আইনজীবীকে হত্যা

থমথমে চট্টগ্রাম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে  শহরের স্পর্শকাতর এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে আইনজীবীকে হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আগামীকাল (বুধবার) আদালত বর্জনের  ঘোষণা দিয়েছে।   

এর আগে আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সাইফুল ইসলাম নামে এক আইনজীবীকে তার চেম্বার থেকে ধরে নিয়ে চিন্ময় অনুসারীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি রাত ৯টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীরা আইনজীবী সাইফুলকে তার চেম্বার থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাল বুধবার আমরা আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।’

নিহত আইনজীবীর নাম সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ (৩৫)। তিনি সহকারী সরকারি  কৌঁসুলি (এপিপি)  ছিলেন। সাইফুল লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও আটজন চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অপরদিকে জেনারেল হাসপাতালে আরও ১৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সরেজমিন নগরের আন্দরকিল্লা, লালদিঘি, নিউমার্কেট, জামাল খান, হাজারিগলি, চেরাগি, রহমতগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চিন্ময় ইস্যুতে উক্ত এলাকাগুলোয় পরিস্থিতি থমথমে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। অলিগলিতে বিচ্ছিন্নভাবে যুবকদের জটলা দেখা গেছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াতের সদস্যরা অবস্থান করছেন। নিউমার্কেট মোড়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক ছাত্রদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।  

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তখন চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে দেন। তারা এ সময় বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী চেষ্টা করেও প্রিজন ভ্যান আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে কারাগারে নিতে পারেনি। পরে বেলা পৌনে তিনটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এরপর পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। পরে চিন্ময় কৃষ্ণকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ও আইনজীবীদের সঙ্গে চিন্ময় অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী জানান, পুলিশ ও আইনজীবীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী আলিফকে বিক্ষোভকারীরা এলোপাতাড়ি  কোপান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত