সম্পত্তির জন্য বাবার মরদেহ উঠানে, দাফনকাজে সন্তানদের বাধা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৬ পিএম

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবার মরদেহ দাফন না করে উঠানে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার সন্তানদের বিরুদ্ধে। এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

মৃত বৃদ্ধের নাম আবু মোতালেব (৬৫)। উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের কিশামত বীচচরণ মিস্ত্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেকিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মজনু মিয়া মধু দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৃত মোতালেব তার সম্পত্তির ভাগ মেয়েদের লিখে না দেওয়ার কারণে মেয়েরা মরদেহ আটকে দিয়েছিল। স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে রাতে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আবু মোতালেব দুইটা বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রীর নাম মতিয়া বেগম। এ ঘরে তার দুই মেয়ে রয়েছে। পরে হাজেরা বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের তার সকল সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন এবং তাদের কোনো খোঁজখবর নেননি। তিনি প্রথম স্ত্রীকে বাড়ির বাইরে রেখে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরা বেগমকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন। এলাকাবাসীর সহায়তার তার প্রথম স্ত্রী মতিয়া বেগমের দুই মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আবু মোতালেব তার দুই মেয়ের কোনো খোঁজখবর নেন না। পরে তার প্রথম স্ত্রী মতিয়া বেগম বাড়ির বাইরে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোতালেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাওয়ার পর শুক্রবার সকালে তার মরদেহ দাফনের জন্য নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তার প্রথম স্ত্রীর দুই মেয়ে এসে সম্পত্তি তাদের নামে লিখে না দেওয়ায় মরদেহ দাফনে বাধা দেন। এতে স্থানীয়রা মীমাংসার করে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত মোতালেবের শ্যালক বেলাল মুন্সি জানান, আমার দুলাভাই বেঁচে থাকতে দুইটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি তার বড় স্ত্রী মানে আমার বোনকে কিছু না দিয়ে তার ছোট স্ত্রী ও এক সন্তানকে সব সম্পত্তি লিখে দেন বলে জানতে পারি। তার প্রথম স্ত্রীর মেয়েদের সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় তার মরদেহ দাফন করতে দেয়নি। মরদেহ আটকে রাখার পর স্থানীয়রা মীমাংসা করে মরদেহ দাফন করেন।

তিনি আরও জানান, মৃত ব্যক্তির ভাইয়েরা দায়িত্ব নিয়েছেন। তার বড় স্ত্রীর দেনমোহর ও আমার দুলাভাইয়ের সম্পত্তির অংশ তার ছোট স্ত্রীর থেকে নিয়ে বড় স্ত্রীর মেয়েদের লিখে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত