তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ফের হেনস্তার অভিযোগ মায়ের 

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:০৩ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আবারও হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার মা সামসুন্নাহার তাসলিমা। সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করে বলের, ‘উত্তরায় আমার নিজের বাড়িতে আমি থাকতে পারছিনা। আমাকে বের করে দিয়েছে। আমি এ বাড়ি ও বাড়ি, ভয়ে ভয়ে থাকি। যেখানেই থাকি সে খবর পেলেই সেখানে লোকজন পাঠায়।’ 

তিনি বলেন, ‘ও আগে ভালই ছিল। কিন্তু আমার বাবা মারা যাওয়ার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলো। থানা পুলিশের ভয় দেখায়, আমি তো একা থাকি আমি বাধ্য হয়েছি এখান থেকে চলে যেতে। শুধু এখানেই নয়, নীলফামারীতে আমার গ্রামের বাড়ি সেখানেও আমাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমি যেন এলাকায় যেতে না পারি সে সন্ত্রাসীদের ভয় দেখায়। আমাকে জামায়াতে ইসলামীর রোকন বানিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছে। আমি কোনোদিন জামাতের সঙ্গে ছিলাম না।’ 

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আমাকে সে ভয় দেখায়। আমি থানায় জিডি করতে গেলে আমার জিডি নেয় না। আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। গত বছর আমি তার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করার পরে আমি অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তুরিন আমার নামে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কুৎসা রটনা করে। আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছি, সে কী চায়। সে বলে আমাকে আবারও সংবাদ সম্মেলন করে বলতে হবে, গত বছর আমার মাথা খারাপ ছিল, তাই আমি উল্টাপাল্টা বলেছি, অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি তো মানসিকভাবে সুস্থ আছি। তাহলে আমি কেন মিথ্যা বলবো?’  

সামসুন্নাহার বলেন, ‘আমার থাকবার জায়গা সে জবরদখল করে আছে। তার পারিবারিক জীবনে নানা জটিলতার কারণে সে আমার কাছে থাকতে চেয়েছিল। আর সেই কি না আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দিল। ২০২৪ সালে এসেও সে বীরদর্পে আমার বাড়ি দখল করে আছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই পালিয়ে থাকি আমার কাছে লোক পাঠায় আমাকে মারতে। গত রবিবার রাতেও সে আমাকে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমি আমার বাসায় যেতে চাই। এজন্য আমি এসেছি। আমার দুটো কিডনি অকেজো।  ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছি। একদিন পর একদিন ডায়ালাইসিস চলে। দিনজাপুরে আমার বাবার বাড়ির কিছু সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসা করাচ্ছি। আমি সব সত্য বলছি। আর যে আমাকে এই পরিস্থিতি করাতে বাধ্য করেছে সেই তুরিন দিব্যি তার মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’ 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত