জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় এলোমেলো অবস্থার সময় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার করতে যাচ্ছি, যতই হুমকি-ধমকি আসুক না কেন সংস্কার শেষ করবই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার করতে পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ৭০-৮০ ভাগ সংস্কার হয়ে যাবে। প্রাথমিক শিক্ষা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই দুটা জায়গায় আমাদের সংস্কার দরকার। আমরা দুটা জায়গায়তেই সংস্কার আনতে চাই।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি ইলিয়টগঞ্জ ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, সারা দেশে অধিভুক্ত কলেজের গভর্নিং বডির কাজ প্রায় শেষের পথে। এতদিন যেভাবে চলছিল আর সেভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। এর অধীনে যেসকল কলেজ রয়েছে, সেসকল কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা শুরু করা হয়েছে। প্রতিটি কলেজকে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গুড গভর্নেন্স তো বড় কথা, গভর্নেন্সরই কোনো অস্তিত্ব নেই।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, বিদেশ থেকে প্রতিবছর আমাদের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ৫০ বিলিয়ন ডলার আসে। সেটাকে আমরা এক শ বিলিয়নে নিয়ে যেতে চাই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর পাঁচ ছয় লক্ষ শিক্ষার্থী পাস করে বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আইসিটি, সফট স্কিল এবং অন্যান্য সংক্ষিপ্ত টেকনিক্যাল কোর্স বাধ্যতামূলকভাবে পড়াশোনা করাতে পারি তাহলে সেটা আমরা ১০০ বিলিয়নে নিয়ে যেতে পারব।
তিনি আরো বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশে সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য হয়েছে। সেই বৈষম্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বাদ যায়নি। সেই বৈষম্য দূর করতে দাউদকান্দিও ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজকে স্নাতক পাস কোর্সে সাময়িক অধিভুক্ত ঘোষণা করছি।
জুলাই আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে আমাদের দেখতে হয় আমাদের ছেলেদের আকাশ থেকে গুলি করে মারা হয়। আন্দেলনে আমাদের যেসমস্ত শিক্ষার্থী মারা গেছে তাদের প্রতিটি পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ আবু সাইদ ও শহীদ মুগ্ধ নামে স্মৃতিফলক এবং অডিটোরিয়াম করা হবে। যাতে আগামী প্রজন্ম মনে রাখতে পারে বাংলাদেশে দ্বিতীয় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এবং কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই ডিগ্রির মান কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটি নিয়েও আমরা কাজ শুরু করেছি।
অনুষ্ঠানে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও কলেজ অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফলিত রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম।
প্রেমিকের কান টেনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন শাহরুখকন্যা!
‘আমার কি গায়েবি জ্বিন আছে যে দেশে হামলা করে আবার সৌদিতে এসেছি?’