গল্পটা অতিথিদের শোনান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। মাঝে ছিল ছোট্ট দুটো ভিডিও পরিবেশনা।
বক্তৃতার শুরুতেই প্রধান সম্পাদক শ্রদ্ধা জানান তাদের প্রতি, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আজকের বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এ গল্প কেবল প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে নতুন ধরনের এক সংবাদমাধ্যমের নতুন বিজনেস মডেলের পরীক্ষায় উতরে যাওয়ার গল্প নয়; সর্বোচ্চ মানে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষায় গভীর অভিনিবেশ, অবিচল সংকল্প আর নিরলস সাধনারও গল্প।’
প্রভাবশালীদের চাপ, মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছর ধরে হয়রানি, অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করার চেষ্টাসহ নানাভাবে যে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, সে কথাও বলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তিনি বলেন, ‘চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, তবু আমরা নত হইনি। কারণ আমরা সাংবাদিকতার সততায় বিশ্বাস করে গেছি। প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা কক্ষচ্যুত হইনি।’
এরপর কেক কাটার জন্য অতিথিদের ডাকা হয় মঞ্চে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানের আহ্বানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সবাই।
শফিক রেহমান বলেন, ‘আমি বিডিনিউজের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করি। আমার কাছে তৌফিক একজন ভিশনারি সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন। সেজন্য তাকে অশেষ অভিনন্দন জানাই।’
তিনি বলেন, ‘১৮ বছর হয়েছে বিডিনিউজের। ১৮ এবং ২৪ এটা মনে করিয়ে দেয় সম্প্রতি এতোগুলো ছাত্রজনতা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে তাদের কথা। আমার জন্মদিনেও তাদের স্মরণ করছিলাম। মুক্তির মন্দির সোপানতলে… এই গানটার কথা আমার মনে পড়ছিল। এই গানের দুটি লাইন আমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ‘যারা স্বর্গগত তারা এখনও জানে, স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি’। ‘তারা কী ফিরিবে আর?’ ২৪ এর আহত ও নিহতদের সব সময় মনে রাখা উচিত।’
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ মিলনমেলায় সঙ্গী হয়েছেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুজ্জামান রিপন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ যোগ দেন আয়োজনে। এসেছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির একদল তরুণ তুর্কি। তাদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় সংগঠক আতাউল্লাহ, সাইফুল্লাহ হায়দার ও মনিরা শারমিন।
আয়োজনে অংশ নেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ, বিএসএমএমইউর এমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম, নিজেরা কবি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নবনির্বাচিত পরিচালক মিনহাজ মান্নান।
তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মনজু ও প্রবাসী সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশাও ছিলেন অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে আলো ছড়ান জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও মারিয়া মান্দা। চিত্রনায়ক আলমগীর ও ইলিয়াস কাঞ্চন, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনও এসেছিলেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে।
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই, অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার নার্ডিয়া সিম্পসন, ফিলিপিন্সের রাষ্ট্রদূত লিও টিটো এল অসান জুনিয়রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও আয়োজনে যোগ দেন।
গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ নীতির কারণে জনগণের করের টাকার যে অপচয় হচ্ছে, সে বিষয়টি বক্তৃতায় তুলে ধরেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তিনি বলেন, ‘ফোলানো-ফাঁপানো প্রচার সংখ্যা দেখিয়ে জনগণের করের টাকাগুলো নিয়মিত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের ভেতরে থেকে আমরা যারা এসব মেনে নিচ্ছি, তারাও সেজন্য সমান দোষী।’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘গণমাধ্যম নিয়ে আরো ভালো বোঝাপড়া এবং নীতি কাঠামো প্রয়োজন। যেমন, আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক বিবেচনায়। এটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার এক জাজ্বল্যমান নমুনা।’
‘কেবল ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যেই নয়, বরং নেতৃত্বে যারা থাকেন, তাদের সামনে গঠনমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্যও বস্তুনিষ্ঠ আর স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। তা না হলে ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণ আর বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা এড়ানোর উপায় কর্তৃপক্ষের।’
২৪২ সদস্যের অর্ধেকই প্রশ্নবিদ্ধ
যেকোনো মূল্যে দেশে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪৪ ধারা জারি
৬০ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে সালমান এফ রহমানের কোম্পানি