রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। গতকাল সোমবার বেলা ৩টা থেকে বিক্ষোভকারীরা প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে গতকাল ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ও বরিশালে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে পত্রিকাটির কপি ও অফিসের সাইনবোর্ড খুলে তাতে আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা।
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার সময় কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ ব্যক্তি প্রথম আলোর সামনে অবস্থান নেন। প্রথম আলো ভারতীয় আগ্রাসনে সহায়তা করছে এমন অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এ সময় প্রথম আলোর অফিসের দুই ভবনেরই সামনে বন্ধ করে রাখতে দেখা গেছে। ভবন দুটির সামনে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও সেনাসদস্যদের দেখা গেছে।
এ সময় আন্দোলনকারীরা জানান, তারা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম আলোর সামনে অবস্থান করবেন।
বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘আজও (সোমবার) বিক্ষোভকারীরা প্রথম আলো অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশেরও ব্যাপক সদস্য প্রথম আলো অফিসের সামনে মোতায়েন রয়েছে।’
এ বিষয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় তেজগাঁও থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। তবে আজকে (সোমবার) কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
এর আগে রবিবার সকাল থেকে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জিয়াফত, প্রথম গরু জবেহ’ কর্মসূচি পালন করেন ‘বাংলাদেশ জনগণ’ ব্যানারে কিছু মানুষ। এতে প্রথম আলো কার্যালয়ের সবাই প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের চলে যেতে বললে তাদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচ আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এর প্রতিবাদেই গতকাল দেশের অন্যান্য জায়গায়ও বিক্ষোভ হয়।
রাজশাহী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গতকাল ওলামা ও তাওহিদী জনতা, রাজশাহীর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয় রাজশাহী শহরে। পরে প্রথম আলোর রাজশাহী কার্যালয়ের সামনে যান তাওহিদী জনতা। এ সময় প্রথম আলোর রাজশাহী কার্যালয়ের সামনে লাগানো সাইনবোর্ড খুলে ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে দুপুরে তাওহিদী জনতা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে জড়ো হন। সেখানে সমাবেশে পত্রিকা দুটির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। বক্তারা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রসারের মূল হোতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে জেয়াফত অনুষ্ঠানে তাওহিদী জনতার ওপর পুলিশের হামলারও নিন্দা জানান তারা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে গতকালও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বেলা ৩টার দিকে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শতাধিক লোক। তারা এ দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মান। এর আগে গত রবিবার রাত ৮টার দিকে দুই শতাধিক লোক নগরের প্রবর্তক মোড়ে জড়ো হন। এ সময় তারা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
এদিকে গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে তারা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা পুড়িয়ে দেন। এরপর তারা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে শহীদ মিনারের পাদদেশে শেষ হয়।
