মহাপরিকল্পনা করে নগরীর সব খালকে নর্দমা (ড্রেন) হিসেবে ব্যবহার করতে চায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক)। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়া মহাপরিকল্পনায় এমনটিই জানানো হয়েছে। ওই মহাপরিকল্পনার প্রথম খণ্ডের ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘Develop and use the khals as effective primary drains wherever they areavailable’ অর্থাৎ বিদ্যমান খাল যেখানে পাওয়া যাবে, তা প্রাথমিক ড্রেন হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ জলাধার সংরক্ষণ আইনে বিষয়টি দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশের সংবিধানের সঙ্গেও এমন প্রস্তাবকে সাংঘর্ষিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, শিল্প অধ্যুষিত এলাকাটির নদী, নালা, খাল, বিলসহ জলাশয়গুলো এমনিতেই দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। এর ওপর মহাপরিকল্পনা করে খালকে ড্রেন বানানো হলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে নগরীর সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য অনায়াসে খালে ছেড়ে দেবে কারখানাগুলো। এতে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
তা ছাড়া পরিকল্পনায় কৃষিজমি সংরক্ষণের কোনো প্রস্তাবনা নেই। বরং যেভাবে পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, এতে কৃষিজমির বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভাওয়াল গড়ের একটি অংশকে ‘ওভারলে জোন’ হিসেবে দেখানোকে সন্দেহজনক মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই মহাপরিকল্পনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। কিন্তু তারা কেউই নামপরিচয় প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, পরিকল্পনা খসড়াপর্যায়ে রয়েছে। যেসব মতামত আসবে, তা যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করা হবে। তবে খালকে ড্রেন হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবের বিষয়ে তারা অনড়। এ বিষয়ে তারা বলছেন, খালগুলো প্রাথমিক ড্রেন হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, খালগুলো দিয়ে যাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্যরে ব্যাপারে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পবর্জ্যগুলো শোধন হয়ে খালে এলে কোনো সমস্যা নেই।
তবে এলাকার পরিবেশসচেতন বাসিন্দারা বলছেন, এখনো ইটিপি প্ল্যান্ট বাধ্যতামূলক। বেশিরভাগ কারখানাতেই ইটিপি প্ল্যান্ট চালু আছে। এরপরও শিল্পবর্জ্য নিয়ে এলাকার মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। মহানগর এলাকার প্রায় সব খাল ও জলাশয় শিল্পবর্জ্যরে গ্রাসে বিপর্যস্ত।
গাজীপুর মহানগর এলাকার বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ড্রেন ও খাল দুটো আলাদা জিনিস। খালকে খাল হিসেবেই রাখতে হবে। আইন অনুযায়ী খালকে ড্রেন বানানোর কোনো সুযোগ নেই। খাল দিয়ে শুধু পানি যায় না, এখানে অনেক জীবন আছে, জীববৈচিত্র্য আছে। এমন উদ্ভট চিন্তা থেকে সরে না এলে গাজীপুরের জীববৈচিত্র্য আরও হুমকির মুখে পড়বে।’
আইনে যা আছে : প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এ বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ।
সরে আসার আহ্বান নগর-বিশেষজ্ঞদের : পরিকল্পনার নানা দিক বিশ্লেষণ করে মতামত দিয়েছে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই)। পর্যবেক্ষণে খাল নিয়ে এমন পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থপতিরা। তারা বলছেন, এতে খালে ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত সব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক জলাধারে বসবাসরত বিপুল মৎস্যসম্পদের ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংবিধান, ভাগ-২, ধারা ১৮(ক)’ অনুযায়ী খাল, বিল, নদীসহ সব প্রাকৃতিক জলাধারের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সব দূষণ থেকে নিরাপদ রেখে দেশের বিপুল পরিমাণ মৎস্যসম্পদের চাহিদা পূরণে এবং সেচকাজে ব্যবহার উপযোগী নিরাপদ পানির নিশ্চয়তার জন্য ড্রেন হিসেবে খালকে ব্যবহারের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে স্থলভাগের ওপরে অবস্থিত উৎস থেকে সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিতের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে স্থপতি ইনস্টিটিউটের নগরায়ণ ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা খাল নিয়ে এমন প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি। এটি করলে দেশের আইন ও সংবিধান কীভাবে লঙ্ঘন করা হবে, তা আমাদের মতামতে তুলে ধরেছি। আশা করব, পরিবেশ ধ্বংস হবে এমন উদ্যোগ থেকে সরে আসবে সিটি করপোরেশন। খালকে ড্রেন বানালে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হবে।’
একই ধরনের মত দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘খাল সব সময়ই খালই। খাল কখনোই ড্রেন না। খালকে ড্রেন বানানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা আশঙ্কা করছি, খালকে ড্রেন প্রস্তাব করে শিল্পবর্জ্য খালে ফেলার একটা বৈধ রাস্তা বের হতে পারে। ইটিপি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এখন ইটিপি কাগজের ফর্মুলা হয়ে গেছে। সবাই ইটিপি দেখায়, কিন্তু বাস্তবে শিল্পবর্জ্য শোধন ছাড়াই জলাশয়ে ছাড়ছে।’
খালের করুণ দশা : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে ছোট-বড় অন্তত ৩৫টি খাল রয়েছে। এসব খাল ঘিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চায় তারা। সম্প্রতি নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নাদী, খাল ও জলাশয়গুলোর পানি শিল্পবর্জ্যে দূষণের চূড়ায় রয়েছে। খালগুলোর পানির রং কালো কুচকুচে এবং ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি। পলিথিন, প্লাস্টিক, বাসাবাড়ির বর্জ্য, শিল্পবর্জ্যসহ নানা বর্জ্য এসে মিশছে খালের পানিতে। এক কথায় নগরীর খালগুলো বর্জ্যরে ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা শাকিল পারভেজ বলেন, ‘গাজীপুরে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেক বছর ধরে। শহরের দুটি খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়ির আবর্জনা আটকে শহরের বিভিন্ন স্থানে খালগুলো ভরাট হচ্ছে।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এলাকার তিন থেকে চারটি খাল কামারঝুড়ি ও কলমেশ্বর এলাকা থেকে বোর্ডবাজার হয়ে কুনিয়া, বড়বাড়ি, উত্তর খাইলকৈর ও দক্ষিণ খাইলকৈর দিয়ে তুরাগ নদে মিশেছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি একেক এলাকায় একেক নামে পরিচিত। এই খালকে আবার অনেকে তুরাগের শাখাও বলে থাকেন। স্থানীয়দের কাছে জায়গাভেদে মোগরখাল, হায়দারাবাদ ও বড়বাড়ি খাল হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএ দাগ অনুযায়ী খালটির জায়গা ছিল ২ একর ১৫৯ শতাংশ এবং আরএস দাগ অনুযায়ী ছিল ৪ একর ২৫৮ শতাংশ। এক সময় প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত এ খালে স্বচ্ছ পানির ধারা বইত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এখন দখল, দূষণে খালটির প্রশস্ততা অনেক জায়গায় ৫ থেকে ৭ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে।
বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই খালে সাঁতার কাটতাম। কত দৌড়ঝাঁপ করেছি, তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু এখন এই খালের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই দুর্গন্ধ আসে। এটি যে খাল নতুন কেউ এলে তা বুঝতে পারবেন না। এটি এখন বিষের পানির (শিল্পবর্জ্য) নালা।’
স্থানীয়দের কাছে চিলাই নদী হিসেবে পরিচিত (মহাপরিকল্পনায় চিলাই খাল) খালেও একই দশা। শিল্পবর্জ্য মিশে পানির রং কালো কুচকুচে হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক শিকদার বলেন, ‘এই চিলাই নদীতে একসময় দেখতাম জেলেদের নৌকায় মাছ লাফিয়ে উঠত। এখন সেই চিলাই নদীতে জেলের দেখা মেলে কালেভদ্রে।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের খসড়া মহাপরিকল্পনায় এই চিলাই খালকে নান্দনিক করে সাজানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, নান্দনিকতার আগে দূষণ বন্ধ করতে হবে। খালের স্বাভাবিক পরিবেশ না ফিরলে নান্দনিকতা কোনো কাজে আসবে না।
রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘গাজীপুরে যেসব খাল, যতটুকু বেঁচে আছে, তা শিল্পবর্জ্যরে নালা হিসেবেই বেঁচে আছে। সিটি করপোরেশনের উচিত ছিল শিল্পবর্জ্যসহ অন্যান্য বর্জ্য কীভাবে খালে না আসে সেই ব্যবস্থা করা। কিন্তু তারা মহাপরিকল্পনায় খালকে ড্রেন করার প্রস্তাব দিয়ে এলে খাল ধ্বংস করার কর্মকাণ্ডকে আরও একধাপ এগিয়ে দিচ্ছে।’
ভাওয়াল গড়ে ওভারলে জোন : দেশের অন্যতম বনাঞ্চল ভাওয়াল গড়ের একটি অংশকে এই মহাপরিকল্পনায় ‘ওভারলে জোন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওভারলে জোন মানেই হলো অবৈধ কোনো কিছুকে বৈধতা দান। ঢাকায় এমন অনেক খাসজমিকে এভাবে ওভারলে জোন দেখিয়ে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ভাওয়াল গড়ের পাশে ওভারলে জোন প্রস্তাব করাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, ওভারলে জোনের মাধ্যমে বেদখল হওয়া বনের জায়গাগুলো বৈধতা পেতে পারে। যেখানে স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনও দেওয়া হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে স্থপতি সুজাউল ইসলাম বলেন, ‘বনের জায়গা ওভারলে জোন দেখানো হলে দখলদারদের উৎসাহিত করা হবে। আমরা আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে এই কার্যক্রম থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছি।’
বাংলা উপেক্ষিত : সর্বস্তরে চালু না হলেও অফিস-আদালতসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নথিপত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের চর্চা শুরু করেছে। ঢাকার মহাপরিকল্পনাগুলো অতীতে ইংরেজিতে প্রণয়ন করলেও সর্বশেষ ‘ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান ২০১৬-২০৩৫’ বাংলায় প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নকারী সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক) বলছে, মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে এবং তাদের মতামত জানাতে পারে, সেজন্য বাংলায় ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজউকের প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ড্যাপকে জনবান্ধব করার জন্য বাংলায় প্রণয়ন করা হয়েছে।
কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশনের খসড়া মহাপরিকল্পনার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটি। এরই মধ্যে ওই মহাপরিকল্পনা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার নানা কারিগরি দিকে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা অনেক সচেতন নাগরিকই ভালো করে বুঝতে পারছেন না। তাই পরিকল্পনাটি ড্যাপের মতো বাংলায় প্রণয়নের দাবি করেছেন তারা।
এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি হাসান ইউসুফ খান বলেন, ‘মহাপরিকল্পনার একটি সভায় গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কী করতে চাচ্ছে, তা স্পষ্ট বুঝতে পারেনি। ওয়েবসাইটে যে কপি আপলোড করা আছে, তা বিশেষজ্ঞ ছাড়া বোঝা মুশকিল। পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ সাধারণ মানুষের বোঝার মতো করে বিতরণ করা হলে সবাই বুঝতে পারত। নগরবাসীর জন্য তৈরি করা পরিকল্পনা সবার বোধগম্য হওয়া উচিত। যাতে সবাই তাদের মতামত দিতে পারেন।’
মহাপরিকল্পনা কতদূর : দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এই মহাপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (ডুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে সবার মতামত নিয়ে একটি খসড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ‘ভুলে ভরা’ এই পরিকল্পনার গেজেট প্রকাশে তড়িঘড়ি করছিল তৎকালীন প্রশাসন। কিন্তু ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই উদ্যোগ অনেকটাই থমকে গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। এমন হয়ে থাকলে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে।’
আর প্রকল্প পরিচালক ও গাসিকের নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মহাপরিকল্পনাটি আমরা খসড়া আকারে ওয়েবসাইটে দিয়েছিলাম। অংশীজনদের নিয়ে বেশ কয়েকটি সভা করেছি। সেখানে কিছু সংশোধনী এসেছে। সেগুলো যুক্ত করে পরিকল্পনাটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’
