স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করায় গতকাল রবিবার কারাগার থেকে মুক্তি পাননি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন সোমবার বেলা সোয়া ৩টায় দেশ রূপান্তরকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে কারাগারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাবুল আক্তারকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন গতকাল রবিবার আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর শুনানি হবে কাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর)। শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বাবুলকে মুক্তি না দিতে আপিল বিভাগ থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাবুলকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আপিল বিভাগে বহাল থাকলেই কাল (মঙ্গলবার) তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।’
এর আগে রবিবার (১ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাবুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
সেদিন আইনজীবী শিশির মনির বলেছিলেন, বাবুল আক্তার অন্যান্য মামলায় আগেই জামিনে আছেন। স্ত্রী হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে বাধা নেই। বাবুল আক্তার তিন বছর ৭ মাস ধরে কারাগারে আছেন, এই বিবেচনায় আদালত তাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। একইসঙ্গে বাবুল আক্তারকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। এর আগে মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।
বাবুল আক্তারের সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত অপর ছয় আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া। তাদের মধ্যে বাবুল, ওয়াসিম, শাহজাহান ও আনোয়ার কারাগারে আছেন। এহতেশামুল জামিনে, কামরুল শিকদার মুসা ও খাইরুল ইসলাম কালু শুরু থেকে পলাতক।
২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি এলাকায় মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন ৬ জুন বাবুল বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই ২০২১ সালের ১২ মে এই মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। একইদিন (১২ মে) বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরের পাঁচলাইশ থানায় দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন।
সেইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে বাবুল তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। ওইদিনই মামলাটিতে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পিবিআই। সেই থেকে কারাগারে আছেন বাবুল আক্তার। বর্তমানে চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। এ মামলায় মোট ৯৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
হান্টার বাইডেনকে ক্ষমার ঘটনা, বিচারব্যবস্থার গর্ভপাত: ট্রাম্প
ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার