এখানে কোনো বাঙালি গান করেননি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:০৮ এএম

ক্লোজ আপ খ্যাত তারকা মৌসুমী আক্তার সালমা গান গাইতে গিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনিতে। বাংলাদেশের প্রথম কোনো শিল্পী তার দল নিয়ে এই দ্বীপ রাষ্ট্রতে গাইতে গিয়েছেন এমনটাই জানালেন গায়িকা। বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের একটি আয়োজনে রয়েছে। এরই মধ্যে ৩৩ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে দেশটিতে পৌঁছেছেন। সঙ্গে তার স্বামী ও সন্তান রয়েছে।

পাপুয়া নিউ গিনি থেকে সালমা বললেন, ‘আমিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের দল নিয়ে গাইতে এলাম অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের এই দ্বীপের দেশটাতে। এর আগে বাংলাদেশের কোনো শিল্পী কেন, কোনো বাঙালি শিল্পীই এখানে গাইতে আসেননি। ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের একটি আয়োজন রয়েছে। যেখানে ৪৫০-৫০০ মানুষ থাকবেন। তাদের আয়োজনে আমি এখানে পারফর্ম করব।’

সালমা এই আয়োজন নিয়ে বেশ উত্তেজিত। কেননা এমন একটি জায়গায় গিয়েছেন যেখানে ভাষা সংস্কৃতির বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। সেই জায়গায় নিজের মাতৃভাষায় গান গাইতে পারব এটা আমার জন্য একটা অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সালমা বললেন, ‘আসলে আমার ভীষণ ভালো লাগছে, ভালো লাগার বোধ তৈরি হচ্ছে এখানে কখনো কোনো বাঙালি গান করেননি। আমি প্রথম এখানে গান করতে এসেছি। এছাড়াও এখানে থাকবেন অনেক স্থানীয়। এটা বেশ আনন্দের।’

সালমা জানালেন বাংলা গান কেন, কখনোই পাপুয়া নিউ গিনিতে বাঙালিদের কোনো প্রোগ্রাম হয়নি। তাই তিনি এটা নিয়ে বেশ আনন্দবোধ করছেন। এটাকে ইতিহাসের অংশ হওয়া মনে করছেন তিনি। ডিসেম্বরের এক তারিখে অনুষ্ঠান হলেও সালমা আগেই পৌঁছেছেন সেখানে। ঘুরে বেড়াচ্ছেন দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন অংশে। সালমা বললেন, ‘এই দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ। কারণ সাগরের মধ্যে এমন একটি দেশ, চারদিকে গভীর নীল পানি খুবই মনোমুগ্ধকর। এছাড়াও দেশটির রাজধানী শহরে আমরা পরিবারসহ ঘুরে বেড়াচ্ছি, বেশ ভালো লাগছে। আর এখন একটা উৎসবের মৌসুম চলছে। সামনে ক্রিসমাস। পাপুয়া নিউগিনির রাজধানীর পোর্ট মোর্সবেন্ডর শপিং কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে সব জায়গায় আলোকসজ্জা ও ক্রিসমাস ট্রি দেখা যাচ্ছে। মানুষের মনেও আনন্দ কাজ করছে, চারদিকে বর্ণিল সবকিছু। অন্যের আনন্দ দেখলেও আসলে আনন্দ জাগে মনে।’

এদিকে সালমা গানের পাশাপাশি মানুষের সেবাও করে থাকেন। নিজেদের একটি ফাউন্ডেশন রয়েছে। সালমা ও সাগরের প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের নাম ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন’ নিজের ফাউন্ডেশন নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে সালমা বললেন, ‘আমরা তো আসলে দুজনই। আমাদের অন্য কোনো সহায়তা নেই। ধীরে ধীরে আমার স্বামীর আয় বাড়বে, আমাদের জমানো টাকা বাড়বে। আমার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে। তখন আমরা সারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আয়ের ৭৫ শতাংশ মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যয় করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত